আবরার হত্যা : ছাত্ররাজনীতি ও শিক্ষকরাজনীতি

বেশ কিছুদিন ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা ঘটনা খবরের কাগজ এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার শিরোনাম হিসেবে আসছিল। এগুলোর প্রায় সবগুলোই ছিল মূলত সরকারি দলের শিক্ষক এবং ছাত্রনেতাদের অপকর্ম নিয়ে। যেসব ঘটনা সংবাদপত্রে পড়েছি, ভিডিওতে দেখেছি সেসব আমাদের বাক্রুদ্ধ করেছে। আবার একই সঙ্গে রাজধানীর নামিদামি খেলার মাঠকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ক্লাবগুলোতে অবৈধভাবে রমরমা ক্যাসিনো ব্যবসার সঙ্গে সরকারি দলের যুব সংগঠনের সংবাদেও দেশবাসী স্তম্ভিত। খেলাধুলা বা শরীরচর্চার মাঠ আর মস্তিষ্ক বা জ্ঞানচর্চার মাঠ দুটোই আজ আলোচনার শীর্ষে।

প্রশ্ন হলো, বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদ ছেলেটার ওপর তাদের এত রাগ কেন? এত ক্রোধ জন্মাল কীভাবে? কেন এ রকমভাবে মারল? ওর সারা শরীর সেদিনের সেই নির্মম মারের চিহ্ন বহন করছে, যা দেখলে প্রশ্ন জাগে : ছাত্ররা কীভাবে এত পাষাণ হলো? এটা কি দল এবং দলের নেত্রীর প্রতি আনুগত্য প্রকাশের মাত্রা বোঝাতেই করেছে? তারা কি নিশ্চিত ছিল যে এটা করলে দল তাকে তিরস্কৃত করার চেয়ে পুরস্কৃত করবে? তাই এসব প্রশ্নের সঠিক উত্তর বের করে সঠিক ব্যবস্থা না নিলে দিনে দিনে আবরারদের সংখ্যা বাড়তেই থাকবে। আবরারকে যখন ডেকে নিয়ে যায় বলা হয়েছিল সে যেন ওর ল্যাপটপ আর মোবাইল সঙ্গে করে নিয়ে টর্চার সেলে যায়। শুনেছি আবরার মারা যাওয়ার পর ওর রুমে অনেকগুলো বইয়ের মধ্যে জধষভ উড়নবষষর-এর ঞযব ধৎঃ ড়ভ ঃযরহশরহম পষবধৎষু শিরোনামের একটি বই পাওয়া যায়। আবরারকে বুঝতে হলে এটাও জানা দরকার। যে এই বই পড়ে সে হলো সত্যিকারের শিক্ষার্থী যে, পুথিগত বিদ্যা অর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। সে তার চিন্তার জগৎকে শানিত করে পরিষ্কারভাবে চিন্তা করার চেষ্টা করছিল।

এর আগের ঘটনা। সম্প্রতি আমাদের প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে যান। সেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সফরেই দুদেশের মধ্যে কিছু চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকে সই হয়। যেমনÑ ফেনী নদীর পানি থেকে ভারতকে পানি দেওয়া, কোস্টে রাডার বসিয়ে ভারতকে আমাদের জায়গা নজরে রাখার অধিকার দেওয়া, বিদেশ থেকে গ্যাস এনে এলপিজি গ্যাস ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে রপ্তানির চুক্তি করা ইত্যাদি। এগুলো সবই আমাদের থেকে দেওয়ার চুক্তি কিন্তু এসবের বিনিময়ে আমরা কী পেলাম? অর্থাৎ এই সফর থেকে আমরা কী পেলাম? এই প্রশ্ন মানুষের মনে আসবেই এবং উত্তরের খাতায় শূন্য বা প্রায় শূন্য পড়লে মন খারাপ হবেই। এতে আবরার ক্ষুব্ধ হয়। ক্ষুব্ধ হয়ে এই চুক্তির বিরুদ্ধে ফেইসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেয়। তাতে সরকারি দলের ছাত্র সংগঠনের নেতারা ক্ষুব্ধ হন। এখন প্রমাণ করতে হবে তাদের নেত্রী ও দলের প্রতি তারা কত নিবেদিত। দল ও দলের নেতানেত্রীর গোলামি আর চামচামিই এখনকার সমাজে বড় নেতা হওয়ার সিঁড়ি। মানুষের জন্য কাজ করে, মানুষের ভালোবাসা অর্জন করে, দেশের মঙ্গল হয় এমন কাজ করে নেতা হওয়ার রাস্তা অনেক আগেই বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

আবরার শেরেবাংলা হলের আবাসিক ছাত্র ছিল। যেই টর্চার সেলে আবরারকে রাতভর মেরেছে সেটা কি সেইদিনই জন্মেছিল? শুনেছি এই টর্চার সেলে প্রায়ই ছাত্রদের ডেকে নিয়ে মারধর করা হতো। পার্থক্য হলো অন্যসব ক্ষেত্রে ছাত্রগুলো শারীরিকভাবে মরেনি আর আবরার শারীরিকভাবে মরেছে। তাহলে এই টর্চার সেল থাকার জন্যই কি হল প্রশাসন আবরার হত্যায় দায়ী নয়তো? আমি ভাবছি এ রকম একটি নারকীয় হত্যার পরও প্রভোস্ট কীভাবে প্রভোস্ট থাকেন? রাতে ঘুমাতে পারছেন? নিজের সন্তানের দিকে তাকালে কষ্ট হয় না যে আবরারের বাবা-মা চিরদিনের জন্য, আপনাদের ব্যর্থতার জন্য, সারা জীবনের জন্য সন্তানহারা হয়েছেন? আবরার হত্যার পরও বুয়েটের ভিসি কীভাবে ভিসি থাকেন? সাধারণ বাবা-মায়েরা তাদের কলিজার ধন সন্তানদের আপনার জিম্মায় দিয়েছেন। আপনার মনে হয় না এই হত্যার দায় আপনারও? এত কিছুর পরও কীভাবে ভিসি থাকেন? এত কিছুর পরও সরকারি দলের সাধারণ সম্পাদক কীভাবে বলেন, ‘ছাত্রলীগের অনেক ভালো কাজও আছে?’ কী ভালো কাজটি আছে? গৌরবোজ্জ্বল অতীত দিয়ে কলঙ্কিত বর্তমানকে সিদ্ধ করতে চাওয়া কি ঠিক? মানুষকে বোকা ভেবেছেন? এতে তো ওরা আরও আশকারা পায়! বুধবার প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ ও ভারত সফর উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে বুয়েটের ঘটনা নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘কে ছাত্রদল আর কে ছাত্রলীগ, তা দেখা হবে না। কেউ যদি কোনো অপরাধ করে, তা কোন দলের কে করে, সেটা দেখি না। অপরাধী হিসেবেই চিহ্নিত করি।’ তিনি আরও বলেন, ‘বুয়েটে আমাদের একাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন, নিহত হয়েছেন। কয়টার বিচার হয়েছে?’ যদিও আমি মনে করি, শেষের কথাটি না বললেই ভালো হতো। এটি এই কথা বলার সময় নয়!

শুধু কি বুয়েটেই এই অবস্থা? বাংলাদেশের প্রতিটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় আজ শিক্ষক ও ছাত্ররাজনীতির হাতে জিম্মি। এটাকে আমি রাজনীতি বলব না। প্রায় প্রতিটি হলের প্রভোস্ট এখন সরকারি দলের শিক্ষক। প্রায় প্রতিটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আজ সরকারি দলের শিক্ষক নেতা। এরাই সরকারি ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে মিলেমিশে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নরকে পরিণত করেছেন? কেন প্রভোস্ট আর ভিসিরা কি জানেন না প্রতিটি হলেই টর্চার সেল আছে, যেখানে ছাত্রছাত্রীদের নিয়মিত মারধর করে? জোর করে মিটিং-মিছিলে নিয়ে যায়? তারা কি জানেন না ছাত্ররা গণরুমে কি অবর্ণনীয় কষ্টে জীবনযাপন করেন। তারা কি কখনো সরকারের কাছে বরাদ্দ চেয়ে এর সমাধান করার চেষ্টা করেছেন? কেবল একটি মৃত্যু হলেই দুদিন সোচ্চার হই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক হলে আবুবকরকে মেরে ফেলেছিল। বিচার হয়েছে? আবরার হত্যারও বিচার হবে না। এই বিশ্বাস জন্মেছে বলেই এ ঘটনা ঘটতেই থাকবে।

আবরার হত্যার পরদিন সকালে ফেইসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছিলাম, একটি দেশ তখনই সুন্দর হয়, যখন সেই দেশে একটি থ্রেশোল্ড পরিমাণ প্রতিবাদী মানুষ থাকে। বর্তমান বাংলাদেশে রক্তের শ্বেতকণিকাসম এই প্রতিবাদী মানুষের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। তাই বলা যায়, বাংলাদেশ এখন ক্যানসারে আক্রান্ত। রক্তের শ্বেতকণিকাসম এই প্রতিবাদী মানুষের সংখ্যা থ্রেশহোল্ড থেকে নিচে নেমে গেলে সমাজে ভাইরাস আর ব্যাকটেরিয়াসম মানুষদের জয়জয়কার প্রতিষ্ঠিত হয়। ওরা তখন বেপরোয়া হয়ে উঠে রক্তের শ্বেতকণিকাসম মানুষের সংখ্যাকে আরও কমানোর জন্য। বর্তমান বাংলাদেশ মহাদুর্যোগের মধ্য দিয়ে পার হচ্ছে, যেখানে মূর্খ, ভণ্ড আর শয়তানরা উল্লাসে মত্ত আর ভালো মানুষরা কোণঠাসা। আমার ওই স্ট্যাটাসটি পড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের মা আমার ফোন নম্বর জোগাড় করে ফোন করে  বলেছেন, ‘আপনি বললেন আমাদের প্রতিবাদী হতে আর আমি প্রতিদিন আমার সন্তানকে বলি মাথা নিচু করে যাবা আবার বাসায় ফিরে আসবা। কোনো মিছিল, প্রতিবাদ কিংবা রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হবা না। প্রতিবাদ করলে তো সন্তানহারা হতে হয় স্যার।’ বলে কাঁদতে লাগলেন। দুই প্রান্তেই কিছুক্ষণ নীরবতা তারপর কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে বললেন, ‘আপনার প্রতিটি লেখা প্রতিদিন দু-তিনবার করে পড়ি। সন্তানকেও পড়তে দিই।’ এরপর আর কথা বলতে পারেননি। আমিও ফোন রেখে কিছুক্ষণ বিছানায় শুয়ে ছিলাম। আর অশ্রুজলে ভিজেছি। আমাদের এই কান্নাকে শক্তিতে রূপান্তরিত করতে হবে। রাজনীতিবিদরা তাদের নিজেদের স্বার্থে ক্যাম্পাস, আবাসিক হলের ছাত্রছাত্রীদের এ রকম পাষাণ, খুনি বানিয়ে দেবে আর আমরা চেয়ে চেয়ে দেখেই যাব?

বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা অপ্রীতিকর ঘটনাকে এত দিন আমরা বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে চালিয়ে দিয়েছিলাম। সারা দেশে যেই পরিমাণ অন্যায়-দুর্নীতি ঘটেছে, সেই তুলনায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভালোই ছিল। কিন্তু কথায় আছে, নগর পুড়িলে দেবালয় এড়ায় না। আজ কিছুদিন ধরে তারই আলামত স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি। একসময় দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল প্রতিবাদী মানুষের সূতিকাগার। শিক্ষার মানের সঙ্গে প্রতিবাদী মানুষের সংখ্যার একটি সম্পর্ক আছে। পেছন ফিরে তাকালে স্পষ্ট হবে যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবাদী কণ্ঠের সংখ্যা দিন দিন কন্সিস্টেন্টলি কমেছে এবং সেই সঙ্গে শিক্ষার মানও কমেছে। আমরা যখন ছাত্র ছিলাম তখন দেখেছি ক্যাম্পাসে একটি লাশ পড়লে ছাত্র-শিক্ষকরা কী রকম বিক্ষোভে ফেটে পড়তেন। কিন্তু সেটাও লক্ষ করেছি, এই বিক্ষোভের মাত্রা দিন দিন কমেছে। আস্তে আস্তে কমেছে বলে অনেক দিন টের পাইনি। কিন্তু থ্রেশহোল্ড মাত্রার চেয়ে কমে যাওয়ায় এখন দৃশ্যমান। এখন যেহেতু খারাপের সংখ্যা বেশি, তাই একটি ভীতির সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। সবাই এখন নিরাপদ থাকতে চান। বাবা-মা সন্তানদের বলে কিচ্ছুতে যাবা না। দেখবা কিন্তু বলবা না। আর কিছু করার চিন্তাও করবা না। এর মাধ্যমে খারাপরা আরও শক্তিশালী হয়ে এখন দৈত্যের শক্তি নিয়ে আমাদের সামনে মূর্তিমান। যারা করে তাদের গডফাদাররা বলেন, এগুলো অনুপ্রবেশকারীরা ঢুকে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার ষড়যন্ত্র করছে। বাহ! কি সুন্দর বচন!

বুয়েটে আবরার হত্যার বিচার চেয়ে ছাত্ররা বিক্ষোভ করছেন। অনেক দাবির মধ্যে ছাত্রছাত্রীদের একটি বড় দাবি হলো বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করতে হবে। ছাত্ররাজনীতির আগে বন্ধ করতে হবে শিক্ষক রাজনীতি। অনেকেই ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি বন্ধের বিরুদ্ধেও বলছেন। যেই রাজনীতি বন্ধের কথা বলা হচ্ছে, সেটি হচ্ছে মূল দলের অঙ্গসংগঠন হিসেবে রাজনীতি বা লেজুড়বৃত্তি রাজনীতি। ছাত্র-শিক্ষকের লেজুড়বৃত্তি-ভিত্তিক রাজনীতি যত দিন বন্ধ না হবে, তত দিন আবরাররা মার খেতেই থাকবে। তত দিন আবরাররা মরতেই থাকবে। পৃথিবীর কোনো দেশে ছাত্র-শিক্ষকরা এ রকম লেজুড়বৃত্তি রাজনীতি করেন? কিছুটা হয়তো ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আছে। সত্যিকারের ছাত্ররা থাকবে স্বাধীন, মুক্ত, যাতে মুক্ত চিন্তা করতে শিখে। যখন যেখানেই অন্যায় দেখবে প্রতিবাদ করতে শিখে। কে খুশি হবে আর কে বিরাজ হবে, সেটা দেখা ছাত্রের কাজ নয়। যেখানে এই লেভেলের লেজুড়বৃত্তি রাজনীতি নেই, সেখানে কি ছাত্র আন্দোলন হয় না? প্রতিবাদ হয় না? সাম্প্রতিক নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, কোটাবিরোধী আন্দোলন এই দুটি আন্দোলন কি প্রথাগত ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছাত্রনেতাদের দ্বারা গড়ে ওঠা আন্দোলন? সাধারণ ছাত্ররা। অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে হলে কি মূল রাজনৈতিক দলের অংশ হতে হবে? বরং লেজুড়বৃত্তির রাজনীতি যারা করে তারা এখন ভালো আন্দোলনকে থামিয়ে দেয়। লেজুড়বৃত্তি ছাত্ররাজনীতি যারা করে তারা কেউ ছাত্রদের জন্য রাজনীতি করে না। তারা তাদের মনিবের জন্য রাজনীতি করতে গিয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছে। লেজুড়বৃত্তির শিক্ষক রাজনীতি যারা করে তারা কি শিক্ষার মান বৃদ্ধির জন্য, ছাত্রদের লেখাপড়ার পরিবেশ বৃদ্ধির জন্য রাজনীতি করে? এখন যেই ছাত্রদের রাজনীতি হচ্ছে সেটা কি ছাত্ররাজনীতি? এখন শিক্ষকদের যেই রাজনীতি হচ্ছে সেটা কি শিক্ষক রাজনীতি? এগুলো সব আপন লাভের আশায় নিজের বিবেককে বন্ধক দিয়ে অপরাজনীতি করছে। এদের চিহ্নিত করে বিতাড়িত করতে হবে।

প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে নিজেকে যোগ্য প্রমাণ করে বুয়েটের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। প্রায় অনুরূপ কথা প্রযোজ্য বাংলাদেশের প্রতিটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে। একটি আসনের জন্য কতজন ছাত্র যুদ্ধ করে? সেই ছাত্রদের কারা এমন বানায়? এটা কি অজানা? বুয়েটের যেই ছাত্ররা আবরারকে খুন করেছে, তারা প্রথম বর্ষে যখন ভর্তি হয়েছিল এ রকম ছিল? তাদের স্বপ্ন, তাদের মসনদ নির্বিঘœ করতে গিয়ে কতশত বাবা-মায়ের সোনার ছেলেমেয়ে তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎকে বলি দিচ্ছে। আমাদের প্রতিজ্ঞা করতে হবে আবরারই শেষ। আর একটি ছাত্রের ভবিষ্যৎ নষ্ট হতে দেব না। পুতুলনাচের সেই সুতাগুলা কেটে দিতে হবে। ছাত্রদের ছাত্রের মতো বাস করতে দিতে হবে।

লেখক

অধ্যাপক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

khassan@du.ac.bd