প্রধানমন্ত্রীর তির্যক মন্তব্য

ভাসান চরে রোহিঙ্গাদের পাশে ক্যাসিনো হবে

চলমান ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘যারা এখন ক্যাসিনো খেলায় অভ্যস্ত হয়ে গেছে বা এ ধরনের জুয়া খেলায় অভ্যস্ত হয়ে গেছে, কেউ হয়ত বিদেশে ভেগে গেছে তাদের জন্য একটা দ্বীপ খুঁজে বের করুন। সেই দ্বীপে আমরা সব ব্যবস্থা করে দেব। তারা সেখানে পড়ে থাকবেন, যত খুশি খেলবেন।’

জাতিসংঘ ও ভারত সফর নিয়ে গতকাল বুধবার গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের এক পর্যায়ে তিনি এসব কথা বলেন।

এরপর সরকারপ্রধান নিজেই ভাসানচরের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ভাসানচর বিশাল দ্বীপ। এক পাশে রোহিঙ্গা আর এক পাশে আপনাদের ব্যবস্থা করে দেব, সবাই সেখানে চলে যান। এ সময় সেখানে হাসির রোল পড়ে যায়। শেখ হাসিনা নিজেও বিষয়টি নিয়ে মজা করেন।

জুয়া খেলা নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, অভ্যাস যখন বদ অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়, এই বদ অভ্যাস তো যাবে না। বারবার খোঁজাখুঁজি করতে হবে। সেটা না করে তাদের একটা জায়গাই দিয়ে দেব। ভাসানচরের এক সাইডে যদি ব্যবস্থা করে দিই। খুব ভালো জায়গা, কোনো অসুবিধা নেই। ১০ লাখ লোকের বসতি দেওয়া যাবে।

প্রধানমন্ত্রী হাসতে হাসতে  বলেন, ‘কারা কারা করতে চান। নীতিমালা তৈরি করে, লাইসেন্স দিতে হবে। ট্যাক্স দিতে হবে। তারপর ওখানে গিয়ে ইচ্ছেমতো সবাই করেন। আমার কোনো আপত্তি নেই। সেই ব্যবস্থাই করে দেব।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ট্যাক্স পাব, টাকা পাব। ওই টাকা দিয়ে ডেভেলপমেন্ট করতে পারব। আর কী! এখন দেখা যাচ্ছে লুকিয়ে লুকিয়ে এটা করে। এটা সমাজের জন্য ক্ষতিকর। দেশের জন্য ক্ষতিকর। দেশটা তো ঠিক থাকল! এক চরে পাঠিয়ে দিলাম সব!

 এ সময় তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, আমি যদি বলি সাংবাদিকরাও তো  কোনো দিন বলেননি যে, এ রকম একটা অনিয়ম হচ্ছে। এত খবর আপনারা রাখেন। কই এই জায়গায় কেন পৌঁছাননি কখনো। সেই প্রশ্নের জবাব কি দিতে পারবেন? পারবেন না। আমি জানি, পারবেন না। আমি যখনই খবর পেয়েছি ব্যবস্থা নিয়েছি এবং এটার বিরুদ্ধে সবসময় নিতেই হবে।