তৈরি পোশাক রপ্তানি

বন্ড সুবিধা থাকলেও মিলবে বিশেষ নগদ সহায়তা

তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সুবিধা আরও বাড়িয়ে দিল সরকার। যেসব রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ডিউটি ড্র ব্যাক বা বন্ড সুবিধা পাচ্ছে, তারাও চলতি অর্থবছরের বাজেটে ঘোষিত ১ শতাংশ হারে বিশেষ নগদ সহায়তা পাবে। একই সঙ্গে ইপিজেড ও ইজেডে অবস্থিত দেশি মালিকানাধীন কারখানাগুলো থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাতে রপ্তানির বিপরীতেও এ সুবিধা দেওয়া হবে। তবে এই নগদ সহায়তা পাওয়ার জন্য কমপক্ষে বাংলাদেশে ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজন করতে হবে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানকে।

গত ২২ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলে, ্এ শিল্পের প্রচলিত নগদ সহায়তার পাশাপাশি ১ শতাংশ বিশেষ নগদ সহায়তা পাবে। কিন্তু কোন প্রতিষ্ঠান কী ধরনের রপ্তানির বিপরীতে এই সুবিধা পাবে তা স্পষ্ট ছিল না। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক তা স্পষ্ট করে নতুন সার্কুলার জারি করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, এই ১ শতাংশ বিশেষ নগদ সহায়তা প্রধানত বন্ডের অধীনে কাঁচামাল আমদানি করে যারা যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কানাডায় রপ্তানি করবে, তারাই পাবে। আগে ইপিজেড ও ইজেডের প্রতিষ্ঠান এই সুবিধায় অন্তর্ভুক্ত ছিল না, এখন তারাও পাবে। বর্তমানে রপ্তানিমুখী দেশি বস্ত্র খাতে শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাকের পরিবর্তে ৪ শতাংশ বিকল্প নগদ সহায়তা পাচ্ছে। নিট, ওভেন ও সোয়েটার খাতের সব ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য অতিরিক্ত ৪ শতাংশ সুবিধা দিচ্ছে সরকার। নতুন পণ্য রপ্তানি ও নতুন বাজারে রপ্তানি করলে (আমেরিকা, কানাডা ও ইইউ বাদে) ৪ শতাংশ নগদ সহায়তা দেওয়া হয়। আর ইউরো অঞ্চলে বস্ত্র খাতের রপ্তানিকারকদের জন্য বর্তমানে ৪ শতাংশ সহায়তার অতিরিক্ত ২ শতাংশ বিশেষ সহায়তাও দেওয়া হয়। এসব সুবিধা পাওয়া রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান বিশেষ ১ শতাংশ সহায়তা পাবে না।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে তৈরি পোশাক খাতে ১ শতাংশ বিশেষ নগদ সহায়তার ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী। এজন্য বাজেটে অতিরিক্ত ২ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আর মোট নগদ সহায়তার জন্য ৭ হাজার ৩২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে নগদ সহায়তা খাতে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, নিজস্ব কারখানায় উৎপাদিত তৈরি পোশাকের নিট এফওবি মূল্যের ওপর এই নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। রপ্তানি পণ্যের হ্যান্ডলিং, মানোন্নয়ন, প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যয় এবং অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পরিবহন ব্যয়, ফ্রেইট চার্জের বিপরীতে এই সহায়তা দেওয়া হবে। টিটির মাধ্যমে অগ্রিম রপ্তানিমূল্য প্রত্যাবাসিত হলে প্রমাণ সাপেক্ষে তার বিপরীতে সহায়তা দেওয়া হবে। তবে অগ্রিম রপ্তানিমূল্য কোনো এক্সচেঞ্জ হাউজের মাধ্যমে এলে তার বিপরীতে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে না।

এতে বলা হয়েছে, আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ক্ষমতার সঙ্গে আবেদনপত্রে উল্লিখিত রপ্তানির সামঞ্জস্যতা সম্পর্কে ব্যাংককে নিশ্চিত হতে হবে। নগদ সহায়তার প্রতিটি আবেদন বহিঃনিরীক্ষক ফার্মের মাধ্যমে নিরীক্ষা করতে হবে।

কোনো ব্যাংক নিয়মবহির্ভূতভাবে এই বিশেষ নগদ সহায়তা পরিশোধ করলে বাংলাদেশ ব্যাংকে থাকা তাদের হিসাব থেকে তা কেটে নেওয়া হবে।