বরিশালের হিজলা উপজেলায় হরিনাথপুর ইউনিয়নের তালতলা জামে মসজিদসংলগ্ন একটি রাস্তায় আজম বেপারী (২৫) নামে এক যুবককে হাত-পা বেঁধে মারধরের পর মলমূত্র খাওয়ানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর (সোমবার) ধারণ করা ওই দৃশ্যের ভিডিও ফেইসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়ালে তা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত হরিনাথপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য মাহবুব সিকদার, রশিদ মাতুব্বর ও মো. কবির নামে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
নির্যাতনের শিকার আজম হরিনাথপুর বাজারসংলগ্ন এলাকার মহিউদ্দিন বেপারীর ছেলে। ঘটনার পর লোকলজ্জায় তিনি এলাকা ছেড়ে ঢাকা চলে গেছেন বলে পরিবার ও স্থানীয়দের কয়েকজন জানান।
ফেইসবুকে ছড়ানো সোয়া এক মিনিটের একটি ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, শার্ট ও লুঙ্গি পরা এক ব্যক্তি আজমের বুকের ওপর পা দিয়ে চেপে মুখ ধরে বদনা থেকে তরল কিছু ঢালছেন তার (আজমের) মুখে। এ সময় মুখ নড়াতে চেষ্টা করলে আজমের মাথা চেপে ধরেন আরেক ব্যক্তি। আট-দশজন ব্যক্তি ওই সময় উপস্থিত ছিলেন।
ভিডিও দেখে স্থানীয়দের কয়েকজন জানান, মাহবুবের নেতৃত্বে টুমচর এলাকার রশিদ মাতুব্বর, মো. সোলায়মানসহ আট ব্যক্তি আজমকে নির্যাতনের ওই ঘটনায় অংশ নেন। ওই দৃশ্যের ভিডিওচিত্র মুঠোফোনে ধারণ করেন মাহবুবের চাচাতো ভাই ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শাহরিয়ার বাদল।
স্থানীয়দের কয়েকজন অভিযোগ করেন, পুরো ঘটনার নেপথ্যে থেকে ইন্ধন জুগিয়েছেন আজমের এক সময়ের ব্যবসায়িক অংশীদার মো. জহির। জহির ও আজম দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে ব্যবসা করে আসছিলেন। প্রথমদিকে তারা জ¦ালানি তেল কিনে বিক্রি করতেন হরিনাথপুর লঞ্চঘাটে। এরপর তারা জমির ব্যবসা শুরু করেন। ওই ব্যবসায় তাদের ১০ লাখ টাকার মতো লাভ হয় বলে শোনা গেছে। আজম ব্যবসায়িক সমান অংশীদার হলেও জহির ওই টাকা একাই আত্মসাৎ করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। আজম ব্যবসার লাভের অংশ চাইলে জহির তাকে টাকা দেবে না জানিয়ে হুমকি দেন। এরপর আজমকে মারধর করে এলাকাও ছাড়া করেন জহির। সম্প্রতি আজম এলাকায় ফিরে এসে জহিরের কাছে ফের ব্যবসার লাভের টাকা দাবি করেন। এতে জহির আজমকে শায়েস্তা করতে ফন্দি আঁটেন। আজমকে মারধর ও অপমান করতে মাহবুব সিকদার ও শাহরিয়ার বাদলকে টাকা দিয়ে ভাড়া করেন জহির।
স্থানীয় ওই ব্যক্তিরা জানান, পরিকল্পনা মতো সপ্তাহখানেক আগে আজমকে বাড়ি থেকে ডেকে তালতলা জামে মসজিদসংলগ্ন রাস্তায় নিয়ে যান মাহবুব। সেখানে আগে থেকেই তার সহযোগীরা উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে আজমের হাত-পা বেঁধে মারধর করেন তারা। এরপর হাত-পা চেপে ধরে শুইয়ে দেওয়া হয়। তখন মাহবুব একটি বদনা থেকে মল-মূত্র আজমের মুখে ঢেলে খাইয়ে দেন। আর সে সময় ওই দৃশ্যের ভিডিও ধারণ করেন বাদল। এরপর আজমকে সেখানে ফেলে রেখে চলে যান। পরে ওই ভিডিওটি ফেইসবুকে ছাড়েন তারা। বিষয়টি নিয়ে তখন তোলপাড় শুরু হয়।
আজমের স্বজনরা জানান, অভিযুক্তরা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী। তারা ক্ষমতাসীন দল করেন। তাদের ভয়ে এলাকায় কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না। পুলিশের সঙ্গে তাদের ওঠা-বসা রয়েছে। এ কারণে আজম থানায় অভিযোগ করতে সাহস পাননি। এছাড়া ঘটনার পর তারা আজমকে আইন-আদালত না করতে হুমকি দিয়েছিলেন। এ কারণে তিনি ঢাকায় চলে যান। এখন অভিযুক্তরা বিষয়টি ভিন্ন খাতে নিতে এলাকায় রটাচ্ছে আজম ঝাড়ফুঁক করে মাহবুব সিকদারের স্ত্রী ও তার মেয়ের ক্ষতি করেছেন। তাই তার বিচার করেছে এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে জানতে হিজলা উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মিলনকে কয়েকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। আর ভুক্তভোগী আজমের ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
হিজলা থানার ওসি অসীম কুমার সিকদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত ৩০ সেপ্টেম্বর ঘটা ওই বিষয়টি আমরা পরে জেনেছি। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। ওই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত তিনজনকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের আটক করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। এ ব্যাপারে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।