ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জিনাত শানু স্বাগতা। চলচ্চিত্রে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় শুরু। এরপর চলচ্চিত্র, টেলিভিশন নাটকে কাজ করে দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেন। সম্প্রতি ছোটদের নিয়ে একটি মঞ্চ নাটক নির্দেশনা দিয়েছেন। তার সঙ্গে কথা বলেছেন শাকিল মাহমুদ
অভিনেত্রী হয়ে ওঠা...
জন্মের পর আমি একটা সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে বেড়ে উঠেছি। খেলার বয়সে আবৃত্তি, গান, নাচ, অভিনয় এসবই ছিল সঙ্গী। আমার বাবা খোদাবক্স শানুই মূলত এই পরিবেশটা তৈরি করেছিলেন। ছোটবেলা থেকেই গান গাইতাম। আমাদের বাড়িতে গানের স্কুল ছিল। আমার ইচ্ছেটাও ছিল সংগীতশিল্পী হওয়া। কিন্তু নিয়তি বলে দিল আমাকে অভিনেত্রী হতে হবে। থিয়েটার করতাম ছোটবেলায়। তারপর থেকে সংগীতের পাশাপাশি অভিনয়ে সাধনা শুরু হলো।
শিশুশিল্পী স্বাগতার স্মৃতি...
তখন বয়স ছিল তিন বছর। ওরকম করে কোনো স্মৃতি মনে নেই খুব ভাসা ভাসা। শ্যুটিং হচ্ছিল একটা বাসে। বাসটা থামানো ছিল। কিন্তু যখন হলে সিনেমাটা দেখতে যাই তখন দেখি ওই বাসটা চলছে! এর বেশি আমার কিছু মনে নেই। শ্যুটিং নিয়ে আমার বেশ কৌতূহল ছিল। সেটা আমি যখন ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়ায় পড়তে যাই তখন বুঝতে পারি।
চিত্রনায়িকা হিসেবে অভিষেক...
২০০৬ সালে অকাল প্রয়াত চিত্রনায়ক মান্নার বিপরীতে ‘শত্রু শত্রু খেলা’ সিনেমায় অভিনয় করি। প্রথমে নার্ভাস ছিলাম। তখন সিনেমার একটা অশ্লীল অবস্থা চলছিল। মান্না ভাই তখন আবদুল্লাহ আল মামুন স্যারের একটা সিনেমায় কাজ করছিলেন। সেখানে কোনো এক কথায় মান্না ভাই আমার প্রতি কৌতূহলী হন। আমার আসলে সিনেমাটা করার তেমন আগ্রহ ছিল না। মান্না ভাই অনেক বুঝিয়ে সিনেমায় রাজি করান।
ভালোলাগার জায়গা...
চলচ্চিত্র ও নাটক দুই জায়গাতেই আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। অভিনয়টাকে যদি আমি উপভোগ না করি তাহলে দর্শকও উপভোগ করবে না। আমি যখন সিনেমায় অভিনয় করেছি উপভোগ করেছি। টিভি নাটক, র্যাম্প সবই সমানভাবে উপভোগ করেছি। গান শিখতে সময় দিয়েছি বেশি, তবু এখন পর্যন্ত গান গেয়েছি মাত্র পাঁচটি। কিন্তু উপভোগ করেছি খুব বেশি।
এখনকার ব্যস্ততা...
দুটি সিনেমা করছি এ বছর। বিজ্ঞাপন করেছি বেশ কিছু। আর ছোটদের নিয়ে মঞ্চ নাটকে ডিরেকশন দিয়েছি। টিভি নাটকও করছি বেছে।
সিনেমা বানানোর ইচ্ছে...
বাবার স্বপ্ন ছিল আমি সিনেমা পরিচালনা করব। আমারও খুব ইচ্ছে ছিল। তাই ফিল্ম নিয়ে পড়াশোনা করেছি। তবে এখনো জানি না কবে কাজ শুরু করব। আসলে আগে ভাবতাম সিনেমা পরিচালনা সহজ কাজ। কিন্তু সিনেমা নিয়ে পড়তে গিয়ে বুঝেছি এটা এত সহজ নয়। বিশেষ করে আমার জীবনসঙ্গী একজন সিনেমার মানুষ। সে সিনেমাটোগ্রাফিতে পড়াশোনা করেছে। তার সঙ্গে পরিচয়ের পর থেকে সিনেমা নিয়ে আমি আরও বেশি সচেতন হয়েছি।