রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি

কক্সবাজারের টেকনাফে জাদিমুড়া শালবাগান নছিরউল জামান রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।  এরপর ক্যাম্পে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

টেকনাফের নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্প পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক মোহাম্মদ মনির বলেন, দুপুরের দিকে টেকনাফের শালবাগান ক্যাম্পের একটি জায়গায় ডাকাত জাকির ও সেলিম গ্রুপের সদস্যরা অবস্থান করছে খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল সেখানে যায়। তখন ডাকাতদের ধাওয়া করলে তারা পুলিশের দিকে গুলি ছুড়ে পাহাড়ি অঞ্চলে ঢুকে পড়ে। পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, গত সোমবার গভীর রাতে ওই ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ডাকাত জাকির ও সেলিমের গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালানো হয়। তবে কাউকে পাওয়া যায়নি। সেখানকার লোকজন জানায়, ডাকাত সেলিমকে গুলি করে হত্যা করে লাশ পাহাড়ে গুম করা হয়েছে। তবে লাশ না পাওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না। গুরুত্বসহকারে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ওপর নজর রাখেন এমন পুলিশের একাধিক পদস্থ কর্মকর্তা জানান, টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে ডাকাত দলের যারা সক্রিয় রয়েছে তারা হলোÑ জাকির, মোহাম্মদ সেলিম, মোহাম্মদ কামাল, আমান উল্লাহ, মোহাম্মদ হামিদ, হামিদ মাঝি, খায়রুল আমিন, মাহমুদুল হাসান, হামিদ, নেছার, সাইফুল ওরফে ডিবি সাইফুল, রাজ্জাক, বুল ওরফে বুইল্লা, রফিক, মাহনুর ওরফে ছোট নুর। তারা একাধিক দলে ভাগ হয়ে নানা অপরাধ করছে। তাদের মূল নেতা হিসেবে রয়েছে আবদুল হাকিম। এখন নিজেদের মধ্যে কোন্দলে ক্যাম্প এলাকায়  গোলাগুলির ঘটনা বাড়ছে। এতে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে ক্যাম্পের বাসিন্দারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক টেকনাফ শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একাধিক মাঝি জানান, দিনদুপুরে পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা পুলিশকে ভয় দেখানোর জন্য গোলাগুলি করে। আর গত রাতে ডাকাত দুই গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন মারা যাওয়ার খবর ক্যাম্পে ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ রোহিঙ্গারা আতঙ্কে আছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দায়িত্ব পালনরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক কর্মকর্তা গতকাল জানান, জাদিমুড়ায় ২৬-২৭ নম্বর ক্যাম্প অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বেশ কয়েক দফা ওই ক্যাম্পে অভিযান চালাতে গিয়ে হামলার মুখে পড়েছেন তারা। সন্ধ্যার পর ক্যাম্প এলাকায় ঢুকতেও ভয় পান অনেকে।

র‌্যাব-১৫, সিপিসি-১ টেকনাফ ক্যাম্প ইনচার্জ লেফটেন্যান্ট মির্জা শাহেদ মাহাতাব বলেন, গোলাগুলির খবর পেয়ে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকায় কাউকে কোনো ধরনের অপরাধে জড়াতে দেওয়া হবে না। রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘিরে ডাকাত দলসহ অন্য যেসব অপরাধী চক্র সক্রিয় রয়েছে তাদের শনাক্ত করা হয়েছে। কয়েকজনকে বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। অন্যরা শিগগিরই ধরা পড়বে।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, ডাকাতদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে।