প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে অধীনস্থ সংস্থাগুলোর জন্য ১৪ দফা নির্দেশনা দিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। গত বুধবার এ নির্দেশনা সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করেছে মন্ত্রণালয়।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন গণপূর্ত অধিদপ্তর সরকারি স্থাপনা নির্মাণ করে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রাতিষ্ঠানিক দল গণপূর্ত অধিদপ্তরের ১০টি দুর্নীতির উৎস চিহ্নিত করে। এসব দুর্নীতি প্রতিরোধে ২০ দফা সুপারিশও করেছে। গত বুধবার সচিবালয়ে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের হাতে তুলে দেন দুদকের কমিশনার মো. মোজাম্মেল হক খান। এরপরই এ পরিপত্র জারি করল গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।
১৪ দফা নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে নতুন প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে যোগ্যতাসম্পন্ন তৃতীয়পক্ষের মাধ্যমে বিস্তারিত সম্ভাব্যতা যাচাই করতে হবে। এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় দলিলপত্রসহ উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে। স্থাপনা নির্মাণ-সংক্রান্ত প্রকল্পের ক্ষেত্রে কারিগরি পরীক্ষা ডিপিপিতে সংযুক্ত করতে হবে। বিশেষ কারণ ছাড়া চলমান প্রকল্পের ব্যয়, মেয়াদ বৃদ্ধি এবং সংশোধন করা যাবে না। জরুরি প্রয়োজনে মন্ত্রণালয়ের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তার মাধ্যমে সরেজমিন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রকল্পের ড্রয়িং ও ডিজাইন চূড়ান্ত করে মোট ব্যয় প্রাক্কলনের পর প্রকল্প অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াকরণ করতে হবে। এর আগে কোনো অবস্থায়ই ডিপিপি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো যাবে না। প্রকল্পের আইটেমের পরিমাণ এবং আইটেম অনুযায়ী প্রাক্কলিত ব্যয়ের যথার্থতা সংস্থাপ্রধান এবং সংস্থাপ্রধানের মনোনীত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মাধ্যমে যৌথভাবে প্রত্যয়ন করতে হবে। প্রাক্কলনের সঙ্গে রেট শিডিউল বা বাজার মূল্যের অসামঞ্জস্য থাকলে সংস্থাপ্রধানের মনোনীত কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
পুনঃকার্যাদেশ, অতিরিক্ত কার্যাদেশসহ এ ধরনের কাজ নিরুৎসাহিত করতে হবে। ক্ষেত্রবিশেষে যৌক্তিক কারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের পুনঃকার্যাদেশ বা অতিরিক্ত কার্যাদেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয়নীতি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। সংস্থার কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি নিয়মিতভাবে পুনর্গঠন করতে হবে। কাজ বা ক্রয়ের চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে অবশ্যই মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে হবে।
প্রকল্প পরিচালক প্রকল্প এলাকায় সার্বক্ষণিক অবস্থান করবেন। সংস্থাপ্রধানসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের সিনিয়র কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে প্রকল্প এলাকা আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক বা আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করবেন। ক্রয়কারী কর্তৃপক্ষকে যোগ্যতাসম্পন্ন সরবরাহকারী বা ঠিকাদারের তালিকা সংরক্ষণ করতে হবে। প্রকল্প সাইটে সাইট অর্ডার বুকসহ প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজের সব নথি সংরক্ষণ করতে হবে। প্রকল্প সাইটের দৃশ্যমান স্থানে প্রকল্পের সব তথ্য সংবলিত সাইনবোর্ড স্থাপন
করতে হবে। প্রকল্পের আওতায় নির্মিত স্থাপনার উপকরণের গুণগত মান উপযুক্ত ল্যাবরেটরির মাধ্যমে নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে।
এদিকে জি কে বিল্ডার্সের একক বা যৌথভাবে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে দ্রুত কাজ শেষ করতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় নির্দেশনা দিয়েছে গণপূর্ত অধিদপ্তরকে।