স্থায়ী কমিটিকে বুড়ো আঙুল

যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কাউন্সিল হচ্ছে না

দলকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব পর্যায়ে কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। কিন্তু হঠাৎ করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকের পর কাউন্সিল না করে স্বেচ্ছাসেবক দল ও যুবদলের অপূর্ণাঙ্গ কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দেশ রূপান্তরকে এ কথা জানান যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের একাধিক নেতা। নাম না প্রকাশ করার শর্তে তারা বলেন, কাউন্সিল না করার সিদ্ধান্তে দল ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং সংগঠন দুটিতে অন্তর্দ্বন্দ্ব বাড়বে। যার প্রভাব পড়বে বিএনপিতেও। তাদের অভিযোগ, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সিদ্ধান্ত অমান্য করে এমনটা করা হলে পরবর্তী সময়ে সংগঠনের কোনো পর্যায়ে কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা সম্ভব হবে না।

স্বেচ্ছাসেবক ও যুবদলে কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি না করার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা স্থায়ী কমিটির সদস্যরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব পর্যায়ের কমিটি কাউন্সিলের মাধ্যমে হবে। এ সিদ্ধান্ত থেকে আমরা সরে আসেনি।’

দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত সোমবার বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের পাঁচ নেতাকে নিয়ে স্কাইপিতে বৈঠক করেন লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় সংগঠনের নেতাদের মতামত নেন। এতে সংগঠনটির শীর্ষ পাঁচ নেতা মত দেন পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার জন্য। তখন তারেক রহমান তাদের সময় দেন। এ সময়ের মধ্যে তাদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে বলেন। এর আগে গত ৮ অক্টোবর মঙ্গলবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তারেক রহমান বৈঠক করেছেন যুবদলের নেতাদের সঙ্গে। তারাও সম্মতি নিয়েছেন অপূর্ণাঙ্গ কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার।

এদিকে সংগঠন দুটির নেতারা বলেন, ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি সাইফুল আলম নীরবকে সভাপতি ও সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে সাধারণ সম্পাদক করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের পাঁচ সদস্যের কেন্দ্রীয় নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি করা হয় মোরতাজুল করিম বাদরুকে, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয় নুরুল ইসলাম নয়নকে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হন মামুন হাসান। এ আংশিক কমিটিকে আগামী এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে অনুমোদনের জন্য পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ প্রায় শেষ। আর মাত্র তিন মাস আছে কমিটির মেয়াদ। এখন পর্যন্ত কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে পারেননি সংগঠনটির নেতারা। ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে স্বেচ্ছাসেবক দলের ‘সুপার ফাইভ’ কমিটি ঘোষণা করা হয়। তাদের পরবর্তী এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই কমিটির মেয়াদ চলতি অক্টোবরের ২৭ তারিখ শেষ হবে। শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে এলেও তারা পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেননি।

দেশ রূপান্তরের পক্ষ থেকে গতকাল বিকেলে একাধিকবার ফোন করেও স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুর সাড়া মেলেনি। তবে স্বেচ্ছাসেবক দলের সুপার ফাইভের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমাদের কমিটির মেয়াদ শেষ হবে আগামী ২৭ অক্টোবর। এর দুদিন আগে ২৫ অক্টোবরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা দিতে বলেছেন লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

কাউন্সিলের মাধ্যমে তাহলে কমিটি হচ্ছে না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সে বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি।

অপূর্ণাঙ্গ কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে যুবদলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, আমাদের কমিটির মেয়াদ আছে তিন মাস। ২০ অক্টোবরের মধ্যে আমাদের কমিটি পূর্ণাঙ্গ করে জমা দিতে বলেছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।