বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে কোনো সাড়া মেলেনি বলে জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল শুক্রবার গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার খাড়াজোড়া এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চার লেন প্রকল্পের উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। চলমান অভিযান কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দলের বিরুদ্ধে নয় বলেও জানান তিনি।
ওবায়দুল কাদের বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে বিএনপির এমপিরা আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। আমার মাধ্যমে তারা সরকারের উচ্চপর্যায়ে বিষয়টি বিবেচনার কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। তবে এ বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে কোনো রেসপন্স আসেনি। বিএনপি চেয়ারপারসনের অসুস্থতা ও মুক্তিসংক্রান্ত প্রশ্নে তিনি আরও বলেন, বেগম জিয়া বয়স্ক হয়ে গেছেন, এ বয়সে একেবারে সুস্থ-সবল তিনি থাকবেন এমন কথা নয়। তার জন্য চিকিৎসকদের একটি টিম আছে এবং একটি বোর্ড আছে। তারা মাঝেমধ্যেই পরীক্ষা করে দেখে। অসুস্থতার বিষয়ে বিএনপি যা বলে তার সঙ্গে চিকিৎসকদের যে রিপোর্ট তার কোনো মিল নেই। ওবায়দুল কাদের বলেন, আমার মনে হয় এখানে যেমন মানবিক বিষয়টি দেখতে হবে, একইভাবে এখানে একটি আইনগত বিষয় রয়েছে। আইনগত বিষয়টি সরকারের হাতে নেই। এটা আমি বারবার বলেছি, বারবার বলার চেষ্টা করেছি। তিনি যদি আদালতে জামিন পান এবং চিকিৎসকদের পরামর্শে চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার মতো অবস্থা তার হয় এবং সেই পর্যায়ে তার অবস্থার অবনতি ঘটে সেটা পরবর্তী সময়ে বিবেচনা করা যাবে। তিনি বলেন, বিএনপির এমপিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন, সরকারের উচ্চপর্যায়ে তারা বিবেচনার কথা বলেছেন।
চলমান অভিযান কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দলের বিরুদ্ধে নয় জানিয়ে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এ অভিযান অপরাধী ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি অভিযান। দুর্বৃত্তায়নের একটি চক্র বাংলাদেশে রয়েছে, চক্রটি ভেঙে দিতে হবে। সেজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্যোগ গ্রহণ নিয়েছেন এবং এই অভিযান শুরু করেছেন আপন ঘর থেকে। তিনি বলেন, যারাই অপরাধী, যেখানে অপরাধীরা থাকÑ সেটা ঢাকা হোক অথবা দেশের যেকোনো জায়াগায় হোক, সারা বাংলাদেশের যেখানেই অপকর্মকারী, যেখানেই অপরাধী, যেখানেই দুর্বৃত্তায়ন, চাঁদাবাজি, লুটপাট, টেন্ডারবাজি সেখানেই এই অভিযান চলবে। ওবায়দুল কাদের বলেন, এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও র্যাবকে পরিষ্কার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি দিল্লি যাওয়ার আগেও বলে গিয়েছেন, আমার এই শুদ্ধি অভিযান কোনো অবস্থায় শিথিল হবে না। এই অভিযান চলতেই থাকবে। দুর্বৃত্তায়নের চক্র ভেঙে দিতে প্রধানমন্ত্রী বদ্ধপরিকর।
এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে সড়ক ও জনপথের ঢাকা বিভাগীয়তব তত্ববধায়ক সবুজ উদ্দিন খান, গাজীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুদ্দিন, পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার, কালিয়াকৈর থানার ওসি আলমগীর হোসেন মজুমদার, সালনা হাইওয়ে থানার ওসি মজিবুর রহমান এবং সড়ক ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।