দাম্পত্য কলহের জের

থানা থেকে বেরিয়ে গায়ে আগুন দিলেন কলেজছাত্রী

রাজশাহীতে দাম্পত্য কলহের জেরে স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করতে যাওয়ার পর এক কলেজছাত্রী গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। তার নাম লিজা রহমান (২০)। গতকাল শনিবার দুপুরে নগরীর শাহমখদুম থানার পাশে রাজশাহী মহিলা টিটিসির সামনে এ ঘটনা ঘটে।

আত্মহনন চেষ্টার পর আশপাশের লোকজন লিজাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করে। আগুনে তার শরীরের সামনের দিকে কোমরের ওপর থেকে মুখম-ল, শ্বাসনালিসহ প্রায় ৪০ শতাংশ পুড়ে গেছে বলে হাসপাতালটির চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। গুরুতর দগ্ধ লিজাকে বিকেলে পুলিশের তত্ত্বাবধানে ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারিতে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে।

 

লিজার বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে। পড়তেন রাজশাহী মহিলা কলেজে, এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষে। তার স্বামী সাখাওয়াত হোসেনের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে। এই দম্পতি নগরীর পবা থানার নতুনপাড়া এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতেন বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা দেশ রূপান্তরকে জানায়, দুপুর অড়াইটার দিকে লিজা রাস্তার পাশে প্রকাশ্যে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেন। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

থানায় অভিযোগ দিতে গিয়ে কী কারণে লিজা সেখান থেকে বেরিয়ে গায়ে আগুন দিলেন তা জানতে চাইলে শাহ মখদুম থানার ওসি মাসুদ রানা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে সেই ছাত্রী থানায় অভিযোগ করতে আসেনি। তিনি ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে অভিাযোগ করতে গিয়ে নাম লিখিয়ে চলে যান।’

তবে রাজশাহী মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, লিজা প্রথমে থানায় গিয়ে তার স্বামীর সঙ্গে বনিবনা হচ্ছে না বলে জানান। সেখানে তিনি তার স্বামীর সঙ্গে সমঝোতার কথাও বলেন। পরে ওসি তাকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে অভিযোগ করতে বলেন। তখন ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে গিয়ে কথা বলেন লিজা। সেখানে ঘটনা বলার পর ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের পক্ষ থেকে তার কাছে জানতে চাওয়া হয় যে তিনি তার স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করবেন কি না। এ সময় লিজা বাইরে থেকে আসছি বলে সেখান থেকে বেরিয়ে যান। এর পরই তিনি থানা থেকে কিছুটা দূরে গিয়ে কেরোসিন কিনে গায়ে ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান ডা. আফরোজা নাজনীন দেশ রূপান্তরকে বলেন, আগুনে লিজার শরীরের সামনের দিকে কোমরের ওপর থেকে মুখম-ল, শ্বাসনালিসহ প্রায় ৪০ শতাংশ পুড়ে গেছে। যেহেতু শ্বাসনালি পুড়ে গেছে তাই তিনি ঝুঁকির মুখে রয়েছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।