ঢাকা-লক্ষ্মীপুর নৌপথের লক্ষ্মীপুর প্রান্তে মেঘনা নদী ড্রেজিং

সমীক্ষা ছাড়াই প্রকল্প গ্রহণে আপত্তি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুসারে ৫০ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দে প্রকল্প নিতে হলে ফিজিবিলিটি স্টাডি বা সম্ভাব্যতা যাচাই করতে হবে। কিন্তু  ঢাকা- লক্ষ্মীপুর নৌপথের লক্ষ্মীপুর প্রান্তে মেঘনা নদী ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্য উন্নয়নে সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়াই নেওয়া হচ্ছে প্রকল্প। এজন্য প্রায় ৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। পরিকল্পনা কমিশন বলছে, সমীক্ষা ছাড়া প্রকল্প নেওয়া হলে অর্থ অপচয়ের ঝুঁকি থাকে। একই সঙ্গে প্রকল্পের বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত ব্যয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে বেতনভুক্ত পরামর্শকের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে ৫৫ লাখ টাকা। প্রকল্পটি নিয়ে পরিকল্পনা কমিশন থেকে আপত্তি জানিয়ে এসব বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার শাকচর ইউনিয়নের চর রমণীমোহন এলাকায় সৃষ্ট চরের কারণে লক্ষ্মীপুর থেকে সরাসরি ভোলা বা ঢাকার দিকে নৌযান চলাচলে ব্যাহত হচ্ছে। এ চরের দক্ষিণ দিকের চ্যানেলে কিছু কম গভীরতার অঞ্চলে খনন করলেই সম্পূর্ণ নৌপথটি চলাচলের উপযোগী করা সম্ভব। এজন্য বিআইডব্লিউটিএ ৭৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প হাতে নিতে চায়। চলতি বছর থেকে ২০২৩ সাল নাগাদ প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য ধরা হয়েছে।

প্রস্তাবিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) বিশ্লেষণ করে পরিকল্পনা কমিশন বলছে, প্রস্তাবিত প্রকল্পে পরামর্শকের জন্য ৫৫ লাখ টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু এ ব্যয়ের বিভাজনীতে পরামর্শকদের বেতন বাবদ ৪৬ লাখ ৫৮ হাজার টাকার হিসাব দেখানো হয়েছে। বেতনভুক্ত পরামর্শকের জন্য আলাদা বরাদ্দ প্রস্তাব করা সমীচীন নয়। এছাড়া পরামর্শকের জন্য সাইট ভিজিট বাবদ দৈনিক ভাতা রাখা হয়েছে। যেহেতু পরামর্শকরা প্রতিমাসে বেতন নেবেন তাই আলাদাভাবে  দৈনিক ভাতা রাখার বিপক্ষে মত দিয়েছে কমিশন। এছাড়া পরামর্শকের জন্য প্রস্তাবিত বেতন ও জনমাস (কতজন কাজ করবেন) বিষয়ে আরও পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে জানানো হয়েছে।

প্রকল্পটি গ্রহণের পূর্বে কোনো সম্ভাব্যতা সমীক্ষাও সম্পাদন করা হয়নি। কেন করা হয়নি তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পরিকল্পনা কমিশন বলছে, শুধুমাত্র বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল প্রতিবেদনের আলোকে ডিপিপি প্রণয়ন করেছে। তাই এ প্রকল্পের যৌক্তিকতা এবং উক্ত নদীপথের বর্তমান অবস্থা, মালামাল ও যাত্রী পরিবহন সম্পর্কিত তথ্য যাচাই-বাছাই করার প্রয়োজন আছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পটি ১২ শতাংশ ডিসকাউন্ট রেট ধরে আয়-ব্যয় বিশ্লেষণে অর্থনৈতিকভবে লাভজনক হলেও আর্থিকভাবে অলাভজনক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রকল্পের উদ্দেশ্য সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া বছরভিত্তিক ব্যয় প্রাক্কলনের ছক সঠিকভাবে প্রণয়ন করা হয়নি। প্রকল্পে ক্যাপিটাল ড্রেজিং এবং সংরক্ষণ ড্রেজিং বাবদ প্রতি ঘনমিটার ১৯০ টাকা হারে প্রস্তাব করা হয়েছে। এই ব্যয় অন্যান্য চলমান প্রকল্পের চেয়ে বেশি, যা যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ করতে হবে বলে মনে করে কমিশন। গতকাল শনিবার এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান কমোডর মোহাম্মদ মাহবুব-উল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবের কোন বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের আপত্তি তা না দেখে বলা যাবে না। প্রকল্প পরিচালক ভালো বলতে পারবেন। তবে রবিবার (আজ) অফিস খুললে প্রকল্পটি দেখে বিস্তারিত বলা যাবে বলে তিনি জানান।

প্রস্তাবিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) থেকে জানা গেছে, ঢাকা-লক্ষ্মীপুর নৌপথের সমস্যাজনিত এলাকায় ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদীর নাব্য উন্নয়ন করে সারা বছর এ রুটে নিরবচ্ছিন্ন নৌযান চলাচলের পথ উন্মুক্ত করা হবে। এজন্য প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। এ প্রকল্পটির যাচাই-বাছাই শেষে বেতনভুক্ত পরামর্শকের সাইট ভিজিটে সম্মানী ভাতার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।