দাবি পূরণে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) ও পুলিশের আশ্বাসে ৭২ ঘণ্টার ধর্মঘট আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করেছে ঢাকা মহানগর সিএনজি অটোরিকশা মালিক-শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদ।
গতকাল সোমবার বিআরটিএ সম্মেলন কক্ষে সংস্থার চেয়ারম্যান এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে সংগঠনের প্রতিনিধিদের সভা শেষে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয় সংগ্রাম পরিষদের সদস্য সচিব সাখাওয়াত হোসেন দুলাল বলেন,
‘মালিক-শ্রমিকের ৯ দফার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের আশানুরূপ সাড়া এবং দ্রুত কার্যকর করার প্রতিশ্রুতির পরিপ্রেক্ষিতে ঘোষিত লাগাতার ৭২ ঘণ্টার সিএনজি অটোরিকশা ধর্মঘট আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।’
সভায় মালিক-শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক মো. বরকত উল্লাহ ভুলু, সদস্য সচিব সাখাওয়াত হোসেন দুলালসহ অন্য নেতারা অংশ নেন।
এর আগে গত ২ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলন থেকে পুলিশি হয়রানি, অবৈধ অটোরিকশা ও রাইডশেয়ারিং বন্ধসহ ৯ দফা দাবি আদায়ে ১৫-১৭ অক্টোবর ৭২ ঘণ্টা ধর্মঘটের ডাক দেয় সংগ্রাম পরিষদ। তবে ঢাকা-চট্টগ্রাম জেলা সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ঐক্য পরিষদ নামের একটি সংগঠন এ ধর্মঘট প্রত্যাখ্যান করে। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে সংগঠনের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মালিকরা মামলা করে চালকদের জন্য বরাদ্দকৃত রিকশা বিতরণ প্রক্রিয়া ১২ বছর আটকে রেখেছেন। এখন তারাই ধর্মঘট ডেকেছেন, এটি হাস্যকর। আসলে মালিকরা শ্রমিকদের নামে ধর্মঘট ডেকে দৈনিক জমা বাড়ানোর পাঁয়তারা করছেন।’
সংগ্রাম পরিষদ জানায়, ঢাকা মহানগরীতে বাণিজ্যিকভাবে ১৫ হাজার ৬৯৬টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচলের অনুমতি রয়েছে। কিন্তু প্রাইভেট নামে অনেক অটোরিকশা অবৈধভাবে চলছে। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ জেলার আরও ১৫ হাজার অটোরিকশা মহানগরীতে রয়েছে। মূলত এসব অটোরিকশার মালিক পুলিশ সার্জেন্ট ও তাদের স্বজনরা।
তারা অভিযোগ করেন, বৈধ চালকদের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত নানা অজুহাতে মামলা, কাগজের ওপর মামলা, কেস স্লিপের ওপর মামলা, স্টিলের গ্রিল, বাম্পার রং করার নামে মামলা, সামনে মোটরগার্ডের ওপর বাম্পারের জন্য মামলা, অহরহ ভিডিও মামলা ও রেকারিংয়ের মাধ্যমে পুলিশ হয়রানি করছে।
সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া বৃদ্ধি না হলেও চালকদের লাইসেন্স নবায়নে পুনরায় ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে উৎকোচ নেওয়া হচ্ছে। সুপরিকল্পিতভাবে এ খাতকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। আগে মানববন্ধন, থানায় থানায় কর্মিসভা, গণসংযোগ ও মালিক-শ্রমিক মতবিনিময় করলেও সংশ্লিষ্টরা কর্ণপাত করেনি।
এদিকে ৮ দফা দাবি আদায়ে গত রবিবার মধ্যরাত থেকে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেছেন রাইডশেয়ারিং উবার চালকরা। তবে গতকাল অনেক উবার চালককে ভাড়া খাটতে দেখা গেছে।