আগামীকাল ভারতজুড়ে মুক্তি পাচ্ছে হিন্দি সিনেমা ‘দ্য স্কাই ইজ পিংক’। সিনেমাটি তারকাবহুল, প্রতিষ্ঠিত ব্যানারে নির্মিত এবং এর প্রচার-প্রচারণা হচ্ছে বেশ জোরেশোরে। প্রায় প্রতি সপ্তাহেই বলিউডে এমন বৈশিষ্ট্যের সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে। কিন্তু ‘দ্য স্কাই ইজ পিংক’ অনেক কারণে বিশেষ।
প্রথম, এটি প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার বলিউড কামব্যাক সিনেমা। সর্বশেষ ‘জয় গঙ্গাজল’ সিনেমায় দেখা যায় তাকে। তাও তিন বছর আগে। হলিউডের সফল টেলিভিশন সিরিজ কোয়ান্টিকোর কল্যাণে দুবার পিপলস চয়েজ অ্যাওয়ার্ড জয়, বিশে^র সব বড় বড় ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ও অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে চোখ ধাঁধানো উপস্থিতি আর মার্কিন সংগীত সুপারস্টার নিক জোনাসের সঙ্গে প্রেম-বিয়ে নিয়ে কম আলোচিত হননি দেশি গার্ল প্রিয়াঙ্কা। কিন্তু তার ভক্তরা বরাবরই অপেক্ষা করেছেন কবে প্রিয় অভিনেত্রীকে দেশীয় সিনেমায় দেখতে পাবেন। অবশেষে কালই সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হবে। শুধু কাম সিনেমা বলেই নয়, এই সিনেমাতেই প্রথমবারের মতো প্রিয়াঙ্কাকে একটি টিনএজ মেয়ের (জায়রা ওয়াসিম) মায়ের ভূমিকায় দেখা যাবে।
সিনেমাটি বিশেষ হওয়ার দ্বিতীয় কারণ হলেন জায়রা ওয়াসিম। সবাই জানেন, ‘দঙ্গল’ ও ‘সিক্রেট সুপারস্টার’ সিনেমায় নিজের অভিনয় দক্ষতা দিয়ে সবার মন জয় করে নেন কাশ্মীরিকন্যা জায়রা। কিন্তু হঠাৎ করেই কয়েক মাস আগে নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে দীর্ঘ এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে তিনি লেখেন, ধর্মের প্রতি অনুরক্ত হয়ে আর সিনেমায় অভিনয় করবেন না তিনি। কারণ তার ধর্ম ইসলাম, অভিনয়কে সমর্থন করে না। অর্থাৎ ‘দ্য স্কাই ইজ পিংক’ হতে যাচ্ছে এই উঠতি তারকার সর্বশেষ সিনেমা।
আরেক কারণ হলো এই সিনেমার নির্দেশক সোনালি বোস। এর আগে ‘মার্গারিটা উইথ অ্যা স্ট্র’ সিনেমা বানিয়ে নিজের জাত চিনিয়েছেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে ‘দ্য স্কাই ইজ পিংক’ নিয়ে সোনালি বলেন, ‘আমি সৌভাগ্যবান যে আমার পছন্দ অনুযায়ী কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন দুই প্রযোজক রনিস্ক্রুওয়ালা ও সিদ্ধার্থ রয় কাপুর। এটা খুবই জরুরি ছিল। কারণ আমি এমন একটি বিষয় নিয়ে কাজ করতে যাচ্ছিলাম, যা ব্যবসায়িকভাবে কতটা সফল হবে তা আমি জানি না। এটি একটি সত্য ঘটনা নিয়ে নির্মিত। মধ্যবিত্ত ভারতীয় একটি পরিবারের একমাত্র মেয়ে টিনএজ বয়সে বিশেষ রোগে ভুগে মারা যায়। আমি যখন সেই দম্পতির সঙ্গে কথা বলি তখন তারাই চাইছিল আমিই যেন এই কাহিনী নিয়ে একটি সিনেমা করি। কারণ এটি অনেকের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক হতে পারে। কিন্তু আমি তাদের বলেছিলাম, আমি সিনেমা বানাব। তবে মেয়েটির মৃত্যুকে উপজীব্য করে নয়। এই দম্পতির দাম্পত্য ও একমাত্র সন্তান হারিয়ে তাদের মানসিক অবস্থা কী হয়েছিল তা নিয়ে। আমি জানি, আমি তথাকথিত বলিউড সিনেমা বানাব না। এর কোনো এলিমেন্টসও থাকবে না আমার সিনেমায়। তাই তো একটি গানের শ্যুটিং করেও আমরা বাদ দিয়েছি। কারণ গানটি সিনেমার দৃশ্যের সঙ্গে একদম যায় না। যাই হোক, এ বিষয় নিয়ে তৈরি সিনেমায় লগ্নি করার সাহস সবার থাকে না। তার ওপর প্রযোজকরাই আমাকে প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার মতো মেগাস্টারকে নিতে বলেন সিনেমায়। আমি প্রিয়াঙ্কার নিউ ইয়র্কের বাড়িতে দেখা করি। আমি জানতাম এই বয়সে তিনি টিনএজ মেয়ের মায়ের চরিত্র করতে চাইবেন না। তা ছাড়া তিনি দীর্ঘদিন কোনো হিন্দি সিনেমাই করছেন না। কিন্তু গল্প শোনার পর তিনি কেন যেন এক কথায় রাজি হয়ে গেলেন!
সুতরাং অনেক কারণেই বিশেষ ‘দ্য স্কাই ইজ পিঙ্ক’। সিনেমাটি প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার জন্যও বিশেষ। এই সিনেমার শ্যুটিং শেষে মাত্র চার দিন পরই তিনি বিয়ের পিঁড়িতে বসেন। তার ভাষায়, ‘নিককে বিয়ের জন্য হ্যাঁ বলার আগে এই মুভিকে হ্যাঁ বলেছিলাম। তাই এটি ছিল আমার প্রথম অগ্রাধিকার। এমন সময়ে বিয়ে করেছি, যাতে সিনেমার শিডিউলের কোনো ক্ষতি না হয়।’ আর এই সিনেমা নাকি প্রিয়াঙ্কাকে জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছে। জীবনের যেকোনো বড় ক্ষতিকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখতে শিখিয়েছে।
২০১৮ সালের ডিসেম্বরের প্রথম দিন থেকে শুরু হয়েছিল প্রিয়াঙ্কা চোপড়া আর নিক জোনাসের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। তার আগে থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত এই জুটিকে নিয়ে লেখা হয়েছে দিস্তার পর দিস্তা। ১০ বছরের ছোট মার্কিন পপতারকা নিক জোনাসকে বিয়ে করার ‘অপরাধে’ অনেক দুয়োধ্বনি শুনতে হয়েছে সাবেক এই বিশ্বসুন্দরীকে। ‘দ্য স্কাই ইজ পিংক’-এর প্রচারণার সুবাদে তাকে প্রতিদিনই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তাই এবার সেসব সমালোচনার জবাব দিলেন তিনি। ই-টাইমসে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে বয়সের এই বিতর্ক নিয়ে আবার জিজ্ঞেস করা হয়। তখন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া ৩৭ বছর বয়সী এই ভারতীয় অভিনেত্রী বলেন, ‘আমাদের বয়সের পার্থক্য নিয়ে কে কী বলল, তাতে আমার কিছুই আসে-যায় না। মিডিয়া ট্রলকারীদের অনেকে গুরুত্ব দেয়। সেসব নিয়ে আমাদের ভাবার কোনো কারণ নেই, অবকাশও নেই। ১৫০ জন কী মন্তব্য করল, তার ওপর ভিত্তি করে তো আমি আমার জীবনের সিদ্ধান্ত নেব না।’
শুধু তা-ই নয়, প্রিয়াঙ্কা বিনোদন সাংবাদিকদেরও একহাত নেন। বললেন, ‘ট্রলকারী, সমালোচকরা একজন মেগাস্টারের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কী বলল, সেটাকে গুরুত্ব দিয়ে যারা রিপোর্ট করেন, তারা “লেজি জার্নালিস্ট”।’
এত জায়গা থাকতে বিয়ের অনুষ্ঠান কেন রাজস্থানের যোধপুরে করলেন? জবাবে ‘কোয়ান্টিকো’ সিরিজের এই তারকা বলেন, ‘রাজস্থানের ইতিহাস আমাকে মুগ্ধ করে। ভারতের এই শহর কেবল উপমহাদেশের ঐতিহাসিক রাজকীয়তাকে ধারণ করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমার বন্ধুরা ভারতে পা রেখে প্রথমেই যেতে চায় রাজস্থান। তাই বিয়ের জন্য রাজস্থান ছাড়া অন্য কোনো জায়গা আমার মাথায় আসেনি।’
পদ্মশ্রী উপাধিতে ভূষিত প্রিয়াঙ্কা আরও যোগ করেন, ‘বিয়ের জন্য রাজস্থানে নামার পর থেকে সব অনুষ্ঠান শেষ করে রাজস্থান ত্যাগ করা পর্যন্ত সবকিছু ছিল একদম পারফেক্ট। চমৎকার আবহাওয়া। বিয়ের খাবারও দুর্দান্ত ছিল। আর রাজস্থানের আতিথেয়তার সঙ্গে অন্য কারও তুলনা চলে না। এ জন্যই রাজস্থান থেকে ফিরে গিয়ে মানুষ বদলে যায়।’