সিরিয়ার উত্তরে লড়ছে যারা

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় কুর্দি অবস্থান লক্ষ্য করে গত বুধবার থেকে অভিযান চালানো শুরু করেছে তুরস্ক। কুর্দিদের সমর্থনে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের পরই তুরস্ক এ অভিযান চালানো শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই রাশিয়া-ইরান ছাড়াও আরও অনেক দেশ তুরস্ককে অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। এমনকি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তুরস্ক ও কুর্দিদের মধ্যে মধ্যস্থতার আহ্বান জানিয়েছেন।

তুর্কি যুদ্ধবিমান সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তে কুর্দি অবস্থান লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে। এ অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন পিস স্প্রিং’। বিমানবাহিনীর সঙ্গে ট্যাংক ও সাঁজোয়া যানও অভিযানে অংশ নিচ্ছে। নতুন এই যুদ্ধে তুরস্কের পাশে আছে ১৮ হাজার সিরীয় যোদ্ধা। এ যোদ্ধাদের অধিকাংশই এতদিন সিরিয়ান ন্যাশনাল আর্মির অধীনে যুদ্ধ করছিল। অন্যদিকে দ্য কুর্দিশ পিপলস প্রোটেকশন ইউনিট (ওয়াইপিজি) একটি জোট গঠন করেছে সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) নামে। এই জোট কুর্দিরা ছাড়াও আছে বেশ কয়েকটি আরব দল। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মদদে তৈরি হওয়া ওই জোট ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে ব্যাপক সফলতা পায়। এ জোটে আছে প্রায় ১১ হাজার সৈন্য।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের যুদ্ধবিমানের সহায়তা ছাড়া কুর্দি নেতৃত্বাধীন এসডিএফ তুরস্কের বিরুদ্ধে কোণঠাসা অবস্থায় পড়বে। তুরস্কের যুদ্ধবিমানের হামলা থেকে বাঁচতে কুর্দিরা ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের কাছে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে ‘নো ফ্লাই জোন’ ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছে। এসডিএফ ও ওয়াইপিজি এখন নিজেদের বাঁচাতে একজোট হয়ে তুরস্কের অভিযানের বিরুদ্ধে লড়ছে। তুরস্কের কাছে কুর্দি নেতৃত্বাধীন ওয়াইপিজি একটি সন্ত্রাসী দল। অথচ এই দলটির সঙ্গেই চুক্তিভিত্তিতে ইসলামিক স্টেটবিরোধী লড়াইয়ে নেমেছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ২০১৮ সালে ইসলামিক স্টেটের আনুষ্ঠানিক পতনের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিরিয়া থেকে দুই হাজার সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। তখন পেন্টাগনের অনুরোধে ওই প্রত্যাহার ঘোষণা পিছিয়ে যায়।

তবে অক্টোবরের ৬ তারিখ সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকা থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় ওয়াশিংটন। এ সুযোগই কাজে লাগায় তুরস্ক। দীর্ঘদিনের শত্রু কুর্দি ওয়াইপিজিকে দমনে অভিযান শুরু করে তুর্কি বাহিনী। যদিও তুরস্কের দাবি, তারা সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে শরণার্থীদের জন্য একটি ‘সেফ জোন’ তৈরির জন্যই অভিযান পরিচালনা করছে। সীমান্ত থেকে ১২০ কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত হবে এই সেফ জোন।