চেয়ার-টেবিল ছাত্রলীগের দখলে থাকার অভিযোগ

মধুর ক্যান্টিনে মেঝেতে বসে ছাত্রদলের প্রতিবাদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মধুর ক্যান্টিনে চেয়ার-টেবিল না পেয়ে মেঝেতে বসে প্রতিবাদ জানিয়েছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, যুগ যুগ ধরে মধুর ক্যান্টিনের রাজনৈতিক শিষ্টাচার ভেঙে মধ্যরাতে সব দখলে নিয়েছে ছাত্রলীগ। তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছে ছাত্রলীগ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১০টার দিকে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা মধুর ক্যান্টিনে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা দেখেন তাদের বসার জায়গায় কোনো চেয়ার-টেবিল নেই। আগে থেকেই সেগুলো দখল করে নিয়েছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তখন তারা এ ঘটনার প্রতীকী প্রতিবাদে মেঝেতে বসে পড়েন। ১১টার দিকে সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন এসে তাদের সঙ্গে যোগ দেন। এ সময় ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য উপস্থিত ছিলেন।  ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, এর আগের দিনও মধুর ক্যান্টিনে তাদের জন্য মাত্র একটি টেবিল রাখা হয়। সে সময় ফ্যানের লাইন কাটা ছিল।

ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জয় চেয়ার-টেবিল দখলে রাখার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘অন্য দিনগুলোর মতোই আমরা মধুর ক্যান্টিনে বসেছি। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা চেয়ার-টেবিল না পেলে আমাদের কী করার আছে? আমরা কি তা বানিয়ে দেব?’

টেয়ার-টেবিল সরানোকে ‘রাজনৈতিক অসৌজন্যতা’ আখ্যা দিয়ে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন বলেন, ‘এই চিত্র সারা বাংলাদেশের। একটা শ্রেণি জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে লুটপাট করে কীভাবে অট্টালিকার মালিক হচ্ছে ও নিপীড়ন চালাচ্ছে; আরেকটি শ্রেণি কীভাবে নিষ্পেষিত হয়ে মাটির সঙ্গে মিশে যাচ্ছে।        

যত বাধাই আসুক ক্যাম্পাস ও মধুর ক্যান্টিনে আমাদের অবস্থান অব্যাহত থাকবে। দেশের মানুষ তো দেখছে, আমাদের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করা হচ্ছে।’

এক ঘণ্টা অবস্থানের পর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মধুর ক্যান্টিনের বাইরে গিয়ে অবস্থান নেন। পরে তারা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন। কলা ভবন, ভিসি চত্বর দিয়ে শহীদ মিনারে গিয়ে মিছিলটি শেষ হয়।