পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গতকাল শনিবার রাজধানীতে খুচরা পর্যায়ে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১১০ টাকা কেজি দরে। আর পাইকারি পর্যায়ে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০-৯৫ টাকা। ডিলাররা বলছেন, মিয়ানমার থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের বড় একটি অংশ পচে গেছে। তাই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে দাম বাড়িয়েছে আমদানিকারকরা। এর প্রভাব পড়েছে বাজারে।
গতকাল শ্যামবাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ডিলার পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকার ওপর, যা এর আগের দিন
৭০-৮০ টাকা ছিল। মিয়ানমারের পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৭০-৭১ টাকা বিক্রি হয়েছে। এর আগের দিন এর দাম ছিল ৬০-৭০ টাকা। এছাড়া সরবরাহ কম থাকলেও ভারতের পেঁয়াজ প্রতি কেজির দাম ছিল ৭০ টাকা। এর আগের দিন যা ৫৮-৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
এ বিষয়ে রাজধানীর শ্যামবাজারের ডিলার আ. রাজ্জাক গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মিয়ানমার পচা পেঁয়াজ দিয়েছে। এতে অনেক পেঁয়াজই ফেলে দিতে হয়েছে। এর ফলে বাজারে সরবরাহ অনেক কমে গেছে। এমনও হয়েছে, অনেকের ৩০ শতাংশ পেঁয়াজই নষ্ট। তাই আমদানিকারকরা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে দাম বাড়িয়েছেন। দাম আরও বাড়বে বলে আমদানিকারকরা জানিয়েছেন।’
ডিলার পর্যায়ে দাম বাড়ায় এর প্রভাব পড়েছে রাজধানীর পাইকারি ও খুচরা বাজারে। গতকাল কারওয়ান বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজের পাইকারি দাম ছিল ৯০-৯৫ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ৭৫-৮০ টাকা। আর মিয়ানমারেরটা কেজিপ্রতি ৭৫-৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।
কারওয়ান বাজারের পাইকার মো. হাবিবুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এবারের চালানে যে পেঁয়াজ আসছে তার মান অত্যন্ত নিম্ন। তাই বেশিদিন রাখা সম্ভব নয়। পচে যাবে। তাই কম করে কিনছে সবাই।’ ‘আড়তদাররা দাম বাড়ানোয় পাইকাররাও দাম বাড়িয়েছে’ বলেও জানান তিনি।
রাজধানীর খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ১০০-১১০ টাকা। বৃহস্পতিবার এর দাম ছিল ৭০-৮০ টাকায়। মিয়ানমারের পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকা, যা কয়েক দিন আগে বিক্রি হয়েছে ৭০-৮০ টাকা।
বাংলামোটর মোড়ে ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা সাইফুল বলেন, ‘দুই দিন ধরে দাম বাড়তি। কিসের জন্য সেটা জানি না। বেশি দামে কিনি আবার বেশি দামে বেচি।’