কাফরুলে একই পরিবারের তিনজনের লাশ

হতাশা থেকে স্ত্রী-সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা!

রাজধানীর কাফরুলের বাসা থেকে উদ্ধার স্বামী-স্ত্রী ও তাদের একমাত্র সন্তানের মরদেহের ময়নাতদন্ত গতকাল শুক্রবার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সম্পন্ন হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বিষক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশের ধারণা, আর্থিক সমস্যার কারণে হতাশা থেকে স্ত্রী-সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেন সরকার মোহাম্মদ বায়েজিদ ওরফে এসএম বায়েজিদ (৪৭)।

গত বৃহস্পতিবার কাফরুল থানা এলাকার মিরপুর-১৩ নম্বর সেকশনের একটি বাসা থেকে বায়েজিদ, তার স্ত্রী অঞ্জনা (৪০) এবং তাদের একমাত্র সন্তান ফারহানের (১৭) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ডা. একেএম মঈন উদ্দীন জানান, তিনটি লাশেরই কিডনি, লিভার ও পাকস্থলী থেকে টিস্যু সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলো এখন পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের সময় বায়েজিদের   

গলায় একটি দাগ দেখা গেছে। তার মুখে বিষের গন্ধ পাওয়া গেছে। তার স্ত্রী অঞ্জনা ও তার ছেলে ফারহানের পাকস্থলীতেও বিষের গন্ধ পাওয়া গেছে। সব রিপোর্ট হাতে পেলে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান তিনি।

স্বজনরা জানান, বেশ কয়েকটি ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন বায়েজিদ। প্রতিটি ব্যবসাতেই তার বড় ধরনের লোকসান হয়। মূলত তিনি ছিলেন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী। অংশীদারত্বের ভিত্তিতে ব্যবসা করায় কোনোটাতেই সফলতা পাননি তিনি। এর মধ্যে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণও নেন। একের পর এক লোকসান হওয়ায় তিনি হতাশ হয়ে পড়েন। বেশ কিছুদিন ধরে বাসায়ই থাকতেন তিনি। কাফরুল থানার ওসি সেলিম উজ-জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, তাদের ধারণা ব্যবসায় ধারাবাহিক লোকসান এবং হতাশা থেকে স্ত্রী ও সন্তানকে বিষ প্রয়োগে হত্যার পর নিজে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন বায়েজিদ। লাশ উদ্ধারের পরে ওই বাসায় পাওয়া বেশকিছু চিরকুট থেকেও তার হতাশ হয়ে পড়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।