পেঁয়াজ নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী

এ মাসেই রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে ভারত

চলতি অক্টোবর মাসেই ভারত পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিতে পারে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তার এমনটাই কথা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। মন্ত্রীর আশা পেঁয়াজের বাজার শিগগিরই স্বাভাবিক হবে।

গতকাল সোমবার সচিবালয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বস্ত্র খাতের সামগ্রিক বিষয়ে আলোচনা ও ‘জাতীয় বস্ত্র

দিবস-২০১৯’ উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় কমিটির সভার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পেঁয়াজের দামের সমস্যাটা সাময়িক। কারণ প্রধান উৎস ভারত রপ্তানি বন্ধ করায় চাপ বেড়ে গেছে। ভারতেও এখন ৫৫-৬০ ইন্ডিয়ান রুপিতে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। আশা করছি এ মাসের শেষে ভারত বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আশা করা যায়, চলতি মাসের শেষে তারা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে।’

তিনি বলেন, ‘অন্য দেশ থেকেও পেঁয়াজ আমদানির প্রক্রিয়া চলছে। পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণেরও চেষ্টা করছি আমরা। সচিব আমদানিকারদের সঙ্গে ইতিমধ্যে বৈঠক করেছেন। বড় কিছু আমদানিকারক যেমন সিটি গ্রুপের সঙ্গে কথা হয়েছে। এ ধরনের বড় ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে পেঁয়াজ আমদানির প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।’

চট্টগ্রামসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় গোডাউনে পেঁয়াজ পচে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছেÑ এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এ বিষয়ে যুগ্ম সচিবদের প্রধান করে কয়েকটি কমিটি করা হয়েছিল। তারা বিভিন্ন বাজারে গিয়ে দেখেছে, কোথাও কোনো মজুদ আছে কি না। যেসব দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির কাজ চলছে সেগুলোও দেখা হচ্ছে। আমি আজই তাদের সঙ্গে বৈঠক করব।’

কিছুদিন কম ছিল, আবার বাড়ল কেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমাদের পেঁয়াজ আমদানি হয় মূলত ভারত থেকে। ভারত রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ায় সবাই মিয়ানমারে গেছে। তখন একটু চাপ পড়েছে। তারপর মিয়ানমার পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করলেও সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়াটা ঠিক নয়। বাংলাদেশে এর প্রভাব পড়তে অন্তত চার-পাঁচ দিন লাগবে। তারপরও সঙ্গে সঙ্গেই দাম বেড়ে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা এ সুযোগটা নিচ্ছে।’

টিপু মুনশি বলেন, ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে যাব। শক্ত অবস্থানটা কী হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা যদি অবৈধ কোনো মজুদ করে রাখে তাহলে তাদের জরিমানা করা হবে। বাজারে কী অবস্থা বিরাজ করছে সেটাও দেখব।