আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ১১ বছরে সারের দাম এক টাকাও বাড়েনি বলে দাবি করেছেন কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক। গতকাল রবিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ১৪তম সিটি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘বিএনপি সরকারের সময় সারের যে দাম ছিল তার চেয়ে অনেক কম দামে দিচ্ছি আমরা। ৭২ টাকার সার ২২ টাকায়, ৯০ টাকার ডিএপি সার ২৫ টাকায়, পটাশিয়াম ৬০ টাকারটা ১৫ টাকায় দিয়েছি। সারের দাম আমরা আরও কমানোর চিন্তা করছি।’
কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চিন্তা করেছি ডিএপি সারের দাম আরও কমানোর। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব কেজিতে ৯ টাকা কমানোর প্রস্তাব করেছিলেন। আমি বলেছি ৫ টাকা কমানোর। ডিএপির দাম ২৫ থেকে ২০ টাকা করার একটি প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে।’ তিনি বলেন, ‘দিন দিন কৃষিশ্রমিকের সংকট তৈরি হচ্ছে; বিশেষ করে ধান কাটা ও রোপণের সময় শ্রমিকের খুব সংকট তৈরি হয়। শ্রমিক সংকট তৈরি হওয়ার কারণে আমরাও কৃষির যান্ত্রিকীকরণের দিকে যাচ্ছি।’ সরকার কৃষকদের যন্ত্রপাতি কেনার সুযোগ করে দিচ্ছে জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কৃষকদের কৃষি যন্ত্রপাতি দেব। সেটা ধান কাটার বা ধান লাগানোর মেশিন। আগে যেটা ৫০ শতাংশ ছিল, এখন ৬০ শতাংশ সরকার দেবে। উপকূলীয় ও হাওর এলাকায় আমরা ৭০ শতাংশ দেব। অর্থাৎ কোনো কৃষি যন্ত্রপাতির দাম ১০ লাখ টাকা হলে সরকার দেবে ৭ লাখ টাকা, বাকি ৩ লাখ দেবেন কৃষক।’
অনুষ্ঠানে মোট ৫টি ক্যাটাগরিতে ৯ জন ব্যক্তি ও ৩টি প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার প্রদান করা হয়। উদ্যোক্তা তৈরির জন্য ক্ষুদ্রঋণের সুদের হার কমানো উচিত মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, উদ্যোক্তা তৈরি হলে বিনিয়োগ বাড়বে, যা দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে। ক্ষুদ্রঋণের সুদের হার কমাতে হবে। বাংলাদেশ আজ যে অবস্থানে এসেছে তার জন্য এ রকম উদ্যোক্তাদের ভূমিকা রয়েছে।
ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীদের দুর্বৃত্তায়ন ছেড়ে উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আবদুর রাজ্জাক বলেন, রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়ন শুরু হয়েছে।