ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় কারাগারে থাকা ফেনীর সোনাগাজী থানার সাময়িক বরখাস্ত ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের জামিন প্রশ্নে আদেশের জন্য আগামী ৩ নভেম্বর দিন রেখেছে হাইকোর্ট। গতকাল বুধবার শুনানি নিয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম
ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ আদেশের জন্য এ দিন ঠিক করে।
আদালতে মোয়াজ্জেমের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুল বাসেত মজুমদার। তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী রানা কাওছার। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারওয়ার হোসেন বাপ্পী।
গত ৬ এপ্রিল সকালে ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফির শরীরে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন দেয় মুখোশধারী কয়েকজন। গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তির ৫ দিন পর মারা যান তিনি। পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার ১০ দিন আগে নুসরাত মাদ্রাসার অধ্যক্ষ (পরে বরখাস্ত) সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ জানাতে সোনাগাজী থানায় যান। এ সময় নুসরাতের জবানবন্দি মোবাইল ফোনে ভিডিও করে তা অনলাইনে ছড়ানোর অভিযোগে তখনকার ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে ঢাকার সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়। ওই মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর গত ১৬ জুন রাজধানীর শাহবাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ১৭ জুলাই শ্লীলতাহানির মামলায় অভিযোগ গঠনের পর বিচারিক আদালতে এখন সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।
এদিকে জামিনের আবেদন নামঞ্জুরের পর গত ২ জুলাই হাইকোর্টে আবেদন করেন মোয়াজ্জেম হোসেন। আবেদনটি ৯ জুলাই উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেয় হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ। এরপর ১৭ জুলাই ফের বিচারিক আদালতে জামিন নামঞ্জুরের আদেশের পর ওই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন মোয়াজ্জেম হোসেন। ২৭ আগস্ট তার আপিলটি শুনানির জন্য গ্রহণ করে হাইকোর্ট।