পাঁচ এসআইয়ের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার সুপারিশ

লালমনিরহাটে ভিত্তিহীন তিনটি মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়ায় পুলিশের ৫ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করেছে আদালত।

পৃথক মামলায় জেলার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান মণ্ডল এ সুপারিশ করেন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর, ২ ও ৩ অক্টোবর আদেশ দেওয়া হলেও গত সোমবার বিষয়টি জানাজানি হয়।

অভিযুক্তরা হলেন লালমনিরহাট সদর থানর উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান, সেলিম রেজা, নুর আলম সরকার, জহুরুল ইসলাম ও জিল্লyর রহমান। প্রতিষ্ঠিত দুটি ওষুধ কোম্পানির ট্যাপেন্টা ও লোপেন্টা ট্যাবলেটকে মাদক হিসেবে এজাহারে উল্লেখ করে তারা আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১ মে লালমনিরহাট সদর থানার এসআই সেলিম রেজা বাদী হয়ে শহরের ওয়্যারলেস কলোনির শামসুল হকের (৩৬) বিরুদ্ধে ৩০টি ট্যাপেন্টা ট্যাবলেট রাখার অভিযোগে মাদক মামলা দেন। তদন্ত শেষে এসআই জহুরুল ইসলাম ৯ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দেন। গত ২ অক্টোবর এ মামলার আদেশে বিচারক বলেন, বৈধ ওষুধ রাখা সত্ত্বেও শামসুল হককে মাদক মামলার আসামি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরা রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদন আমলে নেননি। এজন্য তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ এবং শামসুল হককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন আদালত।

দ্বিতীয় ঘটনায় চলতি বছরের ১৮ মে এসআই জহুরুল ইসলাম বাদী হয়ে লালমনিরহাট শহরের গার্ডপাড়ার মৃত হাশেম আলীর ছেলে আশরাফুল আলমের (৩৪) কাছ থেকে ১০০ পিস ট্যাপেন্টা ট্যাবলেট উদ্ধারের ঘটনায় মাদকের মামলা করেন। ৩০ জুলাই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জিল্লyর রহমান অভিযোগপত্র দেন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর আদালত এ মামলাতেও একই আদেশ দেন।

আর গত ১৩ জুন এসআই মিজানুর রহমান বাদী হয়ে শহরের সাপটানা মাঝাপাড়া গ্রামের মৃত শিবেন্দ্র নাথ বর্মনের ছেলে ওষুধ ব্যবসায়ী ধনঞ্জয় কুমার বর্মনের (৩৮) বিরুদ্ধে ২০টি লোপেন্টা ট্যাবলেট রাখার ঘটনায় মাদকের মামলা দেন। পরে সদর থানার এসআই নুর আলম সরকার রাসায়নিক পরীক্ষকের প্রতিবেদন আমলে না নিয়ে গত ৮ আগস্ট অভিযোগপত্র দেন। এ মামলায় আদেশ দেওয়া হয় ৩ অক্টোবর।

তিনটি মামলাতেই আদালত পর্যবেক্ষণ দেন, ট্যাপেন্টা ও লোপেন্টা ট্যাবলেটের উপাদান ট্যাপেন্টাডোল। এটি কোনোভাবেই মাদকদ্রব্য নয়। এসকেএফ বাংলাদেশ ও এসিআই লিমিটেড অনুমোদন নিয়ে ওষুধ দুটি বাজারজাত করে আসছে। সুপারিশের কপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ছাড়াও আইজিপি, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি, রংপুর ও লালমনিরহাট জেলা পুলিশ সুপারকে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য্য দেশ রূপান্তকে বলেন, ‘পুলিশের ৫ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশনা পেয়েছি। সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।’