অবশেষে ব্রেক্সিট চুক্তির বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে যুক্তরাজ্য। গতকাল বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে ইউরোপীয় নেতাদের এক বৈঠকের আগে দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা চুক্তির বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছান। তবে চ‚ড়ান্ত চুক্তি হওয়ার আগে তাতে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অনুমোদন নিতে হবে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জ্যঁ ক্লদে জাঙ্কার এই সমঝোতাকে দারুণ ফল হিসেবে উল্লেখ করেছেন বলে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে।
বরিস জনসন এক টুইটে বলেছেন, ‘দারুণ একটা সমঝোতায় আমরা পৌঁছেছি, পরিস্থিতির ওপর নিয়ন্ত্রণও ফিরেছে।’ তার আশা ৩১ অক্টোবরে প্রক্রিয়ামাফিক ব্রেক্সিট শেষ করার পথ সুগম করতে
শনিবারই ব্রিটিশ পার্লামেন্টের বিশেষ অধিবেশনে চুক্তির বিষয়ে অনুমোদন পাবে। এজন্য তিনি তার দলের এমপিদের ওই দিন পার্লামেন্টে উপস্থিত থাকতে বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জ্যঁ ক্লদে জাঙ্কার বলেছেন, ‘ইচ্ছা থাকলেই চুক্তি স্বাক্ষর সম্ভবÑ আমরা সেটা পারব। এটা যুক্তরাজ্য ও ইইউর মধ্যে একটি স্বচ্ছ ও ভারসাম্যপূর্ণ সমঝোতা। সংকট উত্তরণের পথ খোঁজার ক্ষেত্রে এটা আমাদের প্রতিশ্রæতির প্রতিফলন। চুক্তি অনুমোদনে তৎপর হতে আমি ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের কাছে সুপারিশ করছি।’
তবে উত্তর আয়ারল্যান্ডের ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টি (ডিইউপি) নতুন ব্রেক্সিট চুক্তি সমর্থন করবে না বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। নর্দার্ন আইরিশ পার্টিও এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘নতুন চুক্তিতে দেওয়া প্রস্তাবগুলো আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে উত্তর আয়ারল্যান্ডের অর্থনৈতিক কল্যাণের জন্য সহায়ক নয় এবং এতে ইউনিয়নের অখণ্ডতা ক্ষুণœ হবে।’
ব্রিটেনের বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন বলেছেন, ‘আগের প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে যে ব্রেক্সিট চুক্তি করেছিলেন নতুন প্রস্তাবিত চুক্তি তার চেয়েও বেশি খারাপ। ফলে এমপিদের এটি প্রত্যাখ্যান করা উচিত।’
ব্রেক্সিট ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়ে চলতি বছরের গত মে মাসে পদত্যাগের ঘোষণা দেন যুক্তরাজ্যের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে। তিনি সরে দাঁড়ানোর পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন কট্টর ব্রেক্সিটপন্থি কনজারভেটিভ নেতা বরিস জনসন। নির্বাচিত হওয়ার পর আগামী ৩১ অক্টোবর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন তিনি। প্রয়োজনে চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিটেরও ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছিলেন তিনি।