এনআরসি থেকে বাদ পড়া ব্যক্তির লাশ নিয়ে অচলাবস্থা

ভারতের আসামে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) থেকে বাদ পড়া এক ব্যক্তির মরদেহের সৎকার নিয়ে পাঁচ দিন টানাপড়েন চলছে। প্রশাসন তাকে ‘বিদেশি’ ঘোষণা করায় মরদেহ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে পরিবার। এরপর থেকে আসাম সরকার বেশ কয়েকটি প্রতিনিধিদল পাঠালেও পরিবারের সদস্য ও গ্রামবাসী তাদের দাবিতে অটল রয়েছেন। তারা গত সোমবারও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এখন আসামের কর্মকর্তারা অচলাবস্থা নিরসনে আরও

দুয়েক দিন অপেক্ষা করে সম্মতি ছাড়া কীভাবে মৃতদেহ সৎকার করা যায়, তা খতিয়ে দেখছেন বলে জানিয়েছেন।

এনডিটিভির খবরে বলা হয়, ২০১৭ সালে এনআরসি থেকে বাদ পড়েন সোনিতপুর জেলার আলিসিঙ্গা গ্রামের মানসিক ভারসাম্যহীন দুলাল চন্দ্র পাল (৬৫)। এরপর তাকে তেজপুরের ডিটেনশন সেন্টারে আটক রাখা হয়। গত রবিবার অসুস্থ হলে, গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর দুলাল পালের মৃত্যু হয়।

সরকারি কর্মকর্তারা জানান, দুলাল পালকে গত ১১ অক্টোবর তেজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (টিএমসিএইচ) ডায়াবেটিস ও মানসিক সমস্যার চিকিৎসা শেষে ডিটেনশন সেন্টারে ফেরত পাঠানো হয়। এরপর আবার অসুস্থ হলে রবিবার গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। এরপর ওইদিনই কারা দপ্তরের কর্মকর্তারা দুলাল পালের মরদেহ হস্তান্তরের জন্য আলিসিঙ্গা গ্রামে যান। কিন্তু তার মৃত্যুসনদে ‘বিদেশি’ এবং স্থায়ী ঠিকানার অংশ ফাঁকা রাখা দেখে পরিবারের সদস্য ও গ্রামবাসীর মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দেয়। তারা দুলাল পালকে ভারতীয় নাগরিক ঘোষণা না করা পর্যন্ত মরদেহ নিতে অস্বীকৃতি জানান। গ্রামের কয়েক হাজার বাসিন্দা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরে বিষয়টি তদন্ত করে দেখার ঘোষণা দেয় আসাম রাজ্য সরকার।

দুলাল পালের বড় ছেলে আশীষ পাল এনডিটিভিকে বলেন, ‘সরকার বাবাকে বিদেশি ঘোষণা করেছে। তাদের উচিত লাশটা বাংলাদেশে পাঠানো। তিনি বিদেশি নন, ভারতীয়। সরকার এটা স্বীকার করে বিবৃতি দিলে তবেই আমরা লাশ নেব।’ তিনি আরও বলেন, ‘কারা কর্র্তৃপক্ষ বাবার ঠিকানা খুব ভালোভাবে জানত বলেই লাশ গ্রামে নিয়ে এসেছে। কিন্তু তারা ইচ্ছে করে ঠিকানার ঘর ফাঁকা রেখেছে। আমাদের ধারণা, তারা বাংলাদেশের কোনো মনগড়া ঠিকানা দিয়ে দিতে পারে। তিনি যদি বাংলাদেশিই হন, তাহলে তাকে আমাদের কাছে পাঠাবে কেন? তাদের উচিত লাশ বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া।’

সোনিতপুরের ডেপুটি কমিশনার মানবেন্দ্র প্রতাপ সিং বলেন, ‘দুলাল পালকে বিদেশি ঘোষণা করেছে ট্রাইব্যুনাল। এ নিয়ে আলোচনা করা আমাদের আওতার বাইরে। পরিবার ট্রাইব্যুনালের রায় চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে যেতে চাইলে আমরা আইনিভাবে সাহায্য করতে পারি। আমরা বিষয়টির সুরাহা চাই।’

গত ৩১ আগস্ট আসামের চ‚ড়ান্ত নাগরিকপঞ্জি থেকে প্রায় ১৯ লাখ বাসিন্দা বাদ পড়েছেন। এদের রাজ্য সরকার ‘বিদেশি’ আখ্যা দিয়ে ডিটেনশন সেন্টারে রাখার ঘোষণা দিয়েছে।