মহাবিশ্বের গঠন ও বিবর্তনের ইতিহাস উদঘাটন, সেখানে পৃথিবীর সঠিক অবস্থান ও সৌরজগতের বাইরের নক্ষত্র ঘিরে আবর্তনরত গ্রহ (এক্সোপ্লানেট) আবিষ্কারের স্বীকৃতিতে চলতি বছর পদার্থবিদ্যায় নোবেল পেয়েছেন তিন বিজ্ঞানী। গতকাল মঙ্গলবার রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস এই পুরস্কারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের জেমস পিবলস, সুইজারল্যান্ডের মিশেল মায়োর ও যুক্তরাজ্যের দিদিয়ের কুলোজের নাম ঘোষণা করে।
নোবেল পুরস্কারের ৯০ লাখ সুইডিশ ক্রোনারের মধ্যে পিবলস পাবেন অর্ধেক। আর বাকি অর্ধেক মায়োর ও কুলোজ ভাগ করে নেবেন। আগামী ১০ ডিসেম্বর সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।
লেজারের শক্তিকে বহুগুণে বাড়িয়ে তোলার যুগান্তকারী কৌশল উদ্ভাবনের জন্য গত বছর আর্থার আশকিন, জেরার্ড মুরু ও ডোনা স্ট্রিকল্যান্ড পদার্থবিদ্যায় নোবেল পেয়েছিলেন। আর এবার ফিজিক্যাল কসমোলজি বিষয়ে গবেষণায় এই পুরস্কার পেলেন জেমস পিবলস এবং সূর্যের মতো নক্ষত্রকে পরিভ্রমণরত এক্সোপ্লানেটের আবিষ্কারের জন্য এই পুরস্কার পেয়েছেন মিশেল মায়োর এবং দিদিয়ের কুলোজ।
তাদের পুরস্কার জয়ের বিষয়ে নোবেল কমিটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, তাদের আবিষ্কার মহাবিশ্বের বিবর্তন এবং বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে পৃথিবীর অবস্থান বুঝতে সহায়তা করবে।
জেমস পিবলসের আবিষ্কারের বিষয়ে বলা হয়েছে, ফিজিক্যাল কসমোলজিস্ট পিবলস গত ৫০ বছর ধরে মহাবিশ্বের ক্রমবিকাশের একেবারে ভিত্তি নিয়ে গবেষণা করেছেন। প্রায় ১৪ বিলিয়ন বছর আগে বিগ ব্যাং বা মহাবিস্ফোরণের মাধ্যমে এই মহাবিশ্বের জন্ম হলেও ধীরে ধীরে সেটি বিস্তার লাভ করেছে এবং শীতল হয়েছে। মহাবিস্ফোরণের প্রায় চার লাখ বছর পরে স্বচ্ছ হতে শুরু করলে নক্ষত্রগুলো থেকে আলো ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পায় গ্রহ-উপগ্রহগুলোতে। এমনকি আজও নানা ধরনের বিকিরণ এখনো আমাদের চারপাশে রয়েছে। তাদের মধ্যেই হয়তো মহাবিশ্বের বিবর্তনে ও ক্রমবিকাশের রহস্য লুকিয়ে রয়েছে। পিবলস সেই রহস্য উন্মোচনের নতুন দিশা দিয়েছেন তার গবেষণায়। তার দেওয়া তত্ত্বের ভিত্তিতে মহাবিশ্বের মাত্র ৫ শতাংশ সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা মিলেছে। বাকি ৯৫ শতাংশই এখনো আমাদের কাছে অন্ধকার রহস্যময় রয়েছে।
মিশেল মায়োর ও দিদিয়ের কুলোজের গবেষণার বিষয়ে বলা হয়েছে, তারাই প্রথমবারের মতো সৌরজগতের বাইরের কোনো নক্ষত্রে গ্রহের খোঁজ পান। ১৯৯৫ সালে তারা আমাদের গ্যালাক্সিতেই ৫১ পেগাসি বি নামের একটি এক্সোপ্লানেট আবিষ্কার করেন। সে সময় ফ্রান্সের একটি গবেষণা কেন্দ্রে বসে আবিষ্কার করা ওই গ্রহটি মহাবিশ্বের ধারণায় নতুন মাত্রা যোগ করে। আশা জাগায় পৃথিবীর মতো বাসযোগ্য গ্রহের অস্তিত্ব থাকার। ওই আবিষ্কারের পরে থেকে আজ পর্যন্ত আরও চার হাজারের বেশি এক্সোপ্লানেট আবিষ্কার করেছেন গবেষকরা। সেগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটির আকার, নক্ষত্র থেকে দূরত্ব, কক্ষপথ, আবহাওয়া ইত্যাদির বিশ্লেষণ করে সেখানে প্রাণের অস্তিত্বের আশা দেখছেন গবেষকরা।