ডাক্তার মিলনের মতো আবরারের মৃত্যুও টার্নিং পয়েন্ট

ডাকসুর ইতিহাসে একমাত্র নারী ভিপি মাহফুজা খানমের জন্ম ১৯৪৬ সালের ১৪ এপ্রিল, কলকাতায়। তিনি ১৯৬৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্না তকএবং ১৯৬৭ সালে একই বিভাগ থেকে  স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন থেকে মনোনয়ন পেয়ে ১৯৬৬-৬৭ মেয়াদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সরকারি কলেজে শিক্ষকতায় নিযুক্ত থাকা অধ্যাপক মাহফুজা খানম এখন এশিয়াটিক সোসাইটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য। এছাড়া ‘খেলাঘর’সহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারপারসন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। আলোচিত আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে বুয়েট কর্র্তৃপক্ষের ছাত্ররাজনীতি বন্ধের সিদ্ধান্ত, শিক্ষক রাজনীতি, রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণসহ নানা বিষয়ে তিনি দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন দেশ রূপান্তর সম্পাদকীয় বিভাগের অনিন্দ্য আরিফ
দেশ রূপান্তর : বুয়েট কর্র্তৃপক্ষের ছাত্ররাজনীতি বন্ধের সিদ্ধান্তকে কি সঠিক মনে করেন? এটা না করে অন্যভাবে পরিস্থতি নিয়ন্ত্রণ করা যেত কি না?
মাহফুজা খানম : বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের সঙ্গে ছাত্ররাজনীতির ওতপ্রোত সম্পর্ক রয়েছে। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান থেকে শুরু করে বর্তমান বাংলাদেশের সৃষ্টির পেছনে এর গৌরবাজ্জ্বল ভ‚মিকা রয়েছে। বাহান্নোর ভাষা আন্দোলন, বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন এবং একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সৃষ্টি এই সুদীর্ঘ পথ পরিক্রমায় ছাত্ররাজনীতি অবদান রেখেছে।  কিন্তু ১৯৭৫ পরবর্তী সময় থেকে ছাত্ররাজনীতির একটা অধঃপতন শুরু হয়। এতে সংঘাতের সূচনা হয়।  আমাদের সময়ে ছাত্ররাজনীতির একটা মহৎ উদ্দেশ্য ছিল, আদর্শ ছিল। এর মূল লক্ষ্যই ছিল দেশপ্রেমিক মানুষ তৈরি করা, মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ তৈরি করা। কিন্তু বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে আমরা যেটা দেখছি সেটা কি ছাত্ররাজনীতি? এটা তো কোনো ধরনের রাজনীতিই নয়। এটা তো অপরাজনীতি। এখনকার ছাত্ররাজনীতির মূল উদ্দেশ্যই অর্থ উপার্জন। এই অর্থ উপার্জন আবার অবৈধ উপায়ে। এর জন্য দায়ী কারা? যারা তাদের এই উপায়ে রাজনীতি করতে উদ্বুদ্ধ করছেন। তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন। আর দায়ী শিক্ষকরা। ছাত্ররা রাজনীতির নামে টেন্ডারবাজি করছে, চাঁদাবাজি করছে। মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হচ্ছে।  পূর্বে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আর এখন যারা ক্ষমতায় আছে তাদের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ, সবাই মিলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দখলদারিত্ব তৈরি করেছে। শুধু প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় নয়, সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে একই চিত্র। অথচ শিক্ষকরা এদের প্রশ্রয় দিচ্ছেন। হলের প্রভোস্ট, হাউজ টিউটর সবাই জেনেও এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আটবারের সিনেট সদস্য হিসেবে এ সম্পর্কে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে। ভাইস চ্যান্সেলর, হলের প্রভোস্ট আর হাউজ টিউটররা ছাত্রদের এসব অপকর্ম দেখে কেন নীরব ছিলেন? প্রকৃত অর্থে তারা তাদের পদ রক্ষার জন্যই এগুলো সমর্থন করে গেছেন। 

১৯৯০-এ ডা. মিলনের মৃত্যু একটা টার্নিং পয়েন্ট ছিল। আর এবার আবরারের মৃত্যুও একটা টার্নিং পয়েন্ট। এর মধ্য দিয়ে আমাদের সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবী এবং রাজনীতিবিদরা নতুনভাবে উপলব্ধি করতে শিখুক। ছাত্ররাজনীতির নামে যে অপরাজনীতি চলছিল, তা বন্ধ হোক। আমি মোটেই ছাত্ররাজনীতি বন্ধের পক্ষে নই। ছাত্ররাজনীতির যাতে একটা মহৎ উদ্দেশ্য এবং আদর্শ থাকে, সেটাই আমি চাই। ছাত্ররাজনীতি যেন মানবিক বোধসম্পন্ন দেশপ্রেমিক মানুষ গড়ে তোলার পাথেয় হয়, সেটাই আমি চাই।

দেশ রূপান্তর : আমরা সম্প্রতি দেখতে পাচ্ছি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে র‌্যাগিংয়ের নাম করে শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। এই র‌্যাগিং তো ছাত্ররাজনীতি ছাড়াও হয়। র‌্যাগিং সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?
মাহফুজা খানম : র‌্যাগিং একটা বিদেশি সংস্কৃতি। শুধু পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত নয়, পৃথিবীর বহু দেশের বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই সংস্কৃতি চালু আছে। বিশ্ব শিক্ষক ফেডারেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করার জন্য আমি এই র‌্যাগিং সম্পর্কে অবহিত ছিলাম। আমি অনেক কাহিনী জানি। এমনকি র‌্যাগিংয়ের কারণে অনেক জায়গায় মৃত্যুর খবরও আমি শুনেছি। এটা কোনো সুস্থ সংস্কৃতি নয়। বিশ্ববিদ্যালয় তো মানবিক বোধসম্পন্ন মানুষ তৈরি করার জায়গা। সেখানে একজন সিনিয়র ছাত্র জুনিয়রের প্রতি অমানবিক আচরণ করবে, তা কখনই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এটা অচিরেই বন্ধ হওয়া উচিত।

দেশ রূপান্তর : বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েটে সাংগঠনিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।  আপনার মতে সংগঠন ছাড়া রাজনীতি কি সম্ভব?
মাহফুজা খানম : সংগঠন তো থাকতেই হবে। সংগঠন ছাড়া রাজনীতি সম্ভব নয়। তবে সংগঠনের আদর্শ এবং উদ্দেশ্য থাকতে হবে। এখন এই উদ্দেশ্য এবং আদর্শকে বাইরে রেখে নাম ব্যবহার করে ছাত্রলীগ বা ছাত্রদল যা করছে সেটা তো গ্রহণযোগ্য নয়। এখন একজন ছাত্রনেতার গাড়ি থাকে আর তাকে অনুসরণ করে মোটরসাইকেলের বহর। তারা এত অর্থ পায় কোথায়? নিশ্চয়ই পৈতৃক সূত্রে নয়। তাই এটা প্রকৃত সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নয়। সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের তো একটা উদ্দেশ্য থাকবে, আদর্শ থাকবে। তাই সাংগঠনিক রাজনীতি বন্ধ কোনো সমাধান নয়। তবে ছাত্রসংগঠনগুলো সরাসরি রাজনৈতিক দলগুলোর নির্দেশনায় চলবে, তাদের রাজনীতি বাস্তবায়িত করবে কি না এই বিষয়টা নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। আমাদের রাজনীতিবিদদের ভাবতে হবে কোন নতুন প্রজন্মের হাতে আমরা নেতৃত্ব ছেড়ে দিতে যাচ্ছি? এক্ষেত্রে নিজেদের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। কেননা এই ছেলেগুলো তো জন্ম থেকেই এরকম ছিল না। তাদের তো আমরাই তৈরি করেছি। তাই সুস্থ ধারার রাজনীতি প্রতিষ্ঠার ব্রত নিতে হবে। এটাই তো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। এ জন্যই তো ৩০ লাখ শহীদ আত্মত্যাগ করেছিল।

দেশ রূপান্তর : ছাত্রসংসদ নির্বাচন কি অরাজনৈতিকভাবে অনুষ্ঠিত হওয়া সম্ভব?
মাহফুজা খানম : আমরা ছাত্ররাজনীতির নামে অপরাজনীতি চালু করেছি। কতটা প্রশ্রয় পেলে এটা সম্ভব! গ্রাম্য ভাষায়, ঘুড়ি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, কতটা উড়তে পারে তা দেখা যাক না। এখন উড়তে উড়তে কোন পর্যায়ে গেলে মানুষ এরকম দানব হতে পারে! প্রশাসন কেন চোখ বন্ধ করেছিল? শুধু আবরারের ঘটনা আমরা জানতে পেরেছি। তাও সিসি টিভির ক্যামেরায় দেখা গেছে বলে জানতে পেরেছি। এসব ঘটনায় আমার দায় নেই, এটা কেউ বলতে পারব না। আমরা সবাই এ ঘটনায় দায়বদ্ধ। শিক্ষার্থী, অভিভাবক, রাজনীতিবিদ এবং প্রশাসন সকলেরই দায় আছে। আমি মনে করি, ছাত্ররাজনীতি তার নিজস্ব আঙ্গিকে থাকবে। তার আদর্শ, উদ্দেশ্য থাকবে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে লেজুড়বৃত্তির ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করলে দেশের খুব একটা খারাপ হবে না।

দেশ রূপান্তর : ছাত্রলীগ বলছে, ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ হলে বুয়েটে অন্ধকারের শক্তি, সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী গোষ্ঠীর গোপন তৎপরতার শক্তি বৃদ্ধি হবে, যা দেশের জন্য ভালো ফল বয়ে আনবে না।  সংগঠনটির এ আশঙ্কা সত্যি কি না?
মাহফুজা খানম : এক্ষেত্রে সরকারকে নজরদারি করতে হবে। বুয়েট প্রশাসনকে নজরদারি করতে হবে।  পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী হিসেবে আমি জানি, কোনো জায়গা কখনো শূন্য থাকে না। তাই মহৎ উদ্দেশ্য ও আদর্শ দিয়ে এই জায়গা পূরণ না করলে, এই জায়গায় কোনো অপশক্তি চলে আসতে পারে। তখন শক্তির জায়গায় অপশক্তি জায়গা করে নেবে।

দেশ রূপান্তর : অনেকে বুয়েটসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই পরিস্থিতির জন্য শিক্ষক রাজনীতিকে দায়ী করছেন। আপনি কী মনে করেন?
মাহফুজা খানম : শিক্ষকদের তো দায়িত্ব আছে। একজন হল প্রভোস্ট বা হাউজ টিউটরের তো নির্দিষ্ট দায়িত্ব থাকে। তারা কি কেউ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে থাকেন? করলে তো পরিস্থিতি এরকম হতো না। তারা দায়িত্ব পালন না করে ছাত্রনেতাদের তোষামোদি করেছে। তাদের অন্যায়কে দিনের পর দিন প্রশ্রয় দিয়ে গেছে। শিক্ষকদেরও আজ কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। তাদের নিজেদের বিবেকের কাছে প্রশ্ন রাখতে হবে, তারা এতদিন যে অর্থ উপার্জন করে স্ত্রী-সন্তান বা স্বামী-সন্তানদের ভরণপোষণ করেছে, সেটা হালাল কি না? আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছি কি না? দীর্ঘদিন ধরে অর্পিত দায়িত্ব পালন না করায় তো এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষকরা তো কোনোদিন একযোগে বলেননি এরকম সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সংযুক্ত ও অনৈতিকতার ধারক-বাহক শিক্ষার্থীদের আমরা পড়াতে পারব না। এর প্রতিবাদ করে তারা তো পদত্যাগ করেননি। তাদের মধ্যে এই বোধ কি কখনো স্পষ্ট হয়েছে? প্রকৃতঅর্থে, গোটা সমাজটাই দূষিত হয়ে গেছে। এখান থেকে বেরিয়ে আসতে হলে সকলকে একত্রে এই সব অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।

দেশ রূপান্তর : অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্ররাজনীতি ও শিক্ষক রাজনীতি একই রকম কি না? ওই শিক্ষায়তনগুলোতেও বুয়েটের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন কিনা?
মাহফুজা খানম : প্রায়ই একরকম। সেগুলোতেও শিক্ষকরা কখনো নীল দল, আবার কখনো সাদা দলের ব্যানারে রাজনীতি করছে। তারা তাদের চেয়ার রক্ষার্থে ব্যস্ত। অপরাজনীতির আজ্ঞাবহ। প্রকৃতঅর্থে, যে সমাজটি আমরা দেখছি, তার মূল উদ্দেশ্যই অর্থ উপার্জন। সেটা যে কোনো উপায়ে। পৃথিবীতে একসময় দুটি বিশ্ব ছিল। একটি ধনতান্ত্রিক বিশ্ব আর অপরটি সমাজতান্ত্রিক বিশ্ব। এখন সমাজতান্ত্রিক বিশ্ব আর নেই। সর্বত্রই ধনতন্ত্রের জয়জয়কার। আর ধনতন্ত্রে তো মূল্যবোধ, সততা আর বিবেক থাকে না। অর্থই সবকিছুর নিয়ামক। সেই ধনতন্ত্রের ফলই আমরা প্রত্যক্ষ করছি।

দেশ রূপান্তর : ছাত্ররাজনীতিতে তুলনামূলকভাবে নারীর অংশগ্রহণ অনেক কম। আপনি অনেকদিন আগে ডাকসুর ভিপি ছিলেন। এরপরে তো কোনো নারী ভিপি আমরা দেখেনি। বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?
মাহফুজা খানম : এর একটি অন্যতম মূল কারণ নির্বাচন না হওয়া। ২৮ বছর ধরে ডাকসু নির্বাচন হয়নি।  যদি এতদিন ধরে নির্বাচন না হয়, তাহলে কীভাবে নারী নেতৃত্ব আসবে। ২৮ বছর ধরে যে চর্চা ছিল না, সেখানে মেয়েরা তো দূরের কথা, ছেলেরাই রাজনীতিতে আসতে পারেনি। আমাদের সময় থেকে এখনকার নারীরা অনেক এগিয়ে গেছে। প্রযুক্তির কল্যাণে গোটা বিশ্ব তাদের হাতের মুঠোয়। তবে নারীদের কেউ জায়গা তৈরি করে দেবে না, তাদের জায়গা করে নিতে হবে। আশার কথা, আবার ডাকসু নির্বাচন শুরু হয়েছে। আমি মনে করি, কিছু ভুলত্রæটি সত্তে¡ও এই প্রক্রিয়া যেহেতু শুরু হয়েছে, মেয়েরা একসময় এখানে তাদের যথার্থ স্থান খুঁজে নেবে। মেয়েদের মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন হয়ে এগিয়ে আসতে হবে। আর নারীদের অংশগ্রহণ কেন নেই? থাকবে কী করে? দেশের কয়টি রাজনৈতিক দলে সাধারণ সম্পাদক পর্যায়ে বা প্রেসিডিয়ামে নারী কত? রাজনৈতিক দলের সংবিধানে একটা নির্দিষ্ট শতাংশ নারী রাখার কথা থাকলেও কোনো দলে তা প্রতিফলিত হচ্ছে? এমনকি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি বা সিপিবিতেও তো নেই। যারা সবচেয়ে প্রগতিশীল হিসেবে দাবি করে, তাদেরই এই অবস্থা। আমি মনে করি, নারীদের আরও ব্যাপক পরিমাণে প্রত্যক্ষ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা উচিত। এ লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলো নারীদের জন্য কিছু আসন ছেড়ে দিতে পারে। ৩০০ আসনের মধ্যে অন্তত ৫০টি আসন নারীদের জন্য ছেড়ে দিতে পারে।  কিন্তু রাজনৈতিক নেতৃত্ব তো সেই ছাড় দিতে প্রস্তুত নয়। এজন্য দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে হবে।