বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস আজ

আত্মহত্যা প্রতিরোধে প্রয়োজন মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন

আজ ১০ অক্টোবর। বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘আত্মহত্যা প্রতিরোধ ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন’। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, মানসিক অসুস্থতায় পৃথিবীতে প্রতি ৪০ সেকেন্ডে একজন মানুষ আত্মহত্যা করছে। প্রতি বছর বাংলাদেশেও গড়ে প্রতি লাখে দশজন আত্মহত্যা করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আত্মহত্যা প্রতিরোধে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত জরুরি।

গত ১ জুলাই পাবনার চাটমোহরের নতুন বাজার এলাকার তপন কু-ু নামে এক ব্যবসায়ী আত্মহত্যা করেন। আশির দশকে বাবার কাছে ব্যবসার টাকা না পেয়ে অভিমানে আত্মহত্যা করেছিলেন তার বড় ভাই দেবাশীষ কু-ু। বর্তমানে পরিবারটি পুরুষশূন্য। তপনের মৃত্যুতে পুরো পরিবার নিয়ে যেন অথই সাগরে পড়েছেন স্ত্রী শিল্পী কু-ু। তপনের আত্মহত্যা শুধু তার মৃত্যুই ঘটায়নি, পুরো পরিবারকে ঠেলে দিয়েছে বিপর্যয়ের মুখে। গত সোমবার প্রয়াত তপন কু-ুর বাড়িতে গিয়ে দেখা হয় তার বৃদ্ধা মা, স্ত্রী, সন্তানদের সঙ্গে। সন্তানহারা মা বীথিকা কু-ু আকাশপানে নির্বাক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকেন সারাক্ষণ। বর্তমান অবস্থা জানতে চাইলে বললেন, ‘আর কোনো বাবা-মাকে যেন এমন নির্মম যন্ত্রণা সইতে না হয়।’

পাবনার পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম জানান, গত চার বছরে পাবনায় ১০৩৭ জন আত্মহত্যা করেছে। এর মধ্যে ২০১৬ সালে ২৪২, ২০১৭ সালে ৩০১, ২০১৮ সালে ৩০১ আর চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৯৩ জন আত্মহত্যা করেছে। এসব আত্মহত্যার অধিকাংশই পারিবারিক কলহের কারণে। অধিকাংশ আত্মহত্যাকারীর বয়স ১৫ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। আত্মহত্যা প্রতিরোধে পারিবারিক বন্ধন ভেঙে যাওয়া, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও পারিবারিক আস্থাহীনতার অভাবকে দায়ী করেন তিনি। বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে আইনগত সুরক্ষার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতাও গড়ে তোলা প্রয়োজন।’

পাবনা মানসিক হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মাসুদ রানা সরকার বলেন, ‘শতকরা ৯৫ ভাগ আত্মহত্যার কারণ হতাশা ও বিষণœতা। এ ছাড়া মাদকাসক্তদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি থাকে। ক্রনিক সিজোফ্রেনিয়া, মানসিক অস্থিরতা, ব্যক্তিত্বের ভঙ্গুরতা ও অসংযত জীবনযাপন আত্মহত্যার দিকে মানুষকে ঠেলে দেয়।’

পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ড. এ কে এম শওকত আলী খান বলেন, ‘আত্মহত্যা প্রতিরোধে সুস্থ মানসিক বিকাশ ও মানসিক সুস্থতা দরকার। গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ আত্মহত্যার কারণ হিসেবে দেখা যায় ইভটিজিং, যৌতুক ও আর্থিক সংকট, মহাজনী সুদের মতো সামাজিক সমস্যা, যা গ্রামাঞ্চলের সরল মানুষের মধ্যে প্রচণ্ড মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। এ ধরনের সামাজিক অস্থিরতার কারণেই অধিকাংশ আত্মহত্যা ঘটে। তাই মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন ও আত্মহত্যা প্রতিরোধে সামাজিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বৃদ্ধির সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।’

এদিকে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস পালনে পাবনা মানসিক হাসপাতালে শোভাযাত্রা, আলোচনা সভাসহ দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।