চলতি (২০১৯-২০) অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দেশের সেবা খাতে রপ্তানি আয় এসেছে ৫৩ কোটি ২৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার। যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৪ দশমিক ৮০ শতাংশ কম। তবে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলেও রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
ইপিবি জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সংগ্রহকৃত পরিসংখ্যান থেকে মোট তিনটি ভাগে সেবা খাতে রপ্তানি আয়ের সংকলন করা হয়েছে। এ তিনটি ভাগ হলো গুডস প্রকিউরড ইন পোর্টস বাই ক্যারিয়ারস, গুডস সোল্ড আন্ডার মার্চেন্টিং ও সার্ভিসেস।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে দেশ সেবা রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরেছিল ৭০ কোটি ৮৩ লাখ মার্কিন ডলার। এর বিপরীতে প্রথম মাসে এ খাত থেকে আয় করেছে ৫৩ কোটি ২৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার। যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৪ দশমিক ৮০ শতাংশ কম। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সেবা রপ্তানি কম হলেও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আয় কিছুটা বেড়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের একই সময়ে সেবা রপ্তানির আয়ের পরিমাণ ছিল ৫১ কোটি ৪০ লাখ ডলার। এ হিসাবে আগের বছরের তুলনায় এবার এ খাতে আয় বেড়েছে ৩ দশমিক ৬২ শতাংশ।
গেল ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১২ মাসে সেবা রপ্তানি করে দেশ আয় করেছিল ৬৩৩ কোটি ৮৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার।
গত অর্থবছরে সেবা রপ্তানির প্রবৃদ্ধি ভালো ছিল। এর ধারাবাহিকতায় চলতি পুরো অর্থবছরে সেবা রপ্তানির আয়ের লক্ষ্য ৮৫০ কোটি ডলার ঠিক করেছে সরকার। কিন্তু প্রথম মাসেই সেবা রপ্তানিতে হোঁচট খেল বাংলাদেশ।
রপ্তানির এ আয়ের মধ্যে সরাসরি সেবা খাত থেকে এসেছে ৫২ কোটি ৬২ লাখ ডলার। বাকিটা দেশের বন্দরগুলোতে পণ্যবাহী জাহাজগুলোর কেনা পণ্য ও সেবা এবং মার্চেন্টিংয়ের অধীনে পণ্য বিক্রির আয়।
সেবার অন্য উপখাতগুলোর মধ্যে ‘অন্যান্য ব্যবসায় সেবা’ থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি থেকে ৪ কোটি ৫১ লাখ ডলার, বিভিন্ন ধরনের পরিবহন সেবা থেকে ৪ কোটি ৮৭ লাখ ডলার, ভ্রমণ সেবা উপখাত থেকে ৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার এবং বীমা ছাড়া আর্থিক সেবা খাত থেকে ৯৫ লাখ ৯০ হাজার ডলার রপ্তানি আয় হয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হওয়া সেবাপণ্যের মধ্যে রয়েছে ম্যানুফ্যাকচারিং সার্ভিসেস অন ফিজিক্যাল ইনপুটস, মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড রিপেয়ার, ট্রান্সপোর্টেশন, কন্সট্রাকশন সার্ভিসেস, ইন্স্যুরেন্স সার্ভিসেস, ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, চার্জেস ফর দি ইউজ অব ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি, টেলিকমিউনিকেশন সার্ভিসেস, আদার বিজনেস সার্ভিসেস, পার্সোনাল-কালচার-রিক্রিয়েশনাল ও গভর্নমেন্ট গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস।