বিনামূল্যে কৃমির ওষুধ খাওয়ানো হচ্ছে শিশুদের

দেশের ৫-১৪ বছরের শিশুদের মধ্যে কৃমি সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৩২ শতাংশ। এছাড়া শূন্য থেকে ৪ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে আক্রান্তের হার ৭ শতাংশ, ১৫-২৪ বছর বয়সীদের মধ্যে এই হার ১৫ শতাংশ, ২৫-৪৪ বছর বয়সীদের মধ্যে এই হার ৭ শতাংশ এবং ৪৫-৫৪ বছর বয়সীদের মধ্যে এই হার ৫ শতাংশ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা এ তথ্য জানান। এসব শিশুকে বিনামূল্যে কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়াতে গতকাল

মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে জাতীয় কৃমিনাশক সপ্তাহ। চলবে আগামী ৭ অক্টোবর পর্যন্ত। এ সময় দেশের প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫ থেকে ১১ বছর বয়সী এবং মাধ্যমিক পর্যায়ের ১২ থেকে ১৬ বছর বয়সী সব শিশুকে এক ডোজ করে কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়ানো হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা এ কার্যক্রম তদারকি করছে।

অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবার ২৩তম জাতীয় কৃমি নিয়ন্ত্রণ সপ্তাহ পালিত হচ্ছে। এ সময় দেশের ১ লাখ ২০ হাজার প্রাথমিক ও ৩৩ হাজার মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৪ কোটি শিশুকে কৃমি নিয়ন্ত্রণ ওষুধ খাওয়ানো হবে।

অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা বলেন, যাদের পেটে কৃমি বেশি, ওষুধ খেলে তাদের বমি বমি ভাব হতে পারে। এছাড়া পেট ও মাথা ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে এগুলো বড় ধরনের কোনো সমস্যা নয়। এসব উপসর্গ দীর্ঘ সময় থাকে না।

একই সঙ্গে এই বিশেষজ্ঞ খালি পেটে কৃমিনাশক ওষুধ না খাওয়া, ওষুধ খাওয়ার পর বেশিক্ষণ রোদে না থাকা, পিটি বা প্যারেড না করার পরামর্শ দেন।

এই বিশেষজ্ঞ বলেন, কৃমি মানুষের পেটে পরজীবী হিসেবে বাস করে এবং খাবারের পুষ্টি খেয়ে ফেলে। যার কারণে শিশুরাই বেশিরভাগ পুষ্টিহীনতায় ভোগে। কৃমি মানুষের অন্ত্র থেকে রক্ত শোষণ করে। ফলে শিশুরা রক্তশূন্যতায় ভোগে। বদহজম, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্ট সৃষ্টি করে। এমনকি শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধির ব্যাঘাত ঘটায়। কৃমির অতিশয় সংক্রমণ মৃত্যুর কারণও হতে পারে।