বিচারপতি নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট বারে বিভক্তি

উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগের গুঞ্জনের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ভিন্নমত তুলে ধরেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এ এম আমিন উদ্দিন ও সম্পাদক ব্যারিস্টার এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। গতকাল বৃহস্পতিবার আলাদা সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামীপন্থি আইনজীবী আমিন উদ্দিন সংবিধান অনুসারে বিচারপতি নিয়োগের কথা বলেছেন। অন্যদিকে বিএনপিপন্থি আইনজীবী ব্যারিস্টার খোকন সংবিধানের ৯৫(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টের ২০১৭ সালের এপ্রিলের রায়ের আলোকে নীতিমালা প্রণয়ন করে বিচারপতি নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।

দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট বার মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে সম্পাদক ব্যারিস্টার খোকন বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হলে নীতিমালা প্রণয়নের কোনো বিকল্প নেই। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে বিচারপতি নিয়োগে সরকারের সিদ্ধান্ত হলেও বিচারক নিয়োগের ব্যাপারে কোনো নীতিমালা কিংবা নিয়োগের বিষয়ে হাইকোর্টের রায়ের নির্দেশনা পালন সম্পর্কে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এখন বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে সংবিধানের ৯৫(২) অনুচ্ছেদ ও হাইকোর্টের রায়ের আলোকে বিচারক নিয়োগের দাবি জানাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সম্প্রতি তিনজন বিচারপতির বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আরেক বিচারপতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের গুঞ্জন রয়েছে। বিচারপতি নিয়োগের পর তদন্ত না করে, নিয়োগের আগেই তাদের যোগ্যতা ও সততা সম্পর্কে তদন্ত করে নিয়োগ দেওয়া উচিত। শুধু রাজনৈতিক আনুগত্যের কারণে কাউকে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ করা কোনোভাবেই বাঞ্ছনীয় নয়।’

ব্যারিস্টার খোকন বলেন, ‘বিচারক হিসেবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে যারা শাস্তি দিয়েছে তাদের পুরস্কৃত করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের সিদ্ধান্ত হচ্ছে। এ ধরনের চিন্তা-ভাবনা থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে।’

এরপর সংবাদ সম্মেলনে সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি আমিন উদ্দিন বলেন, ‘সংবিধানের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নীতিমালা দিয়ে কিছু হবে না। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শক্রমে বিচারপতি নিয়োগ দেবেন।’

তিনি বলেন, ‘নীতিমালা তো সংবিধানের ওপরে নয়। নীতিমালা কোনো আইন নয়। তাই নীতিমালা দিয়ে কিছু হবে না। এ নিয়ে আইন হতে পারে। কিন্তু সংবিধানের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সংবিধানেই স্পষ্ট রয়েছে এ বিষয়ে কী করতে হবে। শুধু ম্যান্ডেট হচ্ছে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে, আলোচনা করতে হবে। সংবিধানেই বিচারকের যোগ্যতা নির্ধারণ করা রয়েছে।’ জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আমিন উদ্দিন আরও বলেন, ‘আমরা আশা

করছি ভবিষ্যতে উচ্চ আদালতে বিচারক হিসেবে যে নিয়োগগুলো হবে তা সংবিধানের ৯৫ ও ৯৮ অনুচ্ছেদ এবং উচ্চ আদালতের রায়ের ম্যান্ডেট দেখে সংবিধান অনুযায়ী হবে।’