ঘুষের টাকা দিতে দেরি করায় জেলেকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে পশ্চিম সুন্দরবনের নীল কমল ক্যাম্পের ওসি শ্যাম প্রসাদ রায়ের বিরুদ্ধে। বিষয়টি সম্পর্কে ওসির কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মানুষ মাত্রই তো ভুল, এ নিয়ে নিউজ কেন করবেন।’ এদিকে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়ে সাতক্ষীরার আশাশুনির মনিপুর গ্রামের আহত জেলে আবদুল হান্নান গাজী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
হান্নান জানান, পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগের পাস পারমিট নিয়ে ১২ মাসই তারা সাগরে মাছ ধরেন। আর এজন্য তারা বন বিভাগের দুবলা অফিসে নিয়মিত রাজস্বও দেন। তবে সাগরে যেতে জেলেদের পশ্চিম সুন্দরবনের নীল কমল ক্যাম্পের সামনে দিয়ে যেতে হয়। এ কারণে নীল কমলের ওসি শ্যাম প্রসাদ রায় প্রতি গোনে (অমাবস্যা ও পূর্ণিমা) ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করে ঘুষ নিয়ে থাকেন। গত অমাবস্যার গোনে ৩০টি নৌকার জন্য ওসিকে আগাম ৯০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। বাকি টাকা দিতে বিলম্ব হওয়ায় গত রবিবার বেলা ১২টার দিকে তাকে বেধড়ক মারধর করে ওই টাকা নিয়ে নেন ওসি। এ সময় ওসি এবং তার অফিস স্টাফ ইকরাম ও মঞ্জু ৩০টি নৌকা থেকে প্রায়
৩০০ পিস ইলিশ মাছ নিয়ে যান। পরে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে অন্য জেলেরা খুলনার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এছাড়া ওসি শ্যাম রায়ের বিরুদ্ধে কয়রার জেলে গনি, খালেক, রাজ্জাক, সাইদ, ইসহাক, আজিজুল ও ডুমুরিয়ার শংকর, সুধান্ন ও দিলিপের কাছ থেকে মাছধরা বাবদ নিয়মিত ওই নির্দিষ্ট অঙ্কের ঘুষের টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। তার দাবিকৃত ওই টাকা না
দিলে তিনি নানা অজুহাতে মামলা দিয়ে জেলেদের অহেতুক হয়রানি করেন বলে জানান ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) বসির আল মামুন বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ওসি শ্যাম প্রসাদ রায়ের কাছে মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মানুষ মাত্রই ভুল, এ নিয়ে আবার নিউজ করবেন কেন।’ ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে ওসি বলেন, ‘আসেন সাক্ষাতে কথা বলব। আর বিষয়টি সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) আবু সালেহ স্যার জানেন।’ তবে এসিএফ সালেহকে ফোন দেওয়া হলে তিনি বলেন, ‘খোঁজ-খবর নিয়ে জানাব।’ পরে তিনি আর ফোন ধরেননি।