বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে মধ্যরাতে ঢাকার আজিমপুরের বাসায় ফেরা দুই সাংবাদিককে মারধর ও তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসা অন্য সাংবাদিকদের লাঞ্ছনার অভিযোগে লালবাগ থানার এসআই কালামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে লাঞ্ছনার অভিযোগ ওঠে। অভিযুক্ত বাকি চারজনের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।
এ বিষয়ে লালবাগের উপকমিশনার মুনতাসিরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, সাংবাদিকরা পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন। এর মধ্যে একজনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অবশিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে তিন সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। কমিটি আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে।
এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল রবিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, মোবারকের (বিডিনিউজের প্রতিবেদক) বিয়ের অনুষ্ঠানে আমিও ছিলাম। এরপরও ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনা শুনে আমার খারাপ লেগেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপি এ বিষয়টি জানেন। আমি এ বিষয়টি তাদের সঙ্গে মনিটর করব। যাতে সম্মানজনক সুরাহা হয়।
গত শনিবার রাতে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বাসায় ফিরছিলেন বিডিনিউজের প্রতিবেদক কাজী মোবারক হোসেন ও সাংবাদিক ফখরুল ইসলাম শাহীন। রাত সোয়া ২টার দিকে আজিমপুরের শাখত বাড়ি বটতলা এলাকায় এলে তাদের মারধর করেন এক ওসি, এসআই ও কনস্টেবল। পরে তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসা অন্য সাংবাদিকদেরও লাঞ্ছিত করে পুলিশ।
এ বিষয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদক কাজী মোবারক হোসেন বলেন, শনিবার রাত ১টার দিকে লালবাগ থানার এসআই কালামসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ‘বিনা কারণে’ তার ভাই জাহাঙ্গীর আলমকে মারধর করেছেন। ‘ইয়াবা পাওয়ার’ কথা বলে তাকে থানায় ধরে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন তারা।
তিনি জানান, শনিবার সন্ধ্যার পর খামারবাড়ীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন কনভেনশন হলে তার বিবাহোত্তর সংবর্ধনা ছিল। অনুষ্ঠান শেষ করে বাসার দিকে রওনা দিতে দিতে মধ্যরাত হয়ে যায়। বিয়ের অনুষ্ঠান উপলক্ষে নরসিংদীর গ্রামের বাড়ি থেকে আসা তার বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলম (৩৫) ও ভাতিজা রিয়াদ (২১) সিএনজি অটোরিকশায় রাত ১টার দিকে প্রথমে আজিমপুরের বটতলা এলাকায় বাসার সামনে এসে নামেন। তখন লালবাগ থানার এসআই কালামের নেতৃত্বে কয়েকজন পুলিশ এসে তাদের কাছে জানতে চায়, এত রাতে বাইরে কেন? তারা বিয়ের অনুষ্ঠানের কথা জানালেও তাদের পুলিশের গাড়িতে উঠতে বলে। তারা বলে, তোদের কাছে ইয়াবা আছে। রাজি না হওয়ায় আমার ভাইকে মারধর শুরু করে। তখন আমাদের গাড়ি এসে পৌঁছলে আমি নেমে জানতে চাই, কেন মারা হচ্ছে?
মোবারক আরও জানান, এর মধ্যে লালবাগ থানার পরিদর্শক আসলাম ঘটনাস্থলে চলে আসেন। তিনি এসেই এনটিভি নিউজের সাংবাদিক ফখরুল শাহীনকে থাপ্পড় মারেন। একপর্যায়ে আমার কলার ধরে টেনে গাড়িতে তুলতে যান। তখন আমার সঙ্গে থাকা বিয়ের অনুষ্ঠানের অতিথি ১০-১২ জন সাংবাদিক আমাকে তার কাছ থেকে রক্ষা করে।
এ খবর শুনে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কর্মরত আরও কয়েকজন সাংবাদিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল ছাত্র ঘটনাস্থলে চলে আসেন। তারা পরিদর্শক আসলামসহ ২০-২৫ জন পুলিশ সদস্যকে ঘিরে বিক্ষোভ করেন। এ ঘটনায় দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেন তারা। পরে ভোররাত ৪টার পর মোবারক ও তার সঙ্গীরা ঘটনাস্থল ছাড়লে পুলিশ সদস্যরাও সেখান থেকে চলে যান।