শান্তি প্রতিষ্ঠা ও জলবায়ু মোকাবিলার লড়াই

বিগত শতাব্দীর চল্লিশ, পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের কথা। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ ও যুক্তরাষ্ট্র-নিক্ষিপ্ত অ্যাটম বোমা বিধ্বস্ত জাপানের ছাই-ভস্মের ওপর দাঁড়িয়ে তখন মানুষ পাচ্ছে নবজীবনের স্পন্দন। মুখ্যত ব্রিটিশ ও ফরাসি এবং অন্যান্য ঔপনিবেশিক শক্তির প্রাণনাশী নাগপাশ থেকে বেরিয়ে এসে এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকার সদ্য-স্বাধীন দেশগুলো দেখছে নতুন পৃথিবীর স্বপ্ন। বিশ^শান্তি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামগ্রিক অগ্রগতি অর্জন নিশ্চিত ও ত্বরান্বিত করার মানসে গড়ে উঠেছে জাতিসংঘ, বিশ^ব্যাংক, আইএমএফ, আঙ্কটাড আরও আরও অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা। ‘চাই বল, চাই স্বাস্থ্য, আনন্দ-উজ্জ্বল পরমায়ু’ দাবির বাস্তবায়নে হলো ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন প্রতিষ্ঠা এবং আরও অনেক বহুজাতীয় উদ্যোগের আয়োজন। সামষ্টিক অগ্রগতি এবং নিরবচ্ছিন্ন শান্তির সপক্ষে তরুণের কণ্ঠে ধ্বনিত হলো বলিষ্ঠ অভিব্যক্তি

‘যখনই প্রশ্ন ওঠে যুদ্ধ না শান্তি,

আমাদের বেছে নিতে হয় নাকো ভ্রান্তি

আমরা জবাব দেই শান্তি শান্তি শান্তি

আর রক্ত নয় নয়, আর ধ্বংস নয় নয়

আর নয় মায়েদের শিশুদের কান্না

আর না আর না আর না...’

কিন্তু সেই আশা, সেই অঙ্গীকার, সেই মানবতাবোধ, সেই জীবন-উপলব্ধি, সেই পরিবেশ দীর্ঘস্থায়ী হলো না। বিভিন্ন দিকে জেগে উঠল বর্বর স্বার্থপর নর-দানব ‘নখ যাদের তীক্ষè নেকড়ের চেয়ে’ ‘গর্বে যারা অন্ধ সূর্যহারা অরণ্যের চেয়ে।’ দুর্বৃত্তের রণদামামা বেজে উঠল ভিয়েতনামে আর ফিলিস্তিনে, কাশ্মীরে, মধ্যপ্রাচ্যে। পৃথিবীর প্রতি নিবেদিত রবীন্দ্রনাথের চরণের সত্যতার অভিব্যক্তি করে ‘তোমার বক্ষের পাতাল থেকে আধ-পোষা নাগ-দানব ক্ষণে ক্ষণে উঠছে ফণা তুলে’ তার তাড়নায় তোমার আপন জীবকে করছ আঘাত, ছারখার করছ আপন সৃষ্টিকে; সংকীর্ণ আগ্রাসী, বর্ণবাদী ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদ, উগ্র সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতা, পাশব শক্তির দম্ভ, নগ্ন করল আপন নির্লজ্জ অমানুষতা। ভিয়েতনামে দানবীয় দাপট পরাভূত হলো বটে, কিন্তু ফিলিস্তিন, সিরিয়া, ইয়েমেন, আফগানিস্তান, মিয়ানমার, কাশ্মীরে তাদের অশুভ শক্তির তান্ডব ও মানবতাহীনতা পরিব্যাপ্তি হলো। মানবাধিকার হলো ভূলুণ্ঠিত। আন্তর্জাতিক আইন, নীতিবোধ, সংবিধান, গৃহীত সমঝোতা ও সিদ্ধান্ত সব ফুঁৎকারে হাওয়ায় উড়িয়ে দিয়ে বলদর্পীর নিষ্ঠুর পদচারণা পৃথিবীর ইতিহাসে সংযোজিত করল এক কলঙ্কিত অধ্যায়। কিন্তু এতসবের মাঝেও মানুষ আশা পরিত্যাগ করতে চায় না, আকাক্সক্ষাকে সজীবিত রাখতে চায়, প্রচেষ্টাকে করতে চায় সুফলপ্রসূ। এই অদম্য স্পৃহার প্রতিফলন দেখি বিশ^শান্তি দিবস উদযাপনে, জাতিসংঘ সার্বজনীন স্বাস্থ্য-সুরক্ষা ঘোষণা প্রতিপালনে, সাংঘর্ষিক সমস্যা সমাধানে বহুমাত্রিক প্রচেষ্টার উদ্ভাবনে।

বিশ^শান্তি দিবস উদযাপিত হলো সম্প্রতি একুশে সেপ্টেম্বর। এদিন বিশ্বশান্তির সংস্কৃতি স্থাপনের জন্য সর্বসম্মতিক্রমে জাতিসংঘে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় দুই যুগ আগে। এবারও এ দিনটিতে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে সভা-শোভাযাত্রা হয়েছে, তবে খুব নিচু ও হালকা পর্যায়ে। জাতিসংঘেও দেওয়া হয়েছে ভাষণ। কিন্তু বিশ্বশান্তি স্থাপনে তো প্রয়োজন শান্তি-বিঘ্নকারী বা সম্ভাব্য সাংঘর্ষিক বিষয় নিয়ে আলোচনাভিত্তিক সমাধান খুঁজে পাওয়া। কিন্তু সেটাই তো হচ্ছে না। শুধু শুধু কথা বলায় তো কোনো লাভ হচ্ছে না। ফিলিস্তিনে আগ্রাসী ইসরায়েলিরা শান্তি-সমঝোতা স্থাপনের চেষ্টা তো বহু দূরের কথা, তারা পশ্চিম দিকের একটি বড় অংশ অন্যায়ভাবে জোর করে তাদের দেশে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহ দমনে আমেরিকা, সৌদি আরব ও তাদের মিত্রদের প্রচেষ্টা রক্তক্ষরণ বাড়িয়েই চলেছে। সিরিয়ানদের বা সিরীয় সরকারের মতামতের তোয়াক্কা না করে যুদ্ধবাজ বা সেখানে আপন স্বার্থ উদ্ধারের নিষ্ঠুর খেলায় মত্ত।

রাখাইন বা আরাকানে নৃশংস মিয়ানমার সরকার একটি জঘন্যতম ‘জেনোসাইড’-এর পরেও অন্যায়ভাবে বহিষ্কৃত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনের পথ মোটেই সুগম করছে না। অবশ্য সেখানে প্রতিবেশী শক্তিশালী দেশের মধ্যে একমাত্র চীনই এগিয়ে এসে বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন সমন্বিত একটি যৌথ প্রয়াসভিত্তিক সমাধানের সন্ধানে রয়েছে। আফগানিস্তানে কোনো বাস্তবভিত্তিক প্রক্রিয়ায় শান্তি স্থাপনের পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র নিচ্ছে বলে মনে হয় না। এর মধ্যে ভারতের আসাম রাজ্যে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি প্রণয়ন করে ১৯ লাখ ভারতীয়কে বহিরাগত ঘোষণা দিয়ে তাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ৬ লাখ বাংলাভাষী মুসলমান নাগরিক। একটি চরমভাবে সাম্প্রদায়িক আইন প্রণয়ন করে ১২-১৩ লাখ অমুসলমানকে (ধর্মের ভিত্তিতে) ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। যদিও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন নাগরিক পঞ্জি প্রণয়ন এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার (এবং আমরাও তাতে বিশ^াস ও আস্থা স্থাপন করেছি), সরকারের অত্যন্ত উচ্চপদস্থ একাধিক শক্তিধর, যার মধ্যে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ অন্য ধরনের হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। তারা বলছেন, পঞ্জিবহির্ভূত এই বাংলাভাষীরা অনুপ্রবেশকারী, তারা উইপোকার মতো এবং তাদের ফিরিয়ে দেওয়া অবশ্যই হবে, কোথায়? অবশ্যই তারা বাংলাদেশের কথা বলছেন। বিকল্প হিসেবে বঙ্গোপসাগরে এদের চুবিয়ে মেরে ফেলার মতো বর্বরোচিত কাজ করতে তারা দ্বিধা করবেন না বলে জানিয়েছেন। তা যদি হয় তাহলে তো এটা গভীর উদ্বেগের ব্যাপার হবে। আমরা অবশ্য এখনো আশা করি দ্বিপক্ষীয় গাঢ় বন্ধুত্বের প্রেক্ষাপটে ভারত সমস্যাটিকে দ্বিপক্ষীয় রেখে তাদের সম্ভাব্য মানবিক ও নাগরিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার ব্যবস্থা করবে।

তবে এইসব ঘটনা ও প্রচারণার জন্য ভারতে উগ্র সাম্প্রদায়িকতার সৃষ্টি হয়েছে, সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ও হিংসা উজ্জীবিত হয়েছে। যথেষ্ট অত্যাচার ও নিপীড়নের খবরও পাওয়া যাচ্ছে। ‘আমাদের নতুন সময়’ পত্রিকার ২৩ সেপ্টেম্বর সংখ্যায় দেখলাম রিপোর্টÑ ‘আসামে পুলিশ স্টেশনে তিন মুসলিম তরুণীকে রাতভর নির্যাতন, গর্ভপাত ঘটেছে অন্তঃসত্ত্বা এক নারীর। গুয়াহাটির ৬ মাইলের কাছের বাসিন্দা মিনুয়ারা বেগম, সামুয়ারা বেগম এবং রুমেলা বেগম এই তিন আপন বোনকে সম্পূর্ণ নগ্ন করে দরং জেলার একটি থানার ওসি মহেন্দ্র শর্মা রাতভর অত্যাচার করেন, নির্মমভাবে। ভারতীয় পত্র-পত্রিকায়ও এ খবর প্রকাশিত হয়েছে। এ ধরনের আরও অনেক ঘটনা ঘটছে, কোথাও কোথাও ‘গো-রক্ষা’র খামোখা অজুহাতে। ভারতের অন্যান্য রাজ্যেও বিজেপি সরকার এ জাতীয় নাগরিক পঞ্জি প্রণয়ন করবে বলে হুমকি দিয়েছে। এসব অগ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়া ও ঘটনা অবশ্যই শান্তির ব্যাঘাত জন্মাবে। বৈশি^ক বা আঞ্চলিক শান্তি-স্থাপন করতে হলে এ ধরনের কুকা- শুরু থেকেই সরকার ও জনগণকে পরিহার এবং তাদের মূলোৎপাটন করতে হবে।

কাশ্মীরও একটি টাইম-বোম। ভারতীয় সরকার সেখানে আকস্মিকভাবে সংবিধান পরিবর্তন করে কাশ্মীরের স্বীকৃত অবস্থানের একতরফা চ্যুতি ঘটিয়ে একটি বিস্ফোরক অবস্থার সৃষ্টি করেছে। সব রাজনৈতিক নেতাকে অবরুদ্ধ করে, জনগণের মতপ্রকাশের সব অধিকার বন্ধ করে, মানুষের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে যে অবস্থার সৃষ্টি করেছে তা কিছুতেই গ্রহণযোগ্য নয়। জনগণের মতানুসারেই তাদের ভাগ্য নির্ধারণ করা উচিত। অন্যথা নয়। এই সমস্যা সমাধানকল্পে জাতিসংঘেরও সিদ্ধান্ত রয়েছে। সম্প্রতি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং সমস্যা সমাধানে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছেন। বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ এই জটিল ও অগ্নিগর্ভা সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান আশা করে। পৃথিবীর আরও কয়েকটি স্থানে এ ধরনের শান্তি বিঘœকারী সমস্যা রয়েছে এবং দুর্ভাগ্যবশত কতিপয় যুদ্ধংদেহি উগ্র শক্তি সেগুলো জিইয়ে রেখেছে। এসবের বিরুদ্ধে পৃথিবীর জনগণ ও শান্তিকামী দেশগুলোকে সোচ্চার হতে হবে।

মানুষ শুধু যে শান্তিতে বসবাস করতে চায়, তা নয়; মানুষ চায় স্বাস্থ্য, বল, চিকিৎসাসেবা ও সুস্বাস্থ্য নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার। ৭৪তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সমাবেশে এবার এ ব্যাপারে অতীব গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং সঙ্গতভাবেই। ‘সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা’ এবারের অধিবেশনের একটি মুখ্য বিষয়। জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৩ সালের মধ্যে আরও ১০০ কোটি মানুষকে স্বাস্থ্যসেবার অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবার আচ্ছাদন পাবে সারা বিশ^। পৃথিবীর সব দেশই এই প্রস্তাবে সায় দিয়েছে এবং উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার করেছে অঙ্গীকার, চিকিৎসা কিংবা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকে ব্যয়বহুল না করে স্বাস্থ্যরক্ষার ব্যবস্থাকে সর্বজনগ্রাহ্য করে তুলতে হবে। জাতিসংঘের হচ্ছে এই সিদ্ধান্ত। ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনের জন্য এটি একটি অপরিহার্য অঙ্গ।

আনন্দের কথা, বাংলাদেশ এ ব্যাপারে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে প্রতিভাত হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবায় তুলনামূলকভাবে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে তা অনস্বীকার্য। কোনো কোনো বিষয়ে আমরা বিশ্বসেরা। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে সার্থক ও সফল টিকাদান কর্মসূচি সম্পন্ন করার অসামান্য সাফল্য অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ মর্যাদাপূর্ণ ‘ভ্যাকসিন হিরো’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। জিএভিআই বোর্ড সভাপতি ড. এনগোজি ইবিলার কাছ থেকে এ পুরস্কার গ্রহণ করে তা বাংলাদেশের জনগণের জন্য উৎসর্গ করেন প্রধানমন্ত্রী। পুরস্কার গ্রহণকালে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে যথার্থই বলেন, ‘একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সুস্বাস্থ্যের অধিকারী প্রজন্মের অত্যন্ত প্রয়োজন। এই নতুন প্রজন্মই পারে জাতির পিতার স্বপ্নের উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা বিনির্মাণ করতে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশ থেকে পোলিও, কলেরাসহ বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধি দূর করা হচ্ছে।’ এ প্রসঙ্গে তিনি রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ অনুযায়ী সবার জন্য মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা ও পরিপূর্ণ পুষ্টি নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। অবশ্য এটি খুবই আশাব্যঞ্জক উদ্যোগ।

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে এবং দুর্যোগের মোকাবিলা করার জন্য সারা বিশ^ আজ সচেতন। এটা বলা হচ্ছে। তবে এ ব্যাপারে বিশে^র ভাগ্য নিয়ামক পরাশক্তির কর্ণধাররা কতটুকু আন্তরিক তা নিয়ে নাটকীয়ভাবে প্রশ্ন তুলে সুইডেনের সাহসী কিশোরী গ্রেটা থানবার্গ আজ বিশ^নন্দিত। বস্তুতপক্ষে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো কেউ কেউ আছেন, যারা এই সমস্যার গুরুত্ব অনুধাবন না করতে পেরে বিশ্বকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে চাচ্ছেন। যথাযোগ্য কার্বন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলে পৃথিবী বাসযোগ্য থাকবে নাÑ এ সত্য আজ পরিদৃশ্যমান। জাতিসংঘের চলমান এই অধিবেশনেও এই বিষয়টি গুরুত্বসহকারে আলোচিত হচ্ছে। বৈশ্বিক উষ্ণতা যে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, তা অনস্বীকার্য। পৃথিবীর শিল্পোন্নত দেশগুলোর অবিমৃষ্যকারিতার কুফল ভোগ করতে হবে অপেক্ষাকৃত দরিদ্র ও সম্পদহীন দেশের। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে চাই অর্থায়ন। বিশ^কে এখন এগিয়ে আসতে হবে মুক্ত হস্তে।

সন্তুষ্টির কথা, বাংলাদেশ এ ব্যাপারে খুবই সচেতন। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অবস্থার মোকাবিলা করতে বাংলাদেশ যে শুধু উদ্যোগ নিয়েছে তা নয়, বিশ্ব-মঞ্চে বাংলাদেশ এ ব্যাপারে একটি অতীব অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। এটা বলা হচ্ছে যে, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অবস্থার মোকাবিলা করা বর্তমান বিশ্বের সর্ববৃহৎ যুদ্ধ। এই যুদ্ধে জয়ী হতে না পারলে অস্তিত্ব-সংকটের প্রশ্ন। আমরা আশা করি বাংলাদেশ এ ব্যাপারে এ যাবৎ যে নেতৃত্ব দিচ্ছে তা অক্ষুণ্ণ রেখে সংগ্রামের সার্থকতা অর্জনে অগ্রসরমান থাকবে।

লেখক

সাবেক সচিব ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ