প্রাকৃতিক তন্তুর ব্যবহার বিষয়ে জাতিসংঘে বাংলাদেশের রেজল্যুশন

প্রাকৃতিক তন্তুর (পাট, তুলা ও সিসাল) ব্যবহারবিষয়ক নতুন একটি রেজল্যুশন ৭৪তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের দ্বিতীয় কমিটিতে বিবেচনার জন্য পেশ করেছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন দেশের পক্ষে দ্বিতীয় কমিটির প্ল্যানারি সভায় ‘কৃষি উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি’বিষয়ক এজেন্ডার (এজেন্ডা-২৪) আওতায় এ প্রস্তাব পেশ করেন। গতকাল শনিবার ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, পরিবেশবান্ধব প্রাকৃতিক তন্তু, পাট, তুলা ও সিসালের ব্যবহার বিষয়ে সদস্যদেশগুলোকে উৎসাহিত করেন রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। তিনি বলেন, কৃত্রিম তন্তুর বিপরীতে প্রাকৃতিক তন্তু ব্যবহারের সুবিধার ক্ষেত্রে এখনো যথেষ্ট জনসচেতনতা সৃষ্টি হয়নি। এ বিষয়ে আমাদের প্রতিশ্রুতি ও সদিচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে সাধারণ পরিষদে একটি রেজল্যুশন গ্রহণ করা প্রয়োজন। এরই প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ ‘প্রাকৃতিক তন্তু যেমন পাট ও সিসালের ব্যবহার’ শীর্ষক খসড়া রেজল্যুশনটি উত্থাপন করল।

মাসুদ বিন মোমেন বলেন, প্রাকৃতিক তন্তু ব্যবহারের বৈশ্বিক সচেতনতা সৃষ্টিতে রেজল্যুশনটি হতে পারে একটি কার্যকর দলিল, যা শুধু উৎপাদনকারী বা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্যই নয়, ভোক্তাদের জন্যও এনে দেবে প্রকৃতিকে বাঁচানোর একটি উত্তম সুযোগ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই রেজল্যুশন টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে এবং পরিবেশ সুরক্ষার আবশ্যিকতাকে এগিয়ে নিতে সদস্যদেশগুলোকে সাহায্য করবে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অর্জিত বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সাফল্যের নানা দিক তুলে ধরেন মাসুদ বিন মোমেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সাহসী ও বাস্তবভিত্তিক নীতি-কর্মসূচি বাস্তবায়নের ফলে কৃষি খাতে আমূল পরিবর্তন এসেছে। গ্রামীণ উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়েছে, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ক্ষমতায়িত হয়েছে, আর ক্ষুদ্র কৃষিজীবী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা স্থানীয় ভিত্তিতে খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থাপনার ফলে সুরক্ষিত রয়েছে। স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, বাংলাদেশ আজ শাকসবজি উৎপাদনে বিশ্বে তৃতীয়, চাল উৎপাদনে চতুর্থ ও মৎস্য উৎপাদনে পঞ্চম স্থান অধিকার করেছে। একসময়ের খাদ্য আমদানিকারক দেশ থেকে আজ খাদ্য রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে। পরিবেশবান্ধব কৃষিপণ্য উৎপাদন ও তা জনপ্রিয় করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। বাংলাদেশ আনীত নতুন এ রেজল্যুশনটিকে সমর্থন করতে স্থায়ী প্রতিনিধি জাতিসংঘের সদস্যদেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান এবং আশা প্রকাশ করেন এটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হবে।