উপকূলের সংরক্ষিত বন উজাড় করে আবাদি জমি

বন বিভাগের গাছ কেটে তৈরি হচ্ছে আবাদি জমি, বসত ভিটা। কয়েক বছর ধরে এভাবেই উজাড় হচ্ছে পটুয়াখালীর উপক‚লীয় এলাকার সংরক্ষিত বনাঞ্চল। বন ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা দিয়ে দায় সারছে বন বিভাগ।

অপরদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগে যে পরিমাণ সংরক্ষিত বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ওই পরিমাণ বাগান তৈরি করতে পারেনি বন বিভাগ। এ অবস্থায় ‘প্রকৃতির দেয়াল’খ্যাত বনাঞ্চলের এভাবে উজাড় হওয়ায় জীবন ও সম্পদের জন্য বড় ধরনের হুমকিসহ প্রকৃতির এমন নির্বিচার ধ্বংসে শঙ্কিত এলাকাবাসী, পরিবেশবাদীসহ দুর্যোগ বিশেষজ্ঞরা।

পটুয়াখালীর বিস্তীর্ণ উপক‚লজুড়ে বন বিভাগের দেড় লাখ একর জমির মধ্যে প্রায় ৫৫ হাজার ২৮৫ একর জমিতে রয়েছে সংরক্ষিত বনাঞ্চল। এক দশকে ছোট-বড় বেশ কয়েকটি প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপক‚লীয় এসব বনাঞ্চলের হয়েছে ব্যাপক ক্ষতি। সমুদ্রের অব্যাহত বালু ক্ষয়ের ফলে ইতিমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে কুয়াকাটার ঝাউবাগান, ইকোপার্ক, নারকেলবাগান, চর গঙ্গামতি, কাউয়ারচরের বনের অধিকাংশ গাছ। উপক‚লীয় বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের জন্য কেটে ফেলা হয়েছে প্রায় ৩৯ কিমি বেড়িবাঁধের গাছ। এ অবস্থায় স্থানীয় একটি চক্র চরগঙ্গামতি ও কাউয়ারচর বনাঞ্চলের গাছ কেটে কাÐ আগুনে পুড়িয়ে দিচ্ছে মাটিচাপা। এতে দ্রæত কাÐ পচে গিয়ে নিশ্চিহ্ন হচ্ছে গাছের প্রমাণ। আর এভাবেই সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছ কেটে তৈরি করছে আবাদি জমি। প্রভাবশালী এসব বন উজাড়কারী ও জমি দখলকারীর বিরুদ্ধে মুখ খুলতে রাজি নয় এলাকাবাসী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাউয়ারচর ও গঙ্গামতি এলাকার বেশ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, রাতের অন্ধকারে গাছ কেটে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এরপর গাছের কাণ্ড আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মাটি চাপা দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পরে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহায়তায় ওই জমিতে কৃষিকাজ করা হচ্ছে। কেউ বসত ঘর তুলছে। অনেকেই আবার এসব জমির ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে বিভিন্ন ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করছে। 

মহিপুর বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা আবুল কালাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, যারা গঙ্গামতি ও কাউয়ারচর এলাকার বন বিভাগের গাছ কেটেছে তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দেওয়া হয়েছে।  জনবল সংকটের কারণে প্রভাবশালী এসব জমি দখলকারীদের হাত থেকে রক্ষা করা যাচ্ছে না বনাঞ্চল। বিশালায়তনের একটি ফরেস্ট বিট এলাকা দেখভাল করতে হচ্ছে একজন বিট কর্মকর্তাকে। 

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ব বিদ্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক তরিকুল ইসলাম বলেন, একটি দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার জন্য ২৫ শতাংশ বনাঞ্চল থাকা দরকার। এসব বন শুধু ভারসম্য রক্ষা নয় মানুষের জীবন-জীবিকায় গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখছে।

পটুয়াখালী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, যারা বনের গাছ কাটছেন বা ধ্বংস করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া জেলা প্রশাসনের সহায়তায় বন বিভাগের দখল হওয়া জমি উদ্ধারে দ্রæত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।