বিএনপি ইস্যু খুঁজছে : কাদের

যুবলীগের বয়সসীমা নিয়ে গণভবনে আলোচনা রবিবার

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা করেই দলের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের নতুন কমিটির নেতাদের বয়সসীমা ঠিক করা হবে বলে জানিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, এ নিয়ে রবিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গণভবনে সংগঠনটির প্রেসিডিয়াম বৈঠকে আলোচনা হবে। কোন বয়স পর্যন্ত যুবলীগ করা যাবে, সেসব আলোচনা রবিবারের সভাতেই করা হবে।

গতকাল শুক্রবার সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে রাজধানীর বনানীতে তার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

প্রতিষ্ঠার সময় ৪০ বছর বয়সীরা যুবলীগের নেতৃত্ব দিতে পারবেন এমন বিধান ছিল গঠনতন্ত্রে। কিন্তু ১৯৭৮ সালের দ্বিতীয় কংগ্রেসের পর বিধানটি বিলুপ্ত করা হয়। ষষ্ঠ জাতীয় কংগ্রেসে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন ৬৪ বছর বয়সী ওমর ফারুক চৌধুরী, বর্তমানে তার বয়স ৭১। এ ছাড়া সংগঠনটির সিনিয়র নেতাদের অধিকাংশেরই বয়স ৬০ বছর পার হয়েছে। এই অবস্থায় যুবনেতাদের বয়স কত হবেÑ তা নিয়ে আলোচনা চলছে। আর আগামী ২৩ নভেম্বর যুবলীগের সপ্তম জাতীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হবে। এই কাউন্সিলের বিষয়ে দিকনির্দেশনা নিতে আগামীকাল রবিবার বিকেলে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদের নেতৃত্বে প্রেসিডিয়াম সদস্যরা। এই বৈঠকে যাবেন না সংগঠনটির চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, যুবলীগ নিয়ে রবিবার গণভবনে মিটিং ডেকেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চেয়ারম্যানকে সেখানে ডাকা হয়নি। সেখানে কাকে ডাকবেন আর কাকে ডাকবেন নাÑ সেটা প্রধানমন্ত্রীর বিষয়। পার্টি অফিসে ডাকা হলে আমি বলতে পারতাম। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা যুবলীগকে গণভবনে ডেকেছেন। সেখান থেকে যাদের বলা হয়েছে, তারাই মিটিংয়ে যাবেন।

বিএনপির সমালোচনা করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, কথায় কথায় অভিযোগ করা বিএনপির রোগে পরিণত হয়েছে। অভিযোগ আর নালিশ ছাড়া তাদের (বিএনপি) কিছু করার নেই।  বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্বজ্ঞানহীন সব কর্মকাণ্ডই তারা করেছে। বিএনপি গণতান্ত্রিক ধারার রাজনীতিতে আসুক আমরা সেটা আশা করছি। বিএনপি আন্দোলন ও নির্বাচনে ব্যর্থ মন্তব্য করে তিনি বলেন, তারা এখন শুধু ইস্যু খুঁজে বেড়াচ্ছে। বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডেও ইস্যু খোঁজার চেষ্টা করেছিল। তাদের ইস্যু খুঁজে পাওয়ার রাজনীতিতে জনগণ সাড়া দেবে না।

শেখ রাসেলের হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, মানব সভ্যতার ইতিহাসে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডে কোনো নারী বা অবলা শিশুকে টার্গেট করা হয় না। কিন্তু বাংলাদেশে সব রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ও কারবালার নৃশংস হত্যাকাণ্ডে নারী-শিশু হত্যা করা হয়েছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার সময় ১০ বছরের অবুঝ শিশু রাসেলকেও হত্যা করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মতিয়া চৌধুরী, মাহবুব-উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, হাছান মাহমুদ, এনামুল হক শামীম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আবদুস সোবহান গোলাপ, দেলোয়ার হোসেন, বিপ্লব বড়–য়াসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা। কেন্দ্রীয় কমিটি শহীদ শেখ রাসেলের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, যুব মহিলা লীগ, ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন  সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়।