আবরার হত্যাকাণ্ড অনেক ঘটনার সমষ্টি : পুলিশ

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শেরেবাংলা হলের ছাত্র আবরার ফাহাদ রাব্বী (২২) হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে অনেক ঘটনা রয়েছে জানিয়ে পুলিশ বলছে, নির্দিষ্ট কোনো মোটিভ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) জনসংযোগ শাখায় সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ডিএমপির অ্যাডিশনাল কমিশনার মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, একটিমাত্র

কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে তা এখনই বলা যাবে না। ঘটনার মোটিভ সম্পর্কে জানতে আমাদের আরও কয়েক দিন সময় লাগবে।

মনিরুল ইসলাম বলেন, আবরার হত্যাকাণ্ডে এ পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এজাহার দায়েরের আগেই পুলিশ সদস্যরা তদন্ত শুরু করেন। এ কারণে মামলা হওয়ার আগেই আমরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ১০ জনকে আটক করতে সক্ষম হই। এর বাইরে বিভিন্ন সময়ে আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে তিনজনই এজাহারের বাইরে। তিনি বলেন, অমিত সাহা, মিজানুর রহমান ও শামসুল আরেফীন রাফাতের নাম এজাহারে না থাকলেও ঘটনার সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের আরেক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, এই সংবাদ সম্মেলনের পর এজাহারের বাইরের আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬।

সংবাদ সম্মেলনে অমিত সাহার ব্যাপারে মনিরুল বলেন, একজন মানুষ ঘটনাস্থলে থেকেও ঘটনা সংঘটিত করতে পারে। আবার দেখা যায়, ঘটনাস্থলে না থেকেও করতে পারে। প্রাথমিক তদন্তে আমাদের কাছে মনে হয়েছে অমিত সাহা ঘটনাস্থলে ছিল না। তবে এই ঘটনায় তার দায়দায়িত্ব রয়েছে। প্রত্যক্ষ না হলেও পরোক্ষ দায়দায়িত্ব রয়েছে, সে কারণেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করার ব্যাপারে পুলিশ সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে বলে জানান তিনি।

টর্চার রুমে কার কী ভূমিকা ছিল এ প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে আমরা পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার পরই বলতে পারব। রিমান্ডে থাকা আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আমরা একটা ক্লিয়ার পিকচার নেওয়ার চেষ্টা করছি। পুরোপুরি পরিষ্কার পিকচার পেতে আমাদের আরও কয়েক দিন সময় লাগবে। তিনি জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ঘটনার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে চাইছে। তাদের দেওয়া তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করে তদন্তকাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে।

হত্যাকাণ্ডের মোটিভ কী ছিল তা জানতে চাইলে মনিরুল ইসলাম বলেন, মোটিভ খুঁজে বের করাটা আমাদেরও তদন্তের মূল বিষয়। তাকে কি হত্যার উদ্দেশ্যে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল সেটা আমরা তদন্ত করছি। তদন্ত শেষ করার আগে আমরা মোটিভ সম্পর্কে এখনই কিছু বলতে চাচ্ছি না। আমরা প্রাথমিকভাবে যা জেনেছি তা হলো অনেকগুলো ঘটনার সমষ্টি। তাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই যে আনা হয়েছিল, এটার ব্যাপারে আমরা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি।

শিবির সন্দেহে মারধর শুরু করা হয়েছিল কি না জানতে চাইলে পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুল বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি অনেকগুলো কারণের মধ্যে এটি একটি কারণ হতে পারে। এটিই একমাত্র কারণ কি না তা এখনই বলা যাবে না। আরও কারণ থাকতে পারে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার পর টহল পুলিশের কী ভূমিকা ছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, হলের ভেতর কাউকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছেÑ এ রকম কোনো তথ্য পুলিশের কাছে ছিল না। গ-গোলের খবর পেয়ে পুলিশের একটি টহল টিম হলের সামনে গিয়েছিল। কিন্তু সেখানে অবস্থান করে গণ্ডগোলের কোনো লক্ষণ পাননি তারা। ভেতর থেকেও জানানো হয় কোনো সমস্যা নেই। মনিরুল ইসলাম বলেন, ভেতরে নৃশংস ঘটনা ঘটছে এ বিষয়ে আমাদের জানা থাকলে আমরা সবাই সেখানে ছুটে যেতাম। অতীতেও আমরা এভাবে ভেতরে প্রবেশ করছি।

আবরার নিহতের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে মনিরুল ইসলাম বলেন, আমরা জানলে হয়তো এই অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা হতে পারত না। আমরা যখন জেনেছি, তখন কিন্তু মামলা দায়েরের আগেই ১০ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছি। আমাদের আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের কোনো ঘাটতি ছিল না। ভেতরে একটা ঘটনা ঘটছে, সেটা জানা থাকলে আমরা রেওয়াজ অনুযায়ী কর্র্তৃপক্ষের পারমিশন নেওয়ার অপেক্ষা করতাম না।

সংবাদ সম্মেলনে মনিরুল ইসলামের পাশে থাকা অতিরিক্ত কমিশার (ডিবি) আব্দুল বাতেন বলেন, ঘটনার রাতে হলের সামনে টহল পুলিশের টিম ৩০-৪০  মিনিট অপেক্ষা করার পর ছাত্ররাই বলেছে, ভেতরে কোনো সমস্যা নেই।

রাজি থাকলে হল প্রশাসনের কর্মকর্তাদেরও সাক্ষী করা হবে : সংবাদ সম্মেলনে অপর এক প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে হল প্রশাসের যারা উপস্থিত ছিলেন তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। প্রয়োজনে তারা রাজি থাকলে তাদের এই মামলার সাক্ষী করা হবে।