বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) শাখা ছাত্রলীগ নেতা ইফতি মোশারফ সকাল আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) জনসংযোগ শাখার উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে
জানিয়েছেন, গতকাল মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক এই জবানবন্দি দিয়েছেন সকাল। জবানবন্দি দেওয়ার পর আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ ছাড়া আবরার হত্যায় গ্রেপ্তার আরও কয়েকজনও আদালতে জবানবন্দি দিতে রাজি হয়েছেন বলে পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
তারা আরও জানান, আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। তারা হলেনÑ আবরারের রুমমেট মিজানুর রহমান মিজান, আলোচিত ছাত্রলীগ নেতা অমিত সাহা ও এজাহারভুক্ত আসামি হোসেন মোহাম্মদ তোহা। এই নিয়ে এ মামলায় মোট ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মেহেদি হাসান রাসেল, অনিক সরকার, ইফতি মোশারফ সকাল, মেহেদী হাসান রবিন, মেফতাহুল ইসলাম জিওন, মুনতাসির আলম জেমি, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির, মুজাহিদুর রহমান, মুহতাসিম ফুয়াদ, মনিরুজ্জামামন মনির, আকাশ হোসেন, ইসতিয়াক আহম্মেদ মুন্না ও শামসুল আরেফিন রাফাত। যাদের মধ্যে তিনজনের নাম এজাহারে ছিল না। তারা হলেন অমিত সাহা, মিজানুর রহমান ওরফে মিজান ও শামসুল আরেফিন রাফাত। এ ঘটনায় আটক সাখাওয়াত ইকবাল অভিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে।
তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার থাকত শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে শেরেবাংলা হল থেকেই তার রুমমেট মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। মিজান বুয়েটের ওয়াটার রিসোর্সেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। তবে আবরারের বাবার করা হত্যা মামলায় ১৯ জনের মধ্যে মিজানের নাম ছিল না। ওই মামলার এজাহারের ১১ নম্বর আসামি হোসেন মোহাম্মদ তোহাকে গতকাল বিকেল ৩টার দিকে গাজীপুরের মাওনা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। যন্ত্র প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র তোহা থাকতেন শেরেবাংলা হলের ২১১ নম্বর কক্ষে। তিনি হল শাখা ছাত্রলীগের রাজনীতির পাশাপাশি আবরার হত্যার ঘটনায় জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছে ডিবি।
অভিযোগ রয়েছে, ফেইসবুকে বাংলাদেশ-ভারত চুক্তি নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দেওয়ার জের ধরে আবরার ফাহাদকে গত ৬ অক্টোবর রাতে তার রুম থেকে ডেকে ২০১১ নম্বর রুমে নিয়ে যায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। এরপর রাত ৩টার দিকে হলের নিচতলা ও দোতলার সিঁড়ির করিডর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গত সোমবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে আবরারের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, ‘ছেলেটিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।’