জাবি ভিসিকে ‘লাল কার্ড’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের পদত্যাগ দাবিতে লাল কার্ড প্রদর্শন করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে আজ ও কাল সর্বাত্মক ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন তারা।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে শহীদ মিনারের পাদদেশে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

তাদের কর্মসূচির পাল্টা হিসেবে আজ মানববন্ধন ও কাল দিনব্যাপী জনসংযোগ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে উপাচার্যপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ। আন্দোলনে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক শরিফ এনামুল কবির ও বর্তমান উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আমির হোসেন ইন্ধন জোগাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।

উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে ক্যাম্পাসে টানা ৭ দিন কালো পতাকা প্রদর্শনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। গতকাল লাল কার্ড প্রদর্শনের পর ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ প্লাটফর্মের অন্যতম মুখপাত্র দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, ‘আমরা উপাচার্যকে যে সময় দিয়েছি, তার মধ্যে তিনি পদত্যাগ করেননি। বিগত ছয় বছরে দুর্নীতি আর বিশৃঙ্খলার মধ্যদিয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়কে শেষ করে দিয়েছেন। শিক্ষার্থী নিপীড়নকারী, দুর্নীতিবাজ উপাচার্যকে আমরা লাল কার্ড দেখাচ্ছি।’

ধর্মঘট চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রশাসনিক কার্যক্রম, ক্লাস বন্ধ থাকবে বলেও জানান তিনি। তবে পূর্বনির্ধারিত ফাইনাল পরীক্ষা এ কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে।

এদিকে পাল্টা কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে উপাচার্যপন্থি শিক্ষকদের বিবৃতিতে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের একাংশের আন্দোলন বিবেচনায় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যখন সমাধানের দিকে এগোচ্ছিল, তখন শিক্ষকদের কেউ কেউ আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে শুরু করেন। তাদের এজেন্ডা হচ্ছে উপাচার্যকে সরিয়ে নিজেদের এ পদে আসীন করা।

গত ১২ সেপ্টেম্বর আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দাবি নিয়ে আলোচনায় বসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। হল স্থানান্তর ও মাস্টারপ্ল্যান সংশোধন দুটি দাবি মেনে নেওয়া হয়। পরে ১৮ সেপ্টেম্বর আবারও আলোচনায় বসেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। কিন্তু দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তের বিষয়ে আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা ও ১ অক্টোবরের মধ্যে পদত্যাগের আলটিমেটাম দেন আন্দোলনকারীরা।