বাংলাদেশে ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বলেছেন, প্রতিবেশীদের কোনো সমস্যা ভারত ‘আমলে নেয় না’। তারা দাম বাড়িয়ে দেয় অথবা ট্যাক্স বসায় অথবা এক্সপোর্ট ব্যান করে। গতকাল বুধবার রাজধানীর ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলে (বিএআরসি) আয়োজিত এক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন। কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘২০১১ সালে আমাদের সমস্যা হয়েছিল, তখনো তাদের সারপ্লাস (উদ্বৃত্ত) ছিল। (তারপরও) তারা এক্সপোর্ট ব্যান (রপ্তানি নিষিদ্ধ) করেছিল।’
অভ্যন্তরীণ সংকট মোকাবিলায় গত ২৯ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেয় ভারত। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ঢাকার বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ১০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। দেশের বাজারে পেঁয়াজের এই সংকটকে ‘সাময়িক’ হিসেবে বর্ণনা করে মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার আপ্রাণ চেষ্টা করছে বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আনার।’
ইতিমধ্যে চীন ও মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ বাংলাদেশে আনা হয়েছে। তুরস্ক থেকেও পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত হয়েছে। এদিকে অতিরিক্ত দামে পেঁয়াজ বিক্রি বন্ধ করতে পাইকারি বাজারগুলোতে অভিযান শুরু করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। টিসিবির মাধ্যমে সারা দেশে ট্রাকে করে ‘ন্যায্যমূল্যে’ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষের একটু কষ্ট হচ্ছে। মিডিয়াও খুব সেনসিটিভি। আমি বলব, এটা মেইন ফুড নয়। আমাদের মেইন স্পাইস। আমরা এটার ব্যাপক ব্যবহার করি। এ বছর পেঁয়াজের সমস্যা হয়েছে। পেঁয়াজ-রসুন এমন একটি ফসল, কোনো বছর কৃষক বিক্রিই করতে পারে না। আবার কোনো বছর দাম বেড়ে যায়।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবদুল মুয়িদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কৃষি সচিব নাসিরুজ্জামান, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সুলতানা আফরোজ, জাতিসংঘ কৃষি ও খাদ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি রবার্ট ডি সিম্পসন, বিইআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান কবীর ইকরামুল হক প্রমুখ।