ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গতকাল শনিবার ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিরাজুল ইসলাম (৩০) নামের একজন মারা গেছেন। এ নিয়ে ফরিদপুর মেডিকেলে চলতি বছর ১০ জন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এদিকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানী ঢাকায় ডেঙ্গু রোগী ২০ জন বেড়েছে।
আমাদের ফরিদপুর প্রতিনিধি জানিয়েছন, ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া সিরাজুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি জেলার সালথা উপজেলার নরানদিয়া গ্রামে। সিরাজ মাদারীপুরের শিবচরে বসবাস করতেন। স্থানীয় একটি বাজারে ফল বিক্রি করতেন তিনি।
চলতি বছর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে ডেঙ্গু সন্দেহে ২৩১টি মৃত্যুর তথ্য এসেছে। এদের মধ্যে অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) ১৩৬টি মৃত্যু পর্যালোচনা করে ডেঙ্গুতে ৮১ জনের মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সারা দেশে ৩৬০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে ঢাকা শহরে ১০২ জন এবং ঢাকার বাইরে ২৫৮ জন। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৩৬০ জন। এদের মধ্যে ঢাকায় ৮২ জন এবং ঢাকার বাইরে ২৭৮ জন। নতুন আক্রান্তের তিন ভাগের প্রায় দুই ভাগই খুলনা বিভাগে আর ঢাকার বাইরের হিসেবে প্রায় অর্ধেক। ২৪ ঘণ্টায় খুলনায় মোট আক্রান্ত হয়েছে ১০৭ জন। বিভাগে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত যশোরে ৩৫ জন। এ ছাড়া ঢাকার মানিকগঞ্জে ২৪ জন ভর্তি হয়েছেন।
এ বছর গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত সারা দেশে ৮৭ হাজার ২৬৩ জন ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে ঢাকা শহরে ভর্তি হয়েছেন ৪৬ হাজার ৮৪৯ জন আর ঢাকা শহরের বাইরে ৪০ হাজার ৪১৪ জন। মোট আক্রান্তের মধ্যে ৮৫ হাজার ৩২৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। আর হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ১ হাজার ৭০৯ জন। এদের মধ্যে ঢাকা শহরে ৬২৯ জন আর ঢাকার বাইরে ১ হাজার ৮০ জন।
রাজধানীতে নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা মেডিকেলে ৩০ জন, মিটফোর্ড হাসপাতালে ৬ জন, শিশু হাসপাতালে ৪ জন, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ৮ জন, বিএসএমএমইউতে ৭ জন, মুগদা মেডিকেলে ৭ জন, কুর্মিটোলা হাসপাতালে ১১ জন ভর্তি হয়েছেন। ঢাকার বাইরে আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৬৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩১ জন, খুলনা বিভাগে ১০৭ জন, রংপুর বিভাগে ৮ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৬ জন, বরিশাল বিভাগে ৩০ জন, সিলেট বিভাগে ১ জন ও ময়মনসিংহ বিভাগে ২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।