দায়িত্ব পালনের শেষ এক বছরেও একসঙ্গে বসতে পারেননি চার প্রকৌশলী মন্ত্রী। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল গবেষণা কাউন্সিল আইনের খসড়ার খুঁটিনাটি পরীক্ষার জন্য এই চার মন্ত্রীকে দায়িত্ব দিয়েছিল মন্ত্রিসভা। শেষ পর্যন্ত ওই চার প্রকৌশলী মন্ত্রীর সুপারিশ ছাড়াই চূড়ান্ত হচ্ছে ‘বাংলাদেশ প্রকৌশল গবেষণা কাউন্সিল আইন, ২০১৯’-এর খসড়া। অনুমোদনের জন্য খসড়াটি মন্ত্রিসভা বৈঠকের আলোচ্য সূচিতে রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে আজ সোমবার এ বৈঠক হবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রকৌশল গবেষণা কাউন্সিল আইনের খসড়াটি গত বছর মন্ত্রিসভা বৈঠকে নীতিগত অনুমোদন করা হয়েছিল। ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল তৎকালীন সরকারের চার প্রকৌশলী মন্ত্রী আইনটির খুঁটিনাটি পরীক্ষা করে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করবেন। ২০১৪-১৯ মেয়াদের সরকারে চার প্রকৌশল মন্ত্রী ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান। কিন্তু চার মন্ত্রীর শিডিউল এক করতে না পারার কারণে তারা কোনো বৈঠক করতে পারেননি। এসব মন্ত্রীর কোনো ধরনের সুপারিশ ছাড়াই ওই সরকারের অবসান হয়। এরপর ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে পুনরায় আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব নিলে ওই চার মন্ত্রীর তিনজনই নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। চারজনের মধ্যে শুধু ইয়াফেস ওসমান বর্তমান মন্ত্রিসভায় রয়েছেন। তিনি এখানো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্বেই রয়েছেন।
চার প্রকৌশল মন্ত্রীর সুপারিশ সম্পর্কে জানতে চাইলে গতকাল রবিবার নিজ দপ্তরে বসে ইয়াফেস ওসমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত ছিল চার মন্ত্রী খসড়াটির বিভিন্ন বিষয় পরীক্ষা করে দেখবেন। কিন্তু সেটা করা সম্ভব হয়নি।’
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চার মন্ত্রীকে বারবার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাদের সময় হয়নি। নতুন সরকারে তারা না থাকায় পরিবর্তিত পরিস্থিতি করণীয় নির্ধারণের জন্য গত ১৯ আগস্ট খসড়া আইনটি পুনরায় মন্ত্রিসভা বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়েছিল। সেখানেই সিদ্ধান্ত হয়েছে চার প্রকৌশল মন্ত্রীর সুপারিশ ছাড়াই আইনটির খসড়া চূড়ান্ত করা হবে। সেই সিদ্ধান্তের আলোকেই আইনের খসড়াটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভা বৈঠকে তোলা হচ্ছে। খসড়া আইনের তফসিলে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট এবং আবহাওয়াবিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো প্রতিষ্ঠানকে তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করতে হলে আইনের সংশোধনী প্রয়োজন হবে না। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে তফসিলে অন্তর্ভুক্তির কর্তৃত্ব দেওয়া হয়েছে। খসড়া আইনটিতে ২৯টি ধারা ও একটি তফসিল রয়েছে। আইনে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানি, খ্যাতিমান প্রকৌশলী, পেশাজীবী, শিল্প উদ্যোক্তাদের সমন্বয়ে একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠনের বিধান রয়েছে।
আজকের মন্ত্রিসভা বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে বাংলাদেশ প্রকৌশল গবেষণা কাউন্সিল আইনের খসড়া ছাড়াও ‘বাংলাদেশ বাতিঘর আইন, ২০১৯ এর খসড়া রয়েছে। খসড়া আইনটিতে বলা হয়েছে, কোনো জাহাজ বাতিঘর মাশুল অথবা অন্য খরচের অর্থ পরিশোধ না করলে অভিযুক্ত জাহাজকে যে বন্দরে পাওয়া যাবে সেই বন্দরের ক্ষমতাপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রদেয় করের পাঁচগুণ জরিমানা আদায় করবেÑ এমন বিধান রেখে ‘বাংলাদেশ বাতিঘর আইন, ২০১৯’ এর খসড়া করে মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। বিদ্যমান ‘লাইট হাউজ অ্যাক্ট, ১৯২৭-কে আধুনিক ও যুগোপযোগী করে ‘বাংলাদেশ বাতিঘর আইন, ২০১৯’ এর খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।
কোনো জাহাজ বাতিঘরের মাশুল বা অন্যান্য পাওনা পরিশোধ না করা পর্যন্ত কাস্টম কমিশনার অথবা প্রধান কর্মকর্তা ওই জাহাজ আটক রাখতে পারবে। পাশাপাশি পাওনা আদায়ে জাহাজ এবং জব্দ করা দ্রব্য নিলামে বিক্রয় করতে পারবে। তাছাড়া বাতিঘর মাশুল, অন্যান্য খরচের অর্থ ও জরিমানার টাকা এবং সন্তোষজনক জামানত না পাওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত জাহাজের বন্দর ছাড়পত্র আটক রাখতে পারবে।
বন্দরে আসা-যাওয়া ও এক বন্দর থেকে অন্য বন্দরে যাতায়াতের জন্য জাহাজসমূহকে দিক-নির্দেশনাসহ বাতিঘরের সেবা দিতে সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাতিঘরের মাশুল নির্ধারণ করে তা আদায় করতে পারবে। তবে একটি জাহাজকে বাতিঘর মাশুল পরিশোধের পর ৩০ দিনের মধ্যে পুনরায় আবার মাশুল দিতে হবে না।
আজকের মন্ত্রিসভা বৈঠকের অন্যান্য আলোচ্য সূচির মধ্যে ‘তেজস্ক্রিয় বর্জ্য এবং ব্যবহৃত পারমাণবিক জ¦ালানি ব্যবস্থাপনাবিষয়ক জাতীয় নীতি’র খসড়াও রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রীদের বিদেশ সফর সংক্রান্ত এজেন্ডা রয়েছে।