পাবনার চাটমোহর থেকে গত মঙ্গলবার রাতে বাউলশিল্পী সুভাষ রোজারিও (৪০) নিখোঁজ হন। এরপর পরিবার চাটমোহর থানায় তাকে অপহরণের অভিযোগ এনে জিডি করে। তবে দুই থানার ঠেলাঠেলিতে পাঁচ দিন পার হলেও এ ঘটনায় মামলা হয়নি। ফলে সুভাষ রোজারিওকে উদ্ধারে কোনো তৎপরতা নেই বলে অভিযোগ করেছে
পরিবার।
সুভাষের ভাই লুইস রোজারিও জানান, পাঁচ দিনেও সুভাষের কোনো খোঁজ না পাওয়ায় আমরা হতাশ। তার মুঠোফোন ও একাধিক অপরিচিত নম্বর থেকে মুক্তিপণ চাওয়া হলেও পুলিশ কিছুই করতে পারছে না। সীমানা জটিলতার কথা বলে মামলা নিচ্ছে না চাটমোটর ও বড়াইগ্রাম থানা। তিনি জানান, গত শনিবার সন্ধ্যায় সুভাষকে পাওয়া গেছে জানিয়ে দিনাজপুর রেলওয়ে পুলিশের এসআই রিপন বড়–য়ার সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাটমোহর থানার ওসি শেখ মো. নাসিরউদ্দিন একটি নম্বর দেন। পরে এসআই রিপন জানান, সুভাষকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। টাকা প্রয়োজন। বিকাশের মাধ্যমে টাকা দিয়ে, সেখানে গিয়ে কাউকেই পাওয়া যায়নি।
মামলা নিতে ঠেলাঠেলির বিষয়ে চাটমোহর থানার ওসি শেখ মো. নাসিরউদ্দিন বলেন, ‘ঘটনাটি আমার থানা এলাকায় নয়। এজন্য বড়াইগ্রাম থানায় মামলাটি করার জন্য তাদের পরামর্শ দিয়েছি।’ তবে বড়াইগ্রাম থানার ওসি দিলীপ কুমার দাস বলেন, ‘যে এলাকায় ঘটনা, সেখানেই মামলা হবে। পাবনা পুলিশ সুপারের কাছে বিষয়টি জানাব।’ পাবনার পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বেচ্ছায় বাউল জীবনে বেছে নেওয়া সুভাষ রোজারিও নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার জোনাইল চামটা গ্রামের বোর্নি সম্প্রদায়ের লুকাস রোজারিওর ছেলে। বন্ধু, সহপাঠী ও স্থানীয় খ্রিস্টান সম্প্রদায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সুভাষকে অক্ষত অবস্থায় ফেরতের দাবি জানিয়েছেন।