ভারতে পালানোর সময় শ্রীমঙ্গলে গ্রেপ্তার মিজান

ভারতে পালানোর চেষ্টাকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান ওরফে মিজানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরওয়ার-বিন-কাশেম জানান, গতকাল শুক্রবার সকালে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার একটি বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর বিকেলে তাকে রাজধানী ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি এবং প্রায় ৩ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রার্থী মিজানকে ঢাকা আনার পর তাকে সঙ্গে নিয়ে লালমাটিয়ায় তার কার্যালয় ও মোহাম্মদপুরের আওরঙ্গজেব রোডের বাসায় তল্লাশি চালায় র‌্যাব। তল্লাশি শেষে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম জানান, মিজানের কার্যালয় ও বাসা থেকে ৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকার চেক ও ১ কোটি টাকার এফডিআর উদ্ধার করা হয়।

এদিকে তার গ্রেপ্তারের খবরে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার মানুষ গতকাল বিকেলে আনন্দ মিছিল করে। বিকেলে র‌্যাব তার বাসা ও অফিসে তল্লাশির সময় কয়েক হাজার মানুষ সেখানে হাজির হয়ে তার ফাঁসির দাবিতে মিছিল শুরু করে। মিছিলের ব্যানারে লেখা ছিলÑ ‘মাদক সম্রাট বিলুপ্ত ফ্রিডম পার্টির নেতা হাবিবুর রহমান মিজান, শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মিজানের ফাঁসি চাই’।

র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঢাকার বাসা ও কার্যালয় থেকে তার স্বাক্ষর করা বেশকিছু চেক ও ১ কোটি টাকার এফডিআর পাওয়া গেছে। ঢাকায় বাড়ি ও ফ্ল্যাটের পাশাপাশি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে একটি বাড়ি করেছেন। অথচ তার বৈধ আয় মাসে মাত্র ৩৬ হাজার টাকা। যেটা তিনি কাউন্সিলরের ভাতা হিসেবে পান।’ তিনি জানান, তাকে শুক্রবার রাতেই শ্রীমঙ্গল পাঠিয়ে দেওয়া হবে। সেখানে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা হবে। এছাড়া ঢাকায় মাদক ও মানি লন্ডারিং আইনে আলাদা মামলা হবে। তিনি এখন আটক না গ্রেপ্তার জানতে চাইলে সারোয়ার আলম বলেন, ‘অবশ্যই গ্রেপ্তার। তার কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র পাওয়া গেছে। অবৈধ অর্থ লেনদেনের প্রমাণও পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগে আমরা তাকে গ্রেপ্তার করেছি। এছাড়া চেক দিয়ে তিনি (মিজান) বৃহস্পতিবারই ব্যাংক থেকে ৬৮ লাখ টাকা তুলেছেন।’ সারোয়ার আলম আরও বলেন, ‘তার সঙ্গে মাদক কারবারিদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।’ ক্যাসিনো পরিচালনায় তিনি সম্পৃক্ত কি নাÑ তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এর আগে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকে কাউন্সিলর মিজানকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, শ্রীমঙ্গল শহরের গুহ রোডে মিজান তার পুরনো প্রতিবেশী ফজলুর রহমানের মেয়ের জামাই মোস্তাক আহম্মেদের বাসায় অবস্থান করছিলেনÑ গোয়েন্দা সূত্রে এ খবর পেয়ে ওই বাসা থেকেই তাকে আটক করা হয়। তিনি পাশের দেশে (ভারত) পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টায় ছিলেন।

প্রয়াত ফজলুর রহমানের স্ত্রী নূরজাহান বেগম জানান, তার মেয়ের জামাই মোস্তাক আহম্মেদ সাত বছর আগে মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে মিজান তাদের বাসায় যান। ওই সময় তার হাতে শুধু একটি ব্যাগ ছিল। এক রাত থেকে পরের দিন (শুক্রবার) তিনি সিলেটে হযরত শাহজালাল (র.)-এর দরগায় যাবেন বলেছিলেন। গত বছরও তিনি একবার এসে এক রাত থেকে পরদিন দরগায় গিয়েছিলেন। নূরজাহান বেগম আরও বলেন, তিনি খারাপ লোক জানলে বাসাতেই ঢুকতে দিতেন না।

নূরজাহান বেগমের মেয়ে শিউলি বলেন, মিজান আমার স্বামীর বন্ধু ছিলেন। এ কারণে আগেও কয়েকবার আমাদের বাসায় এসেছেন। তার কাছে হানিফ বাসের টিকিট দেখে বোঝা গেছে, এবার তিনি বাসে করে শ্রীমঙ্গল এসেছেন। আগে গাড়ি নিয়ে আসতেন।