তারল্যের অভাবে টানা চার সপ্তাহ অন্ধকারে থাকার পর আলোর মুখ দেখতে পেয়েছে স্টক এক্সচেঞ্জের সব ধরনের মূল্যসূচক। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে ব্যাংকগুলোকে ঋণ দেওয়ার বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষণায় গত সপ্তাহে বেশিরভাগ শেয়ারের দরবৃদ্ধিতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এছাড়া পাওনা আদায়কে কেন্দ্র করে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে গ্রামীণফোনের সমঝোতার সংবাদও পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রভাব রেখেছে। তারপরও ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক এখনো ৫ হাজার পয়েন্টের নিচে অবস্থান করছে।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে কেনাবেচা হওয়া প্রায় ৭১ শতাংশ সিকিউরিটিজের দরবৃদ্ধিতে প্রধান মূল্যসূচক বেড়েছে ১১২ পয়েন্ট। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ৬ শতাংশ সুদে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ প্রদানের ঘোষণায় গত সপ্তাহের প্রথম দুই কার্যদিবসে সূচকে উল্লম্ফন দেখা দেয়। দুই দিনে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ১৪৪ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার পয়েন্টে উন্নীত হয়। তবে পরবর্তী দুই দিন বিক্রিচাপে পড়ে সূচক আবারও নিচে নেমে আসে। শেষ দিন সামান্য বাড়লেও সূচকটি ৪৯৬৮ পয়েন্টে স্থির হয়।
পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও তারল্য সংকটের কারণে টানা চার সপ্তাহ সূচকের পতন দেখা যায়। সূচকটি ৩৩ মাস আগের অবস্থানে ফিরে যায়। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে গত সপ্তাহের শুরু থেকেই তেজিভাব দেখা যায়। এর ফলে সূচকে প্রভাব বিস্তারকারী কোম্পানিগুলোর দর বাড়তে থাকে। গত সপ্তাহে সূচক বাড়াতে অগ্রণী ভূমিকায় ছিল ব্যাংক, এনবিএফআই, টেলিযোগাযোগ ও বীমা খাত।
গত সপ্তাহে বাজার মূলধনে শীর্ষে থাকা কোম্পানি গ্রামীণফোনের দর বাড়ে ৭ দশমিক ২ শতাংশ, যা একক কোম্পানি হিসেবে সূচক বাড়াতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে। গত সপ্তাহে গ্রামীণফোনের বাজার মূলধন বেড়েছে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এছাড়া খাতওয়ারি হিসাবে ব্যাংক খাতের প্রভাব ছিল উল্লেখ করার মতো। গত সপ্তাহে ব্যাংক খাতের বাজার মূলধন বেড়েছে ২ দশমিক ৬ শতাংশ। এ সময় প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার বাজার মূলধন বেড়েছে এ খাতের। বেশিরভাগ শেয়ারের দর বাড়ায় ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি চাঙ্গা ছিল সাধারণ বীমা খাত। ব্যবসা বাড়ার সম্ভাবনায় গত সপ্তাহে এ খাতটির শেয়ার দর সাড়ে ৮ শতাংশ বেড়েছে। চলতি বছর সবচেয়ে বেশি রিটার্ন এসেছে এ খাতটি থেকে। চলতি বছর এ খাতটি থেকে বিনিয়োগকারীরা ৩৪ শতাংশের বেশি মূলধনী মুনাফা পেয়েছেন। গত সপ্তাহে সিরামিক খাতেও চাঙ্গাভাব দেখা গেছে। কারসাজির প্রমাণ সত্ত্বেও গত সপ্তাহে সিরামিক খাতের বাজার মূলধন বেড়েছে প্রায় ৮ শতাংশ। এছাড়া মিউচুয়াল ফান্ড, খাদ্য, এনবিএফআই, ফার্মাসিউটিক্যালস ও প্রকৌশল খাতের দর বেড়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। বিপরীতে ট্যানারি, কাগজ, জীবন বীমা ও জ¦ালানি খাত দর হারিয়েছে।
পুঁজিবাজারে লেনদেনে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ না বাড়লেও ব্যক্তি বিনিয়োগকারীরা কেনাবেচায় হিস্যা বাড়িয়েছেন। এতে গত সপ্তাহে লেনদেন সামান্য বেড়েছে। গত সপ্তাহে ডিএসইতে দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে ৩৯১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ৩ দশমিক ১৬ শতাংশ বেশি। লেনদেনে সবচেয়ে বেশি অবদান ছিল সাধারণ বীমা খাতের। গত সপ্তাহে গড়ে ৫৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে এ খাতে। প্রায় একই পরিমাণের লেনদেন হয়েছে প্রকৌশল খাতে। এছাড়া লেনদেন বেড়েছে ব্যাংক, এনবিএফআই ও টেলিযোগাযোগ খাতে।
একক কোম্পানি হিসেবে গত সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে সোনারবাংলা ইন্স্যুরেন্সের। এ সময় শেয়ারটির দর বেড়েছে ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ। দরবৃদ্ধির পরবর্তী তালিকায় রয়েছে মুন্নু সিরামিকস। কারসাজির অভিযোগে এ কোম্পানির উল্লেখযোগ্য শেয়ারের অধিকারী মুন্নু ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন থাকার পরও গত সপ্তাহে এর শেয়ার দর বেড়েছে ২৫ শতাংশ। এছাড়া স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক, ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স, পিপলস ইন্স্যুরেন্স, ন্যাশনাল পলিমার ও অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর বেড়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে।