ভ্রাম্যমাণ আদালত চালাতে গিয়ে বিপাকে ম্যাজিস্ট্রেট, ১৬ জেলের কারাদণ্ড

সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাদারীপুর জেলার পদ্মা নদীর শিবচর অংশে মা ইলিশ ধরার অপরাধে আরও ১৬ জেলের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এই সময় বিভিন্ন নৌকা থেকে ২০ হাজার মিটার জাল ও ৫ মণ ইলিশ জব্দ করা হয়। এনিয়ে গত ৪৮ ঘণ্টায় ৫৫ জনকে সাজা দেওয়া হলো।

এদিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযানে গেলে স্থানীয় জেলেরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওপর হামলা চালায়। সোমবার সন্ধ্যায় শিবচরের বন্দরখোলা ইউনিয়নের কাজিরসূরা এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে গ্রামবাসী ও হামলাকারী জেলেরা ম্যাজিস্ট্রেটের বহরকে ডাকাত-ডাকাত বলে চিৎকার দিয়ে ঘেরাও করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পুলিশ ১০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জেলেরা শিবচর উপজেলার কাঁঠালবাড়ি, মাদবরচর, চরজানাজাত, বন্দরখোলা ইউনিয়নের পদ্মা নদীর বিভিন্ন অংশে মা ইলিশ ধরে আসছে। নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে শিবচর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আল-নোমানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান শুরু হয়। অভিযান চলাকালে ২০ হাজার মিটার জাল উদ্ধার ও প্রায় ৫ মণ ইলিশ জব্দ করা হয়। এ ছাড়া মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত ৬টি নৌকা ধ্বংস করা হয়। এই সময় এক জেলেকে আটক করা হলে এলাকার জেলেরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের কর্মকর্তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

এলাকাবাসী জানান, বন্দরখোলা ইউনিয়নের কাজিরসূরা এলাকায় কিছু নৌকা ঘাটে বাঁধা থাকা অবস্থায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশে নৌকাগুলো নষ্ট করে দেয়। যে কারণে স্থানীয়দের সাথে প্রশাসনের বাক-বিতণ্ডা হয়। অভিযানের সময় কিছু জেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ পুলিশের ওপর হামলা চালায়। শিবচর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এটিএম শামসুজ্জামানকে হামলাকারীরা ধাক্কা দিয়ে নদীতে ফেলে দেয়। ওই মৎস্য কর্মকর্তা নদীতে পড়ে যান।

শিবচর থানা অফিসার ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ বলেন, সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত পদ্মা নদীর শিবচর অংশের বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান পরিচালনা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানকালে  জেলে নৌকা থেকে প্রায় ২০ হাজার মিটার অবৈধ জাল ও প্রায় ৫ মণ  ইলিশ মাছ জব্দ করা হয়। এসময় ভ্রাম্যমাণ আদালত মৎস্য নিরোধ আইনে আটককৃত জেলেদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেন। জব্দকৃত অবৈধ জালগুলো আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। পরে জব্দকৃত ইলিশ মাছগুলো উপজেলার বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শিবচর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আল-নোমান এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

শিবচর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এটিএম শামসুজ্জামান জানান, ঘাঁটে বাঁধা যে নৌকাগুলো নিয়ে তারা রাতে মাছ ধরতে নামে সেই নৌকাগুলো আমরা ছিদ্র করে দিই। এসময় জেলেরা আমাদেরকে ঘিরে ফেলে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় পুলিশ ১০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এসময় ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রায় ৩০ কেজি ইলিশ জব্দ ও ১ জেলেকে আটক করে। এক হাজার মিটার জাল পুড়িয়ে দেয় ও ৬টি ট্রলার ফুটো করে পানিতে ডুবিয়ে দেয়।

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সোমবার সন্ধ্যা ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওপর হামলা চালিয়ে জেলেরা তাদের ঘেরাও করে রাখে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মা ইলিশ সংরক্ষণে প্রতিনিয়ত পদ্মায় আমাদের অভিযান চলবে। মা ইলিশ নিধনের অপরাধে জেলেদের আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়েছে। জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। মা ইলিশ রক্ষায় আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।