পাসপোর্ট ইস্যুতে পুলিশ ভেরিফিকেশন নিয়ে প্রশ্ন

পাসপোর্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সংসদীয় কমিটি। বৈঠকে পাসপোর্ট ইস্যুতে বিলম্বের কারণ নিয়ে আলোচনা এবং ১৫ দিনের মধ্যে পাসপোর্ট ইস্যু করতে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।

কমিটির সভাপতি ফারুক খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘পাসপোর্ট ইস্যুতে পুলিশ ভেরিফিকেশনের বিষয়টিও এসেছিল। এ বিষয়ে আমি বলেছি, জাতীয় পরিচয়পত্রে কোনো ব্যক্তির নাম-ঠিকানাসহ সব ধরনের তথ্যই থাকে। তাহলে এখনো পুলিশ ভেরিফিকেশনের প্রয়োজনীয়তা কী?’ তিনি বলেন, ‘প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট ইস্যু করতে দেরি হওয়ার কারণ জানতে আমরা পাসপোর্ট অধিদপ্তরগুলোকে ডেকেছিলাম। তারা দেরির বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করেছে। আমরা প্রবাসীদের ১৫ দিনের মধ্যে পাসপোর্ট ইস্যু করতে বলেছি।’

সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, যথাসময়ে পাসপোর্ট ইস্যু করতে সক্ষম না হলে তার যথাযথ কারণ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জানিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থাও চালু করার সুপারিশ করা হয়েছে।

২০১২ সালে জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রফিকুল ইসলাম (বীরউত্তম) পাসপোর্ট ইস্যুতে পুলিশ ভেরিফিকেশন বাতিল চেয়ে একটি নোটিস দেন। এর আগে ২০১১ সালে পাসপোর্ট অধিদপ্তরও পুলিশ ভেরিভিকেশন বাতিলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়। তবে পুলিশের সংশ্লিষ্ট শাখা তাতে আপত্তি তোলে। গত আগস্ট মাসে পাসপোর্ট প্রদানে বিভিন্ন ধরনের হয়রানি ও দুর্নীতি নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল একটি গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরেছে। সেখানেও তারা পুলিশ ভেরিফিকেশন বাতিলের সুপারিশ করেছে।

এ বিষয়ে ফারুক খান জানান, পাসপোর্ট অধিদপ্তর তাদের জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী আগামী ডিসেম্বরে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। জানুয়ারি থেকেই ই-পাসপোর্ট দেওয়া শুরু হবে। প্রথম পর্যায়ে প্রধান কার্যালয়সহ ঢাকার তিনটি আঞ্চলিক কার্যালয় এবং এরপর সারা দেশে ও পরে বিদেশ থেকেও ই-পাসপোর্ট দেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, পাসপোর্ট প্রদানের জন্য আমরা একটি অ্যাপস চালুর পরামর্শ দিয়েছি। এখানে পাসপোর্টের সর্বশেষ স্ট্যাটাস থাকবে। কোনো পাসপোর্ট প্রদানে কেন দেরি হচ্ছে, কতটা সময় লাগবে, তা সেখানে উল্লেখ থাকবে।

চার আসিয়ান দেশ সফরে যাচ্ছে সংসদীয় কমিটি

প্রত্যাবাসনসহ রোহিঙ্গা ইস্যুতে সমর্থন আদায়ে চার আসিয়ান দেশ সফরে যাচ্ছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। এ মাসের শেষদিকে সিঙ্গাপুর যাওয়ার মাধ্যমে এ সফর শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে তারা কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ড যাবে। এ বিষয়ে কমিটির সভাপতি ফারুক খান জানান, আসিয়ান দেশগুলোর মধ্যে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রতি যেসব দেশের সফটকর্নার রয়েছে আমরা সেই দেশগুলো সফরে যাচ্ছি। আমার তাদের বাস্তবতা বুঝিয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করব। সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনে যোগদান এবং ভারত সফরের ওপর প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

মুহাম্মদ ফারুক খানের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্স, নাহিম রাজ্জাক এবং কাজী নাবিল আহমেদ অংশগ্রহণ করেন।