নাটোরের সিংড়া উপজেলার তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ভবন এক যুগ আগে উদ্বোধন হলেও এর কার্যক্রম চলে শহরে। ভবনের চেয়ারম্যান কক্ষ, সচিব কক্ষ, কৃষক তথ্য পরামর্শকেন্দ্র, উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র, ডিজিটাল সেন্টারের মতো গুরুত্বপূর্ণ কক্ষগুলো এক যুগ ধরে তালাবদ্ধ থাকায় কাক্সিক্ষত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার মানুষ। ভবনটিতে কার্যক্রম না চলায় স্থানীয়রা সেখানে গরু-ছাগল রাখে। মাদকসেবীরা আড্ডা জমায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৯ সালে উপজেলার অন্য এলাকার সঙ্গে সিংড়া ইউনিয়ন পরিষদের কিছু এলাকা নিয়ে সিংড়া পৌরসভা ঘোষণা করা হয়। আর বাকি অংশ নিয়ে তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত হয়। পৌরসভা ঘোষণার কারণে সাবেক সিংড়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি সিংড়া পৌরসভার আওতায় চলে যায়। পরে ২০০৫ সালে হাট তাজপুর এলাকায় তাজপুর ইউপি ভবন নির্মাণ শুরু হয়। ২০০৭ সালের ৫ এপ্রিল ভবনটি উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু এর এক যুগ পেরিয়ে গেলেও ভবনে কার্যক্রম চালু হয়নি। বরং পৌর এলাকার সাবেক পুরনো ইউপি ভবনের একটি কক্ষে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এতে কাক্সিক্ষত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ইউনিয়নবাসী। আর নতুন ভবন তালাবদ্ধ থাকায় ভিজিডি, ভিজিএফ কার্ডধারীদের অতিরিক্ত টাকা ও সময় ব্যয় করে পৌর এলাকার পুরনো ভবনে সেবা নিতে আসতে হচ্ছে।
তাজপুর উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাব্বি হোসেন ও তাসলিমা খাতুন বলে, পরিষদের কোনো সনদ প্রয়োজন হলে তাদের ১০ থেকে ১১ কিলোমিটার দূরে পৌর এলাকায় ইউপি কার্যালয়ে যেতে হয়।
তাজপুর ইউপির চেয়ারম্যান মিনহাজ উদ্দিন বলেন, তার ইউনিয়নটি ভৌগোলিক কারণে দুই ভাগে বিভক্ত। তাই তিনি শহরের পুরনো ভবনেই বসেন। তবে নতুন ভবনটিতে মাঝেমধ্যে সালিস করে থাকেন।
সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন, এরপর থেকে ইউনিয়নের কার্যক্রম যাতে ওই ভবনে হয়, সে ব্যাপারে তিনি ব্যবস্থা নেবেন। ভিজিডি, ভিজিএফের চাল বিতরণের দিনে নবনির্মিত ভবন পরিদর্শনে যাবেন। সেখানে কাউকে না পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।