দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত কাউন্সিলরদের যারা আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছেন সেসব ছাতা খোঁজা হচ্ছে জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘এ ব্যাপারে দুদককে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।’ তিনি বলেন, যেসব কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে, তারা আগামীতে মনোনয়ন পাবেন না। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ের নিজ কার্যালয়ে সমসাময়িক বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এসব কথা বলেন।
তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে নেতা বানানো হচ্ছে এবং হবে জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে বিতর্কিত ব্যক্তিরা যাতে কমিটিতে না আসতে পারে, সে ব্যাপারে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে।’
আবরার ঘটনায় সরকার বিব্রত অবস্থায় : আবরার ফাহাদ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এ ঘটনায় সরকার বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে। এজন্য কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের তো সবাই দায়ী না। গুটিকয়েকের দায়ভার সরকার নেবে না। এ ঘটনায় দল এবং সরকার উভয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত অভিমত, এ হত্যাকাণ্ডে যারা জড়িত, তাদের মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত। কিন্তু এ ঘটনায় দেশের কয়েকটি মেধাবী সন্তানও হারিয়ে যাচ্ছে, সেটিও একটি বিষয়। ভ্যান চালায় এমন বাবার সন্তানও এই কাণ্ডে জড়িত।’
আবরারের হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিএনপি আন্দোলনের ইস্যু খুঁজছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের কাছে আবরার হত্যাকাণ্ড কোনো বিষয় না। তারা মূলত আন্দোলন করতে চায়, তাই তারা ইস্যু খুঁজছে। তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে এটি নিয়ে রাজনীতি করা।’ কাদের বলেন, ‘খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উনারা যতটা না উদ্বিগ্ন, তার চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন আন্দোলনের একটা ইস্যু তৈরি করার।’
চট্টগ্রামে মেট্রোরেল নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই : বন্দরনগরী চট্টগ্রামে মেট্রোরেল নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) শিগগিরই শুরু হবে বলে জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন চট্টগ্রামের মেট্রোরেল বা এমআরটি লাইনের ফিজিবিলিটি স্টাডি শুরু করার জন্য। তার নির্দেশনা অনুযায়ী আমি মন্ত্রণালয়ের সচিব ও মেট্রোরেলের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বলেছি অবিলম্বে ফিজিবিলিটি স্টাডি শুরু করতে হবে; বন্দরনগরী চট্টগ্রামের জন্য।’
চট্টগ্রামে প্রস্তাবিত মেট্রোরেল প্রকল্পে তিনটি এমআরটি লাইন করার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে কালুরঘাট থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত এমআরটি লাইন-১-এর দৈর্ঘ্য হবে সাড়ে ২৬ কিলোমিটার (২০টি স্টেশন), সিটি গেট থেকে নিমতলা হয়ে শাহ আমানত সেতুর গোল চত্বর পর্যন্ত লাইন-২-এর দৈর্ঘ্য হবে সাড়ে ১৩ কিলোমিটার (১২টি স্টেশন) এবং অক্সিজেন থেকে ফিরিঙ্গিবাজার ও পাঁচলাইশ থেকে এ কে খান পর্যন্ত লাইন-৩-এর দৈর্ঘ্য হবে সাড়ে ১৪ কিলোমিটার (স্টেশন ১৫টি)। তিনটি লাইনের মোট দৈর্ঘ্য হবে সাড়ে ৫৪ কিলোমিটার, স্টেশন থাকবে মোট ৪৭টি। প্রতি কিলোমিটারে প্রায় ১ হাজার ৫৪৫ কোটি টাকা সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রস্তাবে।