কারাগার থেকে জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে সম্রাট

বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ) আইনে ছয় মাসের কারাদন্ডপ্রাপ্ত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলেছেন, সম্রাটের শারীরিক অবস্থা ভালো এবং স্থিতিশীল। তবে তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে কি না, তা এখনই বলতে পারছেন না চিকিৎসকরা। চিকিৎসকদের মতে, আরও কিছুটা সময় পর্যবেক্ষণে রাখা লাগতে পারে।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে বুকে ব্যথা অনুভব করলে সম্রাটকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও পরে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি এই হাসপাতালের সিসিইউতে রয়েছেন। 

এ ব্যাপারে জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আফজালুর রহমান গতকাল মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, সম্রাটের অবস্থা স্থিতিশীল। তার চিকিৎসার কোনো অবহেলা করা হচ্ছে না। আজ (গতকাল) ছুটির দিন সত্ত্বেও চিকিৎসকরা সময় দিচ্ছেন। মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। জরুরিভিত্তিতে করা কিছু পরীক্ষার রিপোর্ট আমরা পেয়েছি, সেগুলোর রিপোর্ট ভালো। তবুও তাকে ২৪ ঘণ্টার জন্য অবজারভেশনে রাখতে হচ্ছে। কারণ যেকোনো হৃদরোগের রোগী এলে অবজারভেশনে (পর্যবেক্ষণে) রাখা হয়। আগামীকাল (আজ) মেডিকেল বোর্ড মিটিংয়ে বসবে। সেখানেই সবকিছু বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তার চিকিৎসা চলবে নাকি ডিসচার্জ করা হবে। ১৯৯৮ সালে সম্রাটের হৃদপিণ্ডের একটি ভাল্ব রিপ্লেস করা হয়েছিল বলেও জানান চিকিৎসকরা।

পরে রাতে পরিচালক অধ্যাপক ডা. আফজালুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা তাকে (সম্রাট) আরও কিছু সময় পর্যবেক্ষণে রাখতে চাই। এখন স্থিতিশীল। তবে কখন কী হয় তা বলা যায় না। এ জন্য দু-তিন দিন রাখতে হবে বলে মনে হচ্ছে।  

গত ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার মতিঝিলের ক্লাবপাড়ায় র‌্যাবের অভিযানে অবৈধ ক্যাসিনো চলার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই যুবলীগের প্রভাবশালী নেতা সম্রাটের নাম ঘুরেফিরে আসছিল। গত শনিবার গভীর রাতে সম্রাট ও তার সহযোগী এনামুল হক আরমানকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। পরে সম্রাটকে সঙ্গে নিয়ে কাকরাইলের ভূইয়া ট্রেড সেন্টারে তার কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অভিযান শেষে গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল, ১১৬০টি ইয়াবা, ১৯ বোতল বিদেশি মদ, দুটি ক্যাঙ্গারুর চামড়া এবং ‘নির্যাতন করার’ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পাওয়ার কথা জানায় র‌্যাব।

ক্যাঙ্গারুর চামড়া পাওয়ার কারণে সম্রাটকে তাৎক্ষণিকভাবে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ) আইনে তাৎক্ষণিকভাবে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেদিনই তাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় কেরানীগঞ্জের কারাগারে। সোমবার রমনা থানায় সম্রাটের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি মামলা করে র‌্যাব। তাকে দুই মামলায় ১০ দিন করে মোট ২০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে আবেদন করে রমনা থানা পুলিশ। আজ বুধবার রিমান্ড শুনানির জন্য সম্রাটকে আদালতে তোলার কথা রয়েছে। তার আগেই অসুস্থতার কারণে সম্রাটকে হাসপাতালে নেওয়া হলো।