সরকার দুর্নীতিবাজদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তিনি বলেছেন, ‘সরকার দুর্নীতিবাজদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। প্রতিটি ক্ষেত্রে সরকারের পতন ঘটেছে। এই পতনের কারণ হলো দেশে কোনো জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার নেই।’
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অ্যাগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (অ্যাব) মানববন্ধনের আয়োজন করে।
তিনি বলেন, ‘অবিলম্বে সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। পদত্যাগ করে দেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দিন।’
মওদুদ আহমদ বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংবিধানসম্মত হয়নি। সে জন্য আমাদের দেশে আজ একটি জবাবদিহিহীন সরকার বিরাজ করছে। এই সরকার কিছুই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। গত দুই সপ্তাহে তার প্রমাণ জনগণ পেয়েছে।’
তিনি বলেন, ছাত্রলীগে শোভন-রাব্বানী সভাপতি-সেক্রেটারি হয়ে যে দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়েছিলেন, তা শুধু শোভন-রাব্বানী নন, এই দলের মধ্যে অনেক শোভন-রাব্বানী রয়েছেন। একজন ছাত্রনেতা ৮৬ কোটি টাকা দুর্নীতি করতে পারেÑ এটা আমি কল্পনাও করতে পারি না। ছাত্রনেতা এত টাকা চাঁদাবাজি করবে এটা তো কল্পনার বাইরে।’
মওদুদ বলেন, ‘দুর্নীতি বাংলাদেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। নিজেদের দলের মধ্যে তো আছেই এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১ উপাচার্য দুর্নীতিতে অভিযুক্ত। ১১টি পাবলিক ইউনিভার্সিটির মধ্যে তিনজন উপাচার্যের কুশপুত্তলিকা পোড়ানো হয়েছে। উপাচার্য একজন সম্মানিত ব্যক্তি কিন্তু তারাও আজ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়ে গেছেন।’
সংগঠনের সভাপতি হারুনুর রশিদের সভাপতিত্বে এবং বিএনপির সহপ্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীমের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, কৃষিবিষয়ক সম্পাদক ওমর ফারুক, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি শামসুল আলম তোফা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ড. কাজী মনিরুজ্জামান মনির প্রমুখ।